হাশরের দিন খোদা বলিবেন, 'হে আদম সন্তান, 

আমি চেয়েছিনু ক্ষুধায় অন্ন, তুমি কর নাই দান।' 

মানুষ বলিবে, 'তুমি জগতের প্রভু,

আমরা তোমারে কেমনে খাওয়াব, সে কাজ কি হয় প্রভু?' 

বলিবেন খোদা, 'ক্ষুধিত বান্দা গিয়েছিল তব দ্বারে

মোর কাছে ফিরে পেতে তাহা যদি খাওয়াইতে তারে।'

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

'মানুষ' কবিতায় কবি কালাপাহাড়কে আহ্বান জানিয়েছেন যারা পবিত্র উপাসনালয়ের দরজা বন্ধ করে তাদের ধ্বংস করার জন্য।

উত্তরঃ

'তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি।'- চরণটি দ্বারা কিছু ভণ্ড ব্যক্তির সেবকের মুখোশ পরে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করাকে বোঝানো হয়েছে।

সৃষ্টিকর্তার কাছে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই, সব মানুষ সমান। অথচ ধার্মিকের লেবাসধারী ভন্ডরা এই সত্যটি ভুলে গিয়ে উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলে। সেখানে তারা ধর্মচর্চার নামে ভণ্ডামি করে কে মানবতা উপেক্ষা করে। এ সত্যটিকে তুলে ধরে কবি আক্ষেপ করে বলেছেন যে, মসজিদ-মন্দিরে মানুষের দাবি নেই। সেখানে কেবল ধর্মের লেবাস পরে ভন্ডরা তাদের স্বার্থ হাসিল করে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের 'আদম সন্তান' 'মানুষ' কবিতার মোল্লা-পুরোহিত চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

ধর্ম মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল করে, মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। সব ধর্মের মানুষেরই নিজ ধর্মের প্রতি দুর্বলতা থাকে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে। তারা মিথ্যা বলে এবং মানবতাকে অস্বীকার করে।

উদ্দীপকে আদম সন্তানের কথা বলা হয়েছে। এ আদম সন্তান আত্মস্বার্থে মগ্ন থাকে। সে ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করে না। অথচ ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করলে, তাকে খাওয়ালে স্রষ্টার সেবা করা হয়। এতে হাশরের দিনে খোদা খুশি হতেন। 'মানুষ' কবিতায় মোল্লা ও পুরোহিত দুজনই স্বার্থপর, কপট ও অমানবিক। তারা শুধু ধর্মগ্রন্থ ও উপাসনালয়কে সামনে রেখে অন্যায় করে। স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে অবহেলা করেছে। ক্ষুধায় কাতর পথিককে ক্ষুধার অন্ন দান করেনি। তাই বলা যায় যে, অমানবিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের 'আদম সন্তান' 'মানুষ' কবিতার মোল্লা-পুরোহিত চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'মানুষ' কবিতার মূলভাবের ধারক।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

জাতি, ধর্ম, বর্ণের ঊর্ধ্বে হলো মানুষ। অথচ কিছু মানুষ আছে যারা ধর্মকে আশ্রয় করে মানবতাকে ভুলুণ্ঠিত করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে। তারা ধর্ম ও মানবতার শত্রু।

উদ্দীপকের কবিতাংশে আদম সন্তানের অমানবিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আদম সন্তান আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে মানবিকতাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে মানবসেবার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের কথা বলা হয়েছে। কবি বলেছেন মানবসেবার মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়া যায়। 'মানুষ' কবিতার মোল্লা ও পুরোহিতও স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য উপাসনালয় আঁকড়ে ধরেছে। তারা আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে ক্ষুধার্ত পথিককে ফিরিয়ে দেয়। অথচ তারা বোঝে না যে, মানুষের মাঝেই স্রষ্টার বাস।

উদ্দীপক ও 'মানুষ' কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কথা প্রকাশ পেয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষকে বড় করে দেখানো হয়েছে। মানুষের চেয়ে বড় অন্য কিছুই হতে পারে না। ধর্মও সেই কথা বলে। এ দিক থেকে উদ্দীপকটি 'মানুষ' কবিতার মূলভাবের ধারক। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

456

                                         গাহি সাম্যের গান -

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান

নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,

সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি ।

                                     ‘পূজারী, দুয়ার খোলো,

ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!”

স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,

দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !

জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কণ্ঠ ক্ষীণ—

ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোলো বাবা, খাইনি তো সাত দিন!”

সহসা বন্ধ হলো মন্দির, ভুখারি ফিরিয়া চলে,

তিমিররাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !

                                       ভুখারি ফুকারি' কয়,

‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!

মসজিদে কাল শিরনি আছিল, – অঢেল গোস্ত রুটি

বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটি কুটি,

এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন

বলে, “বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!'

তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা-'ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,

ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নমাজ পড়িস বেটা?”

ভুখারি কহিল, 'না বাবা!' মোল্লা হাঁকিল-'তা হলে শালা

সোজা পথ দেখ!' গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা ।

                     ভুখারি ফিরিয়া চলে,

                    চলিতে চলিতে বলে-

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,

আমার ক্ষুধার অন্ন তা বলে বন্ধ করনি প্রভু ।

তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি।

মোল্লা পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি !”

কোথা চেঙ্গিস, গজনি মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?

ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার !

খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?

সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা!

                   হায় রে ভজনালয়,

তোমার মিনারে চড়িয়া ভণ্ড গাহে স্বার্থের জয় !
২০২১

Related Question

View All
233
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews