হাবিব সাহেব তার ছেলে লাবিবকে নিয়ে জুমআর সালাত আদায় করতে মসজিদে প্রবেশ করলেন। খতিব সাহেব তার বক্তৃতায় রিসালাত সম্পর্কে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বললেন। বাসায় ফিরে লাবিব তার বাবাকে বললেন, আমি রিসালাত সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পারি নি, তুমি আমাকে বিস্তারিত বল। হাবিব সাহেব রিসালাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ছেলেকে বোঝালেন এবং বললেন, "রিসালাতে বিশ্বাস না করলে কোনো বিশ্বাসই পূর্ণ হয় না।"

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

রিসালাত' শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি, সংবাদ বা কোনো শুভ কর্মের দায়িত্ব বহন করা।

উত্তরঃ

যে ব্যক্তি নবুয়ত ও রিসালাতের শিক্ষানুসারে জীবনযাপন করে সেই পরিপূর্ণ মানুষ। এরূপ ব্যক্তি মানবিক সমস্ত গুণাবলির অধিকারী হয়। পশুত্বের অভ্যাস ত্যাগ করে মনুষ্যত্বের অভ্যাস অনুশীলন করে। নবুয়ত ও রিসালাতের চেতনা মানুষের মধ্যকার সমস্ত খারাপ অভ্যাস, অশ্লীলতা ও মন্দকর্মের চর্চা দূর করে দেয়। মানুষ সৎ ও সুন্দর জীবনযাপনে উৎসাহিত হয়।

উত্তরঃ

লাবিবকে তার বাবা রিসালাত বিষয়ে বোঝাতে রিসালাতের সামগ্রিক দিক তুলে ধরবেন।
রাসুলের দায়িত্ব বা পদকে রিসালাত বলে। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ পাকের পবিত্র বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে রিসালাত বলে। তাওহিদে বিশ্বাস করা যেমন জরুরি, রিসালাতে বিশ্বাস করাও তেমনি জরুরি। রিসালাতে বিশ্বাস না করলে আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করা হয়। আল্লাহর বাণী অবিশ্বাস করলে আল্লাহকেই অবিশ্বাস করা হয়। সুতরাং রিসালাতে বিশ্বাস করা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কালিমা তায়্যিবাতে لَكِلَهُ إِلَّا اللَّهُ দ্বারা তাওহিদের ঘোষণা করা হয়েছে এবং مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللَّهِ দ্বারা রিসালাতের ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের সব কাজকর্মেরই উদ্দেশ্য থাকে। আল্লাহ পারুও উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কাজ করেন না। তিনি পৃথিবীতে অসংখ্য নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন, তার পিছনেও মহৎ উদ্দেশ্য আছে। আর তা হচ্ছে মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। হিদায়েত, তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করা।
সুতরাং হাবিব সাহেব তার ছেলে লাবিবকে রিসালাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার মাধ্যমে তাকে বোঝাতে পারেন

উত্তরঃ

হাবিব সাহেবের উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের জন্য প্রয়োজন তাঁর সত্তা এবং গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নিজের চেষ্টায় এ কঠিন জ্ঞানলাভ করার দায়িত্ব দেননি। তিনি রিসালাতের মাধ্যমে মানুষকে এ জ্ঞান দিয়েছেন। আখিরাত সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞানদানের জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। কোনো জাতি যখন পাপাচারে লিপ্ত হয়, আল্লাহকে ভুলে যায়, তাদের অন্যায়-অত্যাচারে পৃথিবীতে ধ্বংসলীলা নেমে আসে, বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তখন সমাজের এ দুর্দিনে প্রয়োজন হয় রাসুলের। আল্লাহর সকল নবি মানুষকে সরল ও সঠিক পথের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। সকল নবিই ন্যায়, ইনসাফ, সততা ইত্যাদি মানবিক সৎ গুণাবলি অর্জন করার শিক্ষা দিয়েছেন এবং শিরক, কুফর, নিফাক ইত্যাদি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। রিসালাত আল্লাহ ও বান্দার মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করে। সকল বিধিবিধান বান্দা রিসালাতের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। যুগে যুগে রিসালাতের মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে তাদের জীবনব্যবস্থা, সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাবিব সাহেব রিসালাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ছেলেকে বোঝালেন এবং বললেন, "রিসালাতে বিশ্বাস না করলে কোনো বিশ্বাসই পূর্ণ হয় না।"
পরিশেষে বলা যায়, রিসালাতে বিশ্বাস ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুতরাং রিসালাতের প্রতি ইমান আনা তাওহিদের প্রতি ইমান আনার মতোই অপরিহার্য। রিসালাতে বিশ্বাস না করলে কোনো বিশ্বাসই পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয় না। সুতরাং হাবিব সাহেবের আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ।

