হিন্দুধর্ম ক্লাসে ঈশ্বরের স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিক্ষক বললেন, 'দেবতা, ব্রহ্মা সেই পরম ব্রহ্মেরই রূপ।' আবার জীবের মধ্যে ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, "সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সূর, আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর।" এরপর তিনি রবীন্দ্রনাথের এ কবিতা ভালো করে বুঝিয়ে দিলেন।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের কোনো গুণ বা শক্তি যখন আকাররূপ ধারণ করে সাকার হয়ে ওঠে তখন তাঁকে দেবতা বা দেব-দেবী বলে।

উত্তরঃ

পরমাত্মা' বলতে পরম ব্রহ্মকে বোঝায়। অর্থাৎ, স্বয়ং মহাশক্তিধর অনাদি, অনন্ত ঈশ্বরই হচ্ছেন পরমাত্মা। এ পরমাত্মা যখন মানবদেহে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাঁকে বলা হয়ে থাকে জীবাত্মা। অর্থাৎ, পরমাত্মা নিজেই জীবদেহে আত্মারূপে অবস্থান করেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে শিক্ষকের প্রথম বক্তব্যে ঈশ্বরের স্বরূপ বর্ণিত হয়েছে।
হিন্দুধর্মের বর্ণনানুযায়ী স্রষ্টাকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যেমন- ভগবান, ঈশ্বর, ব্রহ্ম, পরমাত্মা ইত্যাদি। 'ব্রহ্ম' পরম শক্তির আধার। তিনি অনাদি, অনন্ত, অবিনশ্বর। দেবদেবীরা স্বয়ং সেই পরমাত্মার বিভিন্ন রূপ মাত্র। যেমন- সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মা, বিদ্যার দেবী সরস্বতী, ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী, ধ্বংসের দেবতা শিব প্রভৃতি। অর্থাৎ, নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপ হচ্ছেন দেব-দেবী। এজন্য আমরা বলতে পারি "দেবতা, ব্রহ্মা সেই পরম ব্রহ্মেরই রূপ"- উক্তিটি যথার্থ।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে আলোচিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কবিতাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ঈশ্বর অনাদি, অনন্ত ও অবিনশ্বর। তাই কবিগুরু তার কবিতায় বলেছেন, 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'। ঈশ্বর যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে 'জীবাত্মা' বলা হয়। অর্থাৎ, দেহের সীমায় জীবাত্মারূপে পরমাত্মা বা ঈশ্বর বিদ্যমান থাকেন। ঈশ্বর অনেক রূপ ধারণ করে আমাদের সম্মুখেই আছেন। এ বহুরূপ বলতে এখানে মূলত জীবকেই নির্দেশ করা হয়েছে। ঈশ্বর নিরাকার হলেও যেকোনো সময় তিনি সাকার রূপ ধারণ করতে পারেন। যেমন অবতার, দেব-দেবী ও জীব। এসব সাকার রূপ আলাদা কিছুই নয়। বরং একই ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রকাশ মাত্র।

132

এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল প্রাণী ও বস্তুর একজন স্রষ্টা রয়েছেন। যাঁকে আমরা সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলি। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি নিরাকার, তবে তিনি সাকার রূপও ধারণ করতে পারেন। যেমন- অবতার, দেব-দেবী প্রভৃতি তাঁর সাকার রূপ। এ অধ্যায়ে স্রষ্টা এবং ঈশ্বর শব্দের অর্থ, ঈশ্বরের স্বরূপ এবং ঈশ্বরের একত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • স্রষ্টা এবং ঈশ্বর শব্দ দুটির অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বরের নিরাকার ও সাকার সম্পর্কিত ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বরের সাকার রূপের বর্ণনা করতে পারব
  • ঈশ্বরের একত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বরের স্বরূপ সম্পর্কে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একটি সহজ সংস্কৃত শ্লোক সরলার্থসহ বলতে পারব এবং ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বরের বিভিন্ন সাকার রূপের মধ্যে ঈশ্বরের একত্ব উপলব্ধি করে তাঁর উপাসনায় উদ্বুদ্ধ হব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

