ঝিঙে ফুল সবুজ পাতার দেশের ফিরোজিয়া ফিঙে কুল।
আলোচ্য চরণে ঝিঙে ফুলের এলোমেলোভাবে ফুটে থাকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ঝিঙে ফুল দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। সবুজ পাতার' মধ্যে তার ফিরোজা রং এক অপূর্ব রূপ সৃষ্টি করে। পৌষের শেষ বেলাতে ঝিঙে ফুলের জাফরানি বেশ মরা মাচানের দেশ মশৃগুল করে রাখে। কিন্তু কখনো কখনো ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্য যেন অবহেলায় পড়ে থাকে। যেমন তপ্ত রোদে সে এলোমেলোভাবে ঘুমিয়ে পড়ে। সূর্যের এমন তাপের মধ্যে ঝিঙে ফুলের ঘুমিয়ে থাকা যেন মানায় না তাকে। কোথায় যেন তার সৌন্দর্যকে আঘাত করে। ঝিঙে ফুলের মোহনীয় সৌন্দর্য অবহেলায় পড়ে থাকা বোঝাতে উক্তিটি করা হয়েছে।
উদ্দীপকের প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনার দিকটি 'ঝিঙে ফুল' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রকৃতিতে রয়েছে অপার সৌন্দর্যের ঘনঘটা। প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের মাঝে লুকিয়ে থাকা এসব সৌন্দর্য অনেক সময় আমাদের অগোচরে থেকে যায়। আবার কবির বর্ণনায় এই সৌন্দর্য হয়ে ওঠে আরও রঙিন ও সুশোভিত।
উদ্দীপকে ফুলের সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। ফুলের সৌন্দর্যে কবি অবাক হয়ে যান, তার অন্তরে আশা জেগে ওঠে। ফাগুন মাসে ফুলের গন্ধে অলি গান গায়। 'ঝিঙে ফুল' কবিতায়ও কবি ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। ঝিঙে ফুলও প্রকৃতির মাঝে এক অপরিমেয় সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। পৌষের বেলাশেষে সবুজ পাতার এ দেশে জাফরান রং নিয়ে ঝিঙে ফুল মাচার উপর ফুটে আছে। এভাবে কবিতায় ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মভাবে মিশে থাকার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি 'ঝিঙে ফুল' কবিতার মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে সমান্তরাল।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
কবির চোখে প্রকৃতির সৌন্দর্যের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। যে সৌন্দর্য অনুধাবনের ক্ষমতা সবার মাঝে থাকে না তা কোনোভাবেই কবির চোখ এড়িয়ে যেতে পারে না। আর এ কারণেই কবি প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের সৌন্দর্য তার ভাষায় ফুটিয়ে তোলেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। যা কবির মনে আশার সঞ্চার করেছে। ফুলের সৌন্দর্যে, গন্ধে মুগ্ধ অলি গান গেয়ে যায়। 'ঝিঙে ফুল' কবিতায়ও ঝিঙে ফুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে ঝিঙে ফুল কীভাবে মরা মাচানের দেশ মশগুল করে তোলে, কীভাবে ঝলমল করে ঝিঙে ফুল দোলে তার বর্ণনা রয়েছে। ফিরোজা, সবুজ, জাফরান বিভিন্ন রঙের ঘনঘটার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রতি কবির ভালোবাসা স্পষ্ট করেছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত ফুলের সৌন্দর্যের মতো 'ঝিঙে ফুল' কবিতায়ও কবি ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্যের কথা বলেছেন। এদিক দিয়ে উদ্দীপক এবং কবিতার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। কারণ ফুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই দিকটিই কবিতার মূল বিষয়বস্তু। তাই এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allঅলকা বা