'মানুষ' কবিতায় কবি কালাপাহাড়কে আহ্বান জানিয়েছেন যারা পবিত্র উপাসনালয়ের দরজা বন্ধ করে তাদের ধ্বংস করার জন্য।
'তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি।'- চরণটি দ্বারা কিছু ভণ্ড ব্যক্তির সেবকের মুখোশ পরে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করাকে বোঝানো হয়েছে।
সৃষ্টিকর্তার কাছে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই, সব মানুষ সমান। অথচ ধার্মিকের লেবাসধারী ভন্ডরা এই সত্যটি ভুলে গিয়ে উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলে। সেখানে তারা ধর্মচর্চার নামে ভণ্ডামি করে কে মানবতা উপেক্ষা করে। এ সত্যটিকে তুলে ধরে কবি আক্ষেপ করে বলেছেন যে, মসজিদ-মন্দিরে মানুষের দাবি নেই। সেখানে কেবল ধর্মের লেবাস পরে ভন্ডরা তাদের স্বার্থ হাসিল করে।
উদ্দীপকের 'আদম সন্তান' 'মানুষ' কবিতার মোল্লা-পুরোহিত চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ধর্ম মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল করে, মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। সব ধর্মের মানুষেরই নিজ ধর্মের প্রতি দুর্বলতা থাকে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে। তারা মিথ্যা বলে এবং মানবতাকে অস্বীকার করে।
উদ্দীপকে আদম সন্তানের কথা বলা হয়েছে। এ আদম সন্তান আত্মস্বার্থে মগ্ন থাকে। সে ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করে না। অথচ ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করলে, তাকে খাওয়ালে স্রষ্টার সেবা করা হয়। এতে হাশরের দিনে খোদা খুশি হতেন। 'মানুষ' কবিতায় মোল্লা ও পুরোহিত দুজনই স্বার্থপর, কপট ও অমানবিক। তারা শুধু ধর্মগ্রন্থ ও উপাসনালয়কে সামনে রেখে অন্যায় করে। স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে অবহেলা করেছে। ক্ষুধায় কাতর পথিককে ক্ষুধার অন্ন দান করেনি। তাই বলা যায় যে, অমানবিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের 'আদম সন্তান' 'মানুষ' কবিতার মোল্লা-পুরোহিত চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি 'মানুষ' কবিতার মূলভাবের ধারক।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জাতি, ধর্ম, বর্ণের ঊর্ধ্বে হলো মানুষ। অথচ কিছু মানুষ আছে যারা ধর্মকে আশ্রয় করে মানবতাকে ভুলুণ্ঠিত করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে। তারা ধর্ম ও মানবতার শত্রু।
উদ্দীপকের কবিতাংশে আদম সন্তানের অমানবিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আদম সন্তান আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে মানবিকতাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে মানবসেবার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের কথা বলা হয়েছে। কবি বলেছেন মানবসেবার মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়া যায়। 'মানুষ' কবিতার মোল্লা ও পুরোহিতও স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য উপাসনালয় আঁকড়ে ধরেছে। তারা আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে ক্ষুধার্ত পথিককে ফিরিয়ে দেয়। অথচ তারা বোঝে না যে, মানুষের মাঝেই স্রষ্টার বাস।
উদ্দীপক ও 'মানুষ' কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কথা প্রকাশ পেয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষকে বড় করে দেখানো হয়েছে। মানুষের চেয়ে বড় অন্য কিছুই হতে পারে না। ধর্মও সেই কথা বলে। এ দিক থেকে উদ্দীপকটি 'মানুষ' কবিতার মূলভাবের ধারক। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!