ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায় এবং পাখনার সাহায্যে পানিতে চলাচল করে এমন শীতল রক্তবিশিষ্ট জলজ প্রাণীকে মৎস্য বলে।
কৃষি কল সেন্টার একটি সেবা প্রদানকারী মাধ্যম যা মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে ফোনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে কল সেন্টারের নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন দিয়ে কৃষক কৃষি বিশেষজ্ঞদের সাথে সরাসরি কথা বলে কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান জানতে পারে। এছাড়াও কৃষক পেতে পারে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, বন, পরিবেশ, পুষ্টি বিষয়ক যে কোনো সময়োপযোগী পরামর্শ। অর্থাৎ কল সেন্টারে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কৃষকদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। নিম্নে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো-
i. গবাদিপশু ও পাখির জাতের উন্নয়ন ঘটানো। উদাহরণস্বরূপ, BLRI লেয়ার-২ বা স্বর্ণা জাতটির কথা বলা যায়। এ জাতটি অধিক ডিম উৎপাদনে সক্ষম।
ii. গবাদিপশু ও পাখির চিকিৎসা, খাদ্য ও পালন ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করা।
iii. বিভিন্ন রোগের টিকা উৎপাদন ও বিতরণ করা।
iv. প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নত ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা। যেমন: গরু মোটাতাজাকরণ, হিমায়িত ও তরল সিমেন ব্যবহারের মাধ্যমে গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন ঘটানো।
V. খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করা।
vi. বুক, ফ্লোল্ডার, লিফলেট এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য প্রকাশ করা।
উদ্দীপকের হালিমা তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য গবাদিপশু ও পোল্ট্রির খামার করে। বর্তমানে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে হাঁস-মুরগির খামার দ্রুত বাড়ছে। পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামার পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটায়। আবার গবাদিপশু পালনের মধ্যে রয়েছে গরু মোটাতাজাকরণ ও দুগ্ধখামার প্রতিষ্ঠা। এতে আমাদের দেশের গ্রামের গরিব জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি দুধ থেকে তৈরি প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।
এছাড়াও গবাদিপশুর গোবর ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা কৃষি জমিতে জৈব সার হিসেবে এবং জলাশয়ে মাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গবাদিপশুর গোবর ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা দ্বারা বায়োগ্যাস উৎপাদন করা যায়, যা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। গ্রামের অসংখ্য বেকার যুবক ও গৃহিণীরা তাদের অবসর সময় খামারে দিতে পারছে। এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হচ্ছে, পাশাপাশি পরিবারের অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্থা হচ্ছে। ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে হালিমার গৃহীত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allবঙ্গোপসাগরে ও উপকূলীয় এলাকায় অর্থাৎ লোনা পানিতে যেসব মাছ বাস করে সেগুলোকে লোনা পানির মাছ বলে।
মাটির গুণগতমান উন্নয়নের জন্য গাছে ফুল আসার পূর্বে লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদ চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে যে সার তৈরি করা হয় তাকে সবুজ সার বলে।
ধৈঞ্চা ও শনপাট জমিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ যোগ করে। ধৈঞ্চা গাছের শিকড়ে নডিউল সৃষ্টি হয় যা মিথোজীবী প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে ফসলের গ্রহণোপযোগী করে তোলে। তাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ধৈঞ্চা ও শনপাটকে জমিতে সবুজ সার হিসেবে উৎপাদন করা হয়।
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত ফসল হলো মাঠ ফসল। যে সকল ফসল সাধারণত উন্মুক্ত মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য হলো-
i. সাধারণত বড় জমিতে চাষ করা হয়।
ii. মাঠের সমস্ত ফসলকে একত্রে বা সমষ্টিগতভাবে যত্ন নেওয়া হয়।
iii. তুলনামূলকভাবে কম যত্নের প্রয়োজন হয়।
iv. মাঠের সমস্ত ফসল একত্রে পরিপক্ক হয় বলে একত্রে সংগ্রহ করতে হয় (ব্যতিক্রম- তুলা)।
v. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না (ব্যতিক্রম- রাস্তার পাশের জমি)।
vi. মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকে।
vii. সেচ না দিয়েও অনেক ফসল চাষ করা যায়।
viii. একবর্ষজীবী ফসল (ব্যতিক্রম- চা)।
ix. নিচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চাষ করা হয়।
Χ. ফসলের উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি বেশি।
xi. ফসল শুকিয়ে মাড়াই করে ব্যবহার করা হয় (ব্যতিক্রম- পাট, আখ ইত্যাদি)।
xii. আকারে খাটো ও ছোট হয় (ব্যতিক্রম- আখ, পাট, ভুট্টা ইত্যাদি)।
অর্থাৎ মাঠ ফসলের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে কৃষি শিক্ষকের বর্ণিত বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, গবাদিপশু, পোল্ট্রি, সামাজিক বনায়ন ও মৎস্য।
বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে সম্পর্কিত। কৃষি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার প্রসার ঘটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করে। নিচে বাংলাদেশের মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রায় উপরে বর্ণিত উপাদানসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
i. খাদ্যের সিংহভাগ আসে কৃষি হতে। যেমন- চাল, ডাল, গম, শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি।
ii. কৃষি হলো বস্ত্র তৈরির প্রধান কাঁচামালের উপাদান যেমন- পাট, তুলা, রেশম ইত্যাদির উৎস।
iii. গৃহ নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন- কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপাতা প্রভৃতির উৎস হলো কৃষি। আসবাব তৈরির মূল উপকরণ আসে বন হতে।
iv. বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, মরফিন, কোকেন এবং রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ভিদ হতে প্রস্তুত করা হয়।
V. শিক্ষার উপকরণ যেমন- কাগজ, পেন্সিল ইত্যাদি আসে কৃষির উপাদান হতে।
vi. জ্বালানি হিসেবে বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা ইত্যাদি গৃহস্থালির কাজে ও ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি হতে আসে।
vii. এ দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৪০.৬ ভাগ কৃষি হতে আসে।
viii. বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ১১% কৃষিজ পণ্য রপ্তানির ফলে আসে।
ix. মাছের চর্বি, কাঁটা, হাড় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবৃহত হয়।
x. মাছের কাঁটা, আঁইশ, বিষাক্ত মাছ ইত্যাদি শুকিয়ে গুঁড়া করে সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করলে ফসফরাসের অভাব দূর করা যায়।
অতএব, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় উদ্দীপকের উপাদানসমূহের গুরুত্ব অনেক।
ই-বুক হলো এক ধরনের ইন্টারএকটিভ ডিজিটাল বই যাতে কোনো বিষয়ে টেক্সট কনটেন্টের সাথে অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদিও সমন্বিত আকারে থাকে।
স্বল্প পরিসরে প্রতিটি উদ্ভিদের আলাদা যত্ন করার মাধ্যমে বাগানে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে উদ্যান ফসল বলে। ফুল, ফল, শাকসবজি ও মসলাজাতীয় ফসল উদ্যান ফসলের অন্তর্ভূক্ত। সাধারণত বসতবাড়ি সংলগ্ন উঁচু জমিতে উদ্যান ফসলের আবাদ করা হয়। আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উদ্যান ফসল থেকে। উদ্যান ফসল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!