'ঈশ্বর' শব্দটির অর্থ হচ্ছে প্রভু। তিনি শৃঙ্খলার সাথে জীব ও জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তিনি সকল শক্তি ও গুণের আধার। তিনি জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। তিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও পালনের একমাত্র কর্তা। তিনিই মৃত্যুর সীমায় জীবনকে বেঁধে দিয়েছেন। এভাবেই তিনি জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন।

347
উত্তরঃ

অনিতা রানি ও শিলাদেবীর আরাধনায় ঈশ্বরের সাকার রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্বব্রহ্মান্ডের সকল প্রাণীর একজন স্রষ্টা রয়েছেন। যাঁকে আমরা সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলি। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি নিরাকার তবে সাকার রূপও ধারণ করতে পারেন। ঈশ্বরের কোনো গুণ বা শক্তি যখন রূপ বা আকার ধারণ করে সাকার হয়ে ওঠে এবং বিশেষ গুণ, শক্তি বা মহিমা প্রকাশ করে তখন তাঁকে দেবতা বা দেব-দেবী বলা হয়। অর্থাৎ দেব-দেবী ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা শক্তির সাকার রূপ। উদ্দীপকের অনিতা ও শিলাদেবী দুজনেই ঈশ্বরের সাকার রূপকেই পূজা করে। তারা মনে করে দেব-দেবীরা যেহেতু ঈশ্বরের অংশ, তাই তাদের সন্তুষ্ট করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন।

218
উত্তরঃ

অনিতা রানি ও শিলা দেবী দুজনেই তাদের পরিবারের সুখ-শান্তির জন্য পূজা করে থাকেন।
অনিতা রানি তার গৃহে লক্ষ্মীদেবীর বিগ্রহ স্থাপন করে নিয়মিত তার আরাধনা করেন। লক্ষ্মীদেবী হচ্ছেন ঈশ্বরের সাকার রূপ। তিনি ধনসম্পদের দেবী। পরিবারের, সচ্ছলতার জন্য তাই তিনি নিয়মিত লক্ষ্মীদেবীর পূজা করেন। তিনি জানেন লক্ষ্মীদেবী যেহেতু ঈশ্বরের অংশ, তাই তাঁকে সন্তুষ্ট করলে ঈশ্বরই সন্তুষ্ট হবেন। অপরদিকে অনিতা রানির প্রতিবেশী শিলাদেবী তার গৃহে গৌর-নিতাই-এর বিগ্রহ স্থাপন করে ভক্তি ভরে তাঁর পূজা করেন। গৌর নিতাই হচ্ছেন ঈশ্বরের অবতার। ঈশ্বর যখন বিশেষ উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে অবতরণ তখন তাকে অবতার বলা হয়। গৌর-নিতাই দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য সর্বদা তৎপর। শিলাদেবী সংসারের নানা অপকর্মের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিয়মিত গৌর-নিতাই-এর পূজা করে থাকেন।

তাই বলা যায়, অনিতা রানি ও শিলাদেবীর আরাধনায় বিগ্রহের ভিন্নতা থাকলেও তারা একই ঈশ্বরের পূজা করছেন কথাটি যথার্থ 'সত্য। কারণ লক্ষ্মীদেবী ও গৌর-নিতাই ঈশ্বরেরই সাকার রূপ। এসব সাকার রূপ আলাদা কিছু নয়। সব সাকার রূপ একই ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রকাশ মাত্র।

179
উত্তরঃ

ঈশ্বর যখন নিজেই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাকে জীবাত্মা বলা হয়।

193
উত্তরঃ

ঈশ্বর হচ্ছেন এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ছাড়া বিশ্বব্রহ্মান্ডে আর কিছু নেই।
দেব-দেবীগণ ঈশ্বরের সাকার রূপ। অনেক দেব-দেবী রয়েছেন। তারা সবাই ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তির প্রতিনিধি। কিন্তু ঈশ্বরের আকার নেই। ঈশ্বর নিরাকার।

239
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews