রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থিত।
'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরনো বা প্রাচীন। 'তত্ত্ব' হলো- আসল বস্তু; প্রকৃত অবস্থা। প্রত্নতত্ত্ব অর্থ হলো- প্রাচীন বস্তু, পুরনো বস্তু। প্রত্নতত্ত্ব বলতে বোঝায় প্রাচীন স্থাপত্য ও শিল্পকর্ম। মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা, পুরনো মূল্যবান আসবাবপত্র ইত্যাদি।
হিশাম ও পারিশা যে স্থানটি প্রদর্শন করে সেটি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁও।
সোনারগাঁও একসময় সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল। পরবর্তী মুঘল যুগে এর গুরুত্ব কমে যায়। কিন্তু তখনও মসলিন শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসায় কেন্দ্র হিসেবে এর খ্যাতি ছিল। উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীদের অনেকে বসবাসের জন্য সোনারগাঁওয়ের পানাম এলাকাটি বেছে নেন। এরা পানামের মূল সড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে অনেকগুলো ইমারত নির্মাণ করেন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ ভবনগুলোতে ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করা হয়। তবে এদের নির্মাণকলায় মুঘল স্থাপত্যেরও প্রভাব আছে। অট্টালিকাগুলো সাজানো হয়েছিল রঙিন মোজাইকে। পানামের আশপাশে আরও কয়েকটি চমৎকার ইমারত এখনও টিকে আছে। এগুলোর মধ্যে সরদারবাড়ি বা বড় সরদারবাড়িতে এখন স্থাপিত হয়েছে লোকশিল্প জাদুঘর। রঙিন মোজাইকের নানা কারুকাজে শোভিত হয়েছে সরদারবাড়ি। সুতরাং হিশাম ও পারিশার প্রদর্শিত স্থানটি স্থাপত্য শিল্প ও সাংস্কৃতিক শিল্পের প্রেক্ষিতে একসