কবজির নাড়ির অবস্থা দেখে রোগ নির্ণয় করাকে বলে নাড়ি পরীক্ষা।
সুখী মানুষটির কাছে কোনো মূল্যবান সম্পদ নেই তাই হাসু যখন তার সোনাদানা, জামা-জুতা চোরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তখন সে প্রাণখোলা হাসি হাসে।
শুধু অর্থ-সম্পদ থাকলেই সুখী হওয়া যায় না। 'সুখী মানুষ' নাটিকার সুখী মানুষটির কোনো অর্থ-সম্পদ নেই, তবুও সে সুখী। সে দিন আনে দিন খায়। হাসু ও রহমত মোড়লের জন্য জামা খুঁজতে গিয়ে সুখী কাঠুরে লোকটির সাক্ষাৎ পায়। সে নিজেকে সুখী মানুষ বলে পরিচয় দেয়। হাসু তার কাছে একলা থাকতে ভয় করে কিনা জানতে চায় এবং বলে চোর এসে যদি তার সোনাদানা, জামা-জুতা নিয়ে যায় তখন সে একলা কী করবে? লোকটি তখন প্রাণখোলা হাসি হাসে। কারণ তার সেসব কিছুই নেই আর তাই কোনোকিছু হারানোর ভয়ও নেই।
'সুখী মানুষ' নাটিকার অন্যায়-অত্যাচারীর ভয়াবহ পরিণতির দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষের সঙ্গে অন্যায় করে, জুলুম করে কোনো মানুষই প্রকৃতভাবে সুখী হতে পারে না। হয়তো সে ধনসম্পত্তির মালিক হতে পারে কিন্তু তাকে তার পাপের ফল একদিন ভোগ করতেই হয়। মানুষের কাছ থেকে নিস্তার পেলেও প্রকৃতি আপন হাতে তাকে শাস্তি দেয়।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যক্তি হাসান সাহেবের কথা বলা হয়েছে। সে আজ কঠিন ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। অর্থের প্রাচুর্য তাকে বাঁচাতে পারছে না। কারণ তিনি জীবনে অনেক পাপ করেছেন। অন্যের জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখল করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আজ সেই পাপের ফল তিনি ভোগ করছেন। 'সুখী মানুষ' নাটিকায়ও এ দিকটি উঠে এসেছে অত্যাচারী মোড়লের শাস্তি ভোগ করার মধ্য দিয়ে। মোড়লও অন্যের জায়গা-জমি, সম্পদ লুট করে ধনী হয়েছে। কিন্তু আজ সে কৃতকর্মের ফল ভোগ করছে। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য গল্পে বর্ণিত অত্যাচারীর ভয়াবহ পরিণতির এই দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের হাসান সাহেবদের মতো মানুষদের চেতনা জাগাতে 'সুখী মানুষ' নাটিকার শিক্ষা যথেষ্ট।
অন্যের ক্ষতি করে কোনোদিন নিজের ভালো করা যায় না। জীবনে প্রকৃত সুখী হতে চাইলে নিজের সঙ্গে অন্যেরও মঙ্গল কামনা করতে হয়। মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে হয়। এসব কাজে আসে আত্মিক প্রশান্তি, যা মানুষকে প্রকৃত সুখী করে।
উদ্দীপকে একজন অত্যাচারীর ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের হাসান সাহেব জোর করে অন্যের জমি দখল করে অঢেল সম্পদের মালিক হলেও আজ তার জীবন বিপন্ন। অর্থের প্রাচুর্য তাকে বাঁচাতে পারছে না। হাসান সাহেবের মতো এসব অত্যাচারী পাপী মানুষের চেতনা জাগাতে 'সুখী মানুষ' নাটিকার শিক্ষণীয় দিকটি যথেষ্ট। কারণ এখানে নাট্যকার অত্যাচারীদের ভয়ংকর পরিণতি তুলে ধরেছেন।
'সুখী মানুষ' নাটিকায় নাট্যকার দেখিয়েছেন অন্যায় ও অনৈতিকভাবে উপার্জিত অর্থ-বিত্তই মানুষের অশান্তির মূল কারণ। বরং সৎপথে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করলেই জীবনে শান্তি মেলে। নাটিকার এই শিক্ষা যদি উদ্দীপকের হাসান সাহেবের মতো মানুষদের মধ্যে থাকত তবে তাদের পরিণতি ভালো হতো। তাই বলা যায়, হাসান সাহেবের মতো মানুষদের চেতনা জাগাতে 'সুখী মানুষ' নাটিকার শিক্ষা যথেষ্ট।
Related Question
View Allআয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করেন তাদের কবিরাজ বলে।
