কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়েছিল মহীপালের বিরুদ্ধে।
বাঙালি জাতির বীজমন্ত্র বলতে 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- এই মানবতাবোধকে বুঝিয়েছেন।
বাঙালি জাতি চিরকালই উদারচেতা। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বাঙালি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। মানুষকে সবার উপরে স্থান দিয়ে তারা মানবধর্ম পালন করে। এক ভূখণ্ডে একাধিক জাতির বসবাস থাকলেও কারও সাথে কারও দ্বন্দ্ব নেই। একজনের বিপদে অন্যজন ঝাঁপিয়ে পড়ে। নানা ধরনের উৎসব-পার্বণ একই সঙ্গে পালন করে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এ জাতি ঐক্যবদ্ধ। ফলে সবার উপরে মানুষের অবস্থান। বাঙালি জাতি মানুষকে সর্বজীবের উপরে স্থান দেওয়াকে বীজমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে আবহমানকাল ধরে একসঙ্গে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে।
উদ্দীপকে 'আমার পরিচয়' কবিতার অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আবহমান বাংলা অভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ঋদ্ধ। বাংলার ভূখণ্ডে নানা জাতি-ধর্মের লোক বাস করে। কিন্তু জাতি-ধর্মের পার্থক্য এখানকার মানুষের জীবনে কোনো দেয়াল তৈরি করেনি। একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বেঁধে তারা জীবন অতিবাহিত করছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি পরিলক্ষিত হয়। কবি এখানে হিন্দু-মুসলমানকে ভারতের দুটি ভাই এবং দেশমাতার দুই চোখের তারা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। গঙ্গা ও সিন্ধু নদীর উৎসমূল যেমন এক হিমালয় তেমনই হিন্দু-মুসলিমও একই বৃন্তের দুটি ফুল। উদ্দীপকের মতো এই অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে 'আমার পরিচয়' কবিতায়। চর্যাপদের মধ্যে বাঙালি জাতিসত্তার যে অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধের পরিচয় পাওয়া যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে এ কবিতায়। যুগে যুগে নানা আন্দোলন, বিপ্লব-বিদ্রোহ আর মতাদর্শের বিকাশ হতে হতে আমরা এসে পৌঁছেছি আজকের বাংলায়। কবিতার এ দিকটির ইঙ্গিত করা হয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে।
উদ্দীপকে 'আমার পরিচয়' কবিতার বাঙালির পরিচয়ের খন্ডাংশের প্রতিফলিন ঘটেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
আবহমান বাংলা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার বৈশিষ্ট্যে ঐতিহ্যমণ্ডিত। বাংলার ভূখন্ডে নানা সম্প্রদায়ের লোক বাস করে। এখানে বংশপরম্পরায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, অভ্যাস, আচার, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিল্প- সাহিত্য তাদেরকে একটি স্বতন্ত্র জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করে।
উদ্দীপকে বাঙালি জাতির অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে। কবি এখানে হিন্দু-মুসলমানকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বেঁধে দেশমাতার চোখের তারা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। 'আমার পরিচয়' কবিতায়ও এই অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। তবে এটিই কবিতার একমাত্র বিষয় নয়। এছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কবিতায় উপস্থাপিত হয়েছে।
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কবি গভীর মমত্বের সঙ্গে চিত্রিত করেছেন এ জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পটভূমি। বাঙালির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে কবি নিজের পরিচয়ের কথা বলেছেন। এ কবিতার এসব বিষয় সম্পূর্ণভাবে উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়নি, শুধু অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়টি ছাড়া। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'আমার পরিচয়' কবিতায় বাঙালির পরিচয়ের খন্ডাংশের প্রতিফলন ঘটেছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!