স্বর্গ অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে পরিপূর্ণ থাকলেও কবি এ স্বদেশের প্রকৃতিকে রেখে অন্য কোথাও যেতে চান না- এটাই ঝিঙে ফুলের প্রতীকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝিঙে ফুল' কবিতায় কবির প্রকৃতিপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। পৌষের বেলাশেষে সবুজ পাতার এ দেশে জাফরান রং নিয়ে ঝিঙে ফুল মাচার উপর ফুটে আছে। প্রজাপতি তাকে বোঁটা ছিঁড়ে চলে আসার জন্য ডাকছে। আকাশে চলে যাওয়ার জন্য ডাকছে তারা। কিন্তু সে সুখ-ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ স্বর্গের চেয়ে পৃথিবীকে বেশি ভালোবাসে। তাই সে মাটিকে ভালোবেসে মাটি-মায়ের কাছেই থাকবে- আলোচ্য চরণে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।'
জন্মভূমির শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বানের দিক থেকে ফয়সালের মামার চাওয়া 'ঝিঙে ফুল' কবিতার প্রজাপতির ডাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
জন্মভূমির সঙ্গে সবার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। স্বর্গ সুখের নিশ্চয়তা পেলেও মানুষ জন্মভূমিকে ছেড়ে যেতে চায় না।
'ঝিঙে ফুল' কবিতায় ঝিঙে ফুলকে বোঁটা ছিঁড়ে আসার জন্য প্রজাপতি ডাকছে। কিন্তু ঝিঙে ফুল মাটিকে ভালোবেসে মাটির কাছেই থাকবে। উদ্দীপকে ফয়সালের মামা ভালো পড়াশুনার জন্য চেনা-জানা পরিবেশ ছেড়ে ফয়সালকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চান। এভাবেই জন্মমাটির শেকড় বিচ্ছিন্ন করার আহ্বানের দিক থেকে ফয়সালের মামার চাওয়াl 'ঝিঙে ফুল' কবিতার প্রজাপতির ডাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
"ফয়সাল এবং ঝিঙে ফুলের ইচ্ছা যেন একই সূত্রে গাঁথা।"-উক্তিটি যথার্থ।
মানুষ বা প্রকৃতি যে যেখানে যে পরিবেশে বড় হয় সেখানে আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। কিছুতেই সে তার চিরচেনা-পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না।
উদ্দীপকে ফয়সালের মামা ফয়সালকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চান পড়াশুনা করানোর জন্য। কিন্তু ফয়সাল তার নিজ অবস্থানকেই ভালোবেসে অন্য কোথাও যেতে চায় না। 'ঝিঙে ফুল' কবিতায় ঝিঙে ফুলকে প্রজাপতি ডাকছে বোঁটা ছিড়ে চলে আসার জন্য, আকাশে চলে যাওয়ার জন্য ডাকছে তারা। কিন্তু সে মাটিকে ভালোবেসে মাটি-মায়ের কাছেই থাকবে।
কোনো কিছুর মোহেই নিজ জন্মস্থানকে ছেড়ে' না যাওয়ার দিক দিয়ে ফয়সাল ও ঝিঙে ফুলের ইচ্ছা যেন একই সূত্রে গাঁথা। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ঝিঙে ফুল মরা মাচানের দেশ মস্গুল করে।
ঝিঙে ফুল মা-মাটির পরশেই ভালো থাকতে চায়, ‘তাই সে অলকায় যেতে চায় না।’
ঝিঙে ফুল সবুজ পাতার মাঝে যখন ফোটে তখন তার অপরূপ সৌন্দর্য যেন সবাই মুগ্ধ করে। ঝলমল করে দোলা ঝিঙে ফুল যেন পৌষের, শেষ বেলাতেও প্রকৃতির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু মাঝে মাঝে যেন এই ঝিঙে ফুল অবহেলিত হয়, যখন রোদের মাঝেও ঝিঙে ফুল তার মায়ের কোলে ঘুমায় তখন। প্রজাপতি তাকে ডাকে বোঁটা ছিঁড়ে আকাশে চলে আসতে, কিন্তু ঝিঙে ফুল তাতে রাজি হয় না। সে তার সৌন্দর্য নিয়ে মা-মাটিকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চায়। এই জীবনই যেন তার কাছে শান্তিময়। তাই ঝিঙে ফুল অলকায় যেতে চায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!