অন্যায়ভাবে হাসুর ও সুবর্ণপুর গ্রামের মানুষের কাছ থেকে সম্পদ লুট করে ধনী হওয়ার কারণে হাসু মোড়লের মৃত্যুকামনা করে।
'সুখী মানুষ' নাটিকায় মোড়ল চরিত্রটির কাজ হলো অন্যের জিনিস লুট করা, ঠকানো, সবকিছু জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। মোড়ল একজন অত্যাচারী। মানুষের কান্না দেখে মোড়ল হাসে। আর হাসু চরিত্রটি সৎ ও সাহসী। অন্যায়কারীর শাস্তি প্রত্যাশায় সে মোড়লের মৃত্যু কামনা করে।
জোবেদ আলীর সঙ্গে 'সুখী মানুষ' নাটিকার সুখী মানুষের সুখের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক পাপ করে। সুখী হওয়ার জন্য নানা রকম অন্যায় করতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু প্রকৃত সুখী হওয়া ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের জোবেদ আলী এলাকার মানুষ অসুস্থ হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার শয্যা ছাড়েন না। অন্যের কোনো সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়ায় তার মন বসে না। তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গাঁয়ের লোক চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে তাকে সুস্থ করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। সবার ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার দিক থেকে সে অত্যন্ত সুখী একজন মানুষ। 'সুখী মানুষ' নাটিকার সুখী মানুষটি সারাদিন বনে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করে যা পায় তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তার কোনো সম্পদ নেই, ফলে চোরের ভয় নেই বলে সে শান্তিতে ঘুমাতে পারে। তার কোনো ভাবনা-চিন্তা নেই, কারও সাথে দ্বন্দ্ব নেই বলে সে-ই প্রকৃত সুখী মানুষ। তাই বলা যায়, জোবেদ আলীর সঙ্গে 'সুখী মানুষ' গল্পের সুখী মানুষটির মিল রয়েছে সুখে থাকার দিক থেকে।
'মোড়ল যদি জোবেদ আলীর মতো হতেন তাহলে তার চিকিৎসার জন্য সুখী মানুষের জামা তালাশ করতে হতো না।'- উক্তিটি যথার্থ।
প্রচুর অর্থ-সম্পদ থাকার পরও অনেকে সুখী হতে পারে না। আবার কারও তা না থেকেও সে সুখী হতে পারে। অন্যের কল্যাণের মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত।
উদ্দীপকের জোবেদ আলী ও 'সুখী মানুষ' নাটিকার মোড়ল দুজন বিপরীত চরিত্রের লোক। জোবেদ আলী সৎ, জনদরদি। জনসেবার মধ্যে তিনি সুখ খুঁজে বেড়ান। আর মোড়ল মিথ্যা বলে, অন্যের সম্পদ গ্রাস করে, মানুষের কান্না শুনে হাসে। সুবর্ণপুরের মানুষ তার অত্যাচারে ক্লান্ত, অবসন্ন।
কেউ যখন সব মানুষের কল্যাণের জন্য নিজেকে সঁপে দেয় তখন স্রষ্টার কাছে এবং ওইসব মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠে, তখন তার সুখ ও শান্তির জন্য সে সবার কাছ থেকে দোয়া-আশীর্বাদ পেয়ে থাকে। আর যখন কেউ অন্যায়-অত্যাচারে অন্যকে কষ্ট দেয়, নিজেকে লোভ-লালসার মধ্যে নিমগ্ন রাখে, তখন কেউ তাকে পছন্দ করে না। তার জন্য সুখ ও শান্তি কামনা করে না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করেন তাদের কবিরাজ বলে।
অন্যায়ভাবে হাসুর ও সুবর্ণপুর গ্রামের মানুষের কাছ থেকে সম্পদ লুট করে ধনী হওয়ার কারণে হাসু মোড়লের মৃত্যুকামনা করে।
'সুখী মানুষ' নাটিকায় মোড়ল চরিত্রটির কাজ হলো অন্যের জিনিস লুট করা, ঠকানো, সবকিছু জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। মোড়ল একজন অত্যাচারী। মানুষের কান্না দেখে মোড়ল হাসে। আর হাসু চরিত্রটি সৎ ও সাহসী। অন্যায়কারীর শাস্তি প্রত্যাশায় সে মোড়লের মৃত্যু কামনা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!