121

আকাইদ শব্দটি বহুবচন। এর একবচন হলো আকিদাহ। আকিদাহ অর্থ বিশ্বাস। আর আকাইদ শব্দের অর্থ বিশ্বাসমালা। ইসলামের সর্বপ্রথম বিষয় হলো আকাইদ। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর উপর মনে প্রাণে বিশ্বাস করাকেই আকাইদ বলা হয়। আকাইদের সবগুলো বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করলে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, আসমানি কিতাব, ফেরেশতা, তাকদির ইত্যাদির উপর বিশ্বাস স্থাপন করার নাম আকাইদ। যে এসব বিষয়ে বিশ্বাস করে, সে-ই ইসলামে প্রবেশকারী বা মুসলিম।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • তাওহিদের স্বরূপ, গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • কুফরের পরিচয়, কুফল ও পরিণতি বর্ণনা করতে পারব।
  • শিরকের পরিচয়, কুফল ও পরিণতি বর্ণনা করতে পারব।
  • বাস্তব জীবনে কুফর ও শিরক পরিহার করার উপায়সমূহ বলতে পারব।
  • ইমান মুফাস্সাল (ইমানের বিস্তারিত পরিচয়) অর্থসহ শুদ্ধভাবে পড়তে, বলতে এবং এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • আল্লাহর কয়েকটি গুণবাচক নাম ও এসবের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • আল্লাহর গুণবাচক নাম সম্পর্কিত গুণসমূহ নিজ আচরণে প্রতিফলনের উপায় বর্ণনা করতে পারব।
  • রিসালাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব।
  • ওহির পরিচয় ও এর উপর বিশ্বাস স্থাপনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব এবং সিরাত ও মিযানের পরিচয় বর্ণনা করতে পারব।
  • আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে নৈতিক জীবনযাপনের উপায় বলতে পারব।
  • নৈতিক জীবনযাপনে তাওহিদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

তাওহিদ হলো মহান আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা।

223
উত্তরঃ

আখিরাতে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুনিয়ার জীবনই মানুষের শেষ নয়। বরং আখিরাতের জীবনও রয়েছে। মৃত্যুর পরপরই এ জীবনের শুরু। মানুষ সেখানে দুনিয়ার ভালো কাজের জন্য জান্নাত লাভ করবে এবং মন্দ কাজের জন্য জাহান্নাম পাবে। আখিরাতে অবিশ্বাস করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। তাই আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। আর এজন্যই মুত্তাকি আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।

327
উত্তরঃ

নামাযের প্রতি রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।

আমরা জানি, আল্লাহ তায়ালা ও ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের কোনো একটির অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। যেমন- ইসলামের মৌলিক ও ফরজ ইবাদতগুলোকে অস্বীকার করা কুফর। নামায যেহেতু ইসলামের একটি মৌলিক ও ফরজ ইবাদত সেহেতু এটি অস্বীকার করা কুফরি।

উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা জানতে পারি যে, সমাজপতি রাজা মিয়া তার প্রকল্পে কর্মরত জনাব ফরিদ উদ্দিনকে নামায পড়তে নিষেধ করে বলেন, নামায আবার কিসের জন্য, কাজ কর তাহলেই সুখ পাবে। এজন্য রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।

303
উত্তরঃ

আখিরাতে বিশ্বাস ফরিদ উদ্দিনকে নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
দুনিয়াতে যে ব্যক্তি ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে সে আখিরাতে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। তাঁর আবাসস্থল হবে চিরশান্তির জান্নাত। অন্যদিকে যে ব্যক্তি ইমান আনবে না এবং অন্যায় ও খারাপ কাজ করবে সে আখিরাতে শাস্তি ভোগ করবে। সর্বোপরি আখিরাতে বিশ্বাস করলে মানবজীবন সুন্দর হয়। মানুষ উত্তম চরিত্রবান হিসেবে গড়ে ওঠে। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সবধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সৎ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
ফরিদ উদ্দিন বিশ্বাস করে যে, দুনিয়া হলো আমল করার স্থান। আখিরাত হলো ফলভোগের স্থান। আখিরাতে মানুষ কোনো আমল করতে পারবে না। বরং দুনিয়াতে মানুষ যেরূপ আমল করেছে সেরূপ ফল ভোগ করবে।
সুতরাং বলা যায়, যে মূল বিশ্বাসের ফলে ফরিদ উদ্দিন নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল, সেটি হলো আখিরাতে বিশ্বাস।

251
উত্তরঃ

আসমাউল হুসনা' অর্থ সুন্দর নামসমূহ। আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নামসমূহকেই 'আসমাউল হুসনা' বলা হয়।

265
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা অতুলনীয়। তাঁর সত্তা যেমন অনাদি ও অনন্ত, তাঁর গুণাবলিও তেমনি অনাদি ও অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সকল গুণের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালার এসব গুণ নানা শব্দে নানা উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়। এসব গুণের প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক নাম রয়েছে। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, দয়াবান, ক্ষমাশীল, শান্তিদাতা ও পরাক্রমশালী। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান; তিনিই মালিক। এ প্রসঙ্গেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে এবং বলা হয়েছে "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।"

246
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews