যে নুনের উপর সাকিন বা জযম থাকে তাকে নুন সাকিন বলে।
আল-কুরআনকে 'ফুরকান' বলার কারণ হলো- এটি সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। আল-কুরআনের মাধ্যমে জানা যায় কোনটি সঠিক, কোনটি বেঠিক, কোনটি ন্যায় আর কোনটি অন্যায়। কোনটি গ্রহণীয় আর কোনটি পরিত্যাজ্য। অর্থাৎ কুরআন মানুষকে সত্যের পথ প্রদর্শন করে এবং মিথ্যা বা জাহেলিয়াতকে চিহ্নিত করে তা থেকে বাঁচার জন্য আহ্বান জানায়। তাই এর নাম ফুরকান।
হাবিবের কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যে যে বিষয়ের অভাব রয়েছে তাহলো তাজবিদ। শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। তবে এ ফজিলত লাভের জন্য সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। আবার সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করার জন্য তাজবিদের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তাজবিদ অনুসারে কুরআন পাঠ না করা হলে অনেক সময় তা পাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমনটা আমরা লক্ষ করি উদ্দীপকের হাবিবের তিলাওয়াতে।
উদ্দীপকের হাবিব কুরআন তিলাওয়াতে অনেক ভুল করে। সে তাজবিদের বিধান অনুযায়ী কুরআন পাঠ করে না। অথচ তাজবিদ অনুসারে কুরআন তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। তাজবিদ অনুসারে কুরআন না পড়লে পাঠকারী গুনাহগার হবে এবং তার নামাজ শুদ্ধ হবে না। সুতরাং একথা নিশ্চিত যে, উদ্দীপকের হাবিব অজবিদের অনুসরণ ব্যতীত অশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত করেছেন।
হাবিবের পিতার উল্লিখিত আয়াতটি আয়াতুল কুরসি। এটি পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারার ২৫৫নং আয়াত। এ আয়াতের তাৎপর্য অপরিসীম।
আয়াতুল কুরসি পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত বরকতময় আয়াত। এ' আয়াতে আল্লাহ তায়ালার পরিচয়, ক্ষমতা, মহিমা ও গৌরবের কথা খুব স্পষ্ট ও সুন্দর করে বর্ণনা করা হয়েছে। এ আয়াতের ফজিলত প্রসঙ্গে মহানবি বলেন, যে ব্যক্তি প্রভাতে ও শয়নকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে সর্বপ্রকার বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবেন। এ আয়াত পাঠপূর্বক উদ্দীপকের হাবিব সমস্ত বিপদ থেকে মুক্ত থাকতে পারে।
উদ্দীপকের হাবিব আয়াতুল কুরসি পাঠ করার ফলে মহান আল্লাহ তাকে যাবতীয় বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবেন। কেননা এ আয়াতে মহান আল্লাহর পরিচয় ও গুণাবলি প্রকাশিত হয়েছে। এ আয়াতের প্রথমেই বলা হয়েছে আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র ইলাহ। তিনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই। সকল ইবাদত ও প্রশংসা তারই জন্য নির্ধারিত। তিনি চিরকাল ছিলেন এবং থাকবেনও। তাঁর পূর্বাপর কেউ নেই। তিনি সকল কিছুর উর্ধ্বে। সমস্ত আসমান জমিনে যা কিছু আছে সবই তার অনুগত। এককথায় তিনিই সর্বশক্তিমান, সকল শক্তির আধার, মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ।
পরিশেষে বলা যায়, মহান আল্লাহ পাকের যাবতীয় ক্ষমতার পরিচয় আয়াতুল কুরসিতে পাওয়া যায়; যা হাবিব পাঠ করে বুঝতে পারবে মহান আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করবেন।
Related Question
View All'ইলমুল আহকাম্' হলো বিধিবিধান সম্পর্কিত জ্ঞান।
লাইলাতুল কদর বা কদর রাত অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত রাত। আল্লাহ তায়ালা এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। এ রাতের ইবাদত হাজার মাস একাধারে ইবাদত করার চাইতে উত্তম। আমাদের আয়ুষ্কাল খুবই সীমিত। এ অবস্থায় এ রাতে ইবাদত করলে আমাদের নেকির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এটি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামতস্বরূপ। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে রহমত, বরকত ও শান্তির সওগাত দিয়ে প্রেরণ করেন। এ রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুখ-শান্তি ও রহমত বিরাজ করতে থাকে।
মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংসের তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
সূরা যিলযালে কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের অভিনব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যখন সমগ্র দুনিয়া ধ্বংস করে দেবেন তখন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। কবর থেকে মানুষ বের হয়ে আসতে থাকবে। সমস্ত মানুষ সেই মহান দিনে নিজ নিজ কৃতকর্মের হিসাব প্রদান করতে থাকবে। প্রত্যেকে দুনিয়াতে করা তার প্রতিটি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পাপপুণ্যের হিসাব দিতে থাকবে এবং তা অনুযায়ী প্রতিদানস্বরূপ পুরষ্কার অথবা তিরষ্কারে ভূষিত হবে। উক্ত অবস্থার সাথে মুহিবের দাদার বক্তব্যের মিল রয়েছে। তিনি বলেছেন, "কোনো এক সময় এমন এক ভূমিকম্প সংঘটিত হবে, তখন গাছপালা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে, পাহাড়গুলো তুলোর মতো উড়বে; সব কিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।" সুতরাং বলা যায়, মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংস সংক্রান্ত তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
মুহিবের দাদা 'মুক্তির সনদ' বলতে আল-কুরআনকে বুঝিয়েছেন। কেননা আল-কুরআনই বিশ্ববাসীকে হিদায়েতের সুপথ দেখাতে পারে।
মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সার্বিক দিক ও বিভাগের একটি সুসংহত ও সুসমন্বিত বিধান কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। এ মর্মে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- "এ হচ্ছে সমগ্র মানুষের বিধান, মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ ও পথনির্দেশনা।" (সূরা আলে-ইমরান: ১৩৮) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, "আমি এ কিতাবে কিছুই বর্ণনা করা বাদ রাখিনি।" (সূরা আন-আম ৩৮) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, "হে বিশ্বমানবতা তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যা আছে তার প্রতিকার এবং বিশ্ববাসীদের জন্য পথনির্দেশস্বরূপ।" (সূরা ইউনুস: ৫৭) তিনি আরও
বলেন, "আমি তোমার প্রতি (হে মুহাম্মদ) এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা আত্মসমর্পণকারীগণের জন্য সবকিছুর বিশদ বিবরণ সুস্পষ্ট পথনির্দেশক ও সুসংবাদ।" (সূরা আন-নাহল: ৮৯) আল্লাহ তায়ালা আরও বর্ণনা করেন- "এ কিতাব এটি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষদেরকে তাদের পালনকর্তা নির্দেশক্রমে বের করে নিয়ে আসতে পারে অন্ধকার থেকে আলোকময় জীবনে, তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসিত।" (সূরা ইবরাহিম: ১) উদ্দীপকের মুহিবের এক প্রশ্নের জবাবে তার দাদা বলেন, আমাদেরকে মুক্তির সনদ হিসেবে যে নির্ভুল গ্রন্থটি দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করা উচিত।
অতএব উক্ত আলোচনা হতে বোঝা যায়, আল-কুরআনই বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ। তাই এ গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম।
আবাবিল এক ধরনের ছোট ছোট পাখি। যা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলে।
আয়াতুল কুরসি অত্যন্ত বরকতময় আয়াত। রাসুল (স.) এ আয়াতকে সবচেয়ে উত্তম আয়াত বলে অভিহিত করেছেন। নবি (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য বেহেশতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাধা থাকে না। (নাসাই) অর্থাৎ মৃত্যুর সাথে সাথেই সে বেহেশতের আরাম-আয়েশ উপভোগ করতে শুরু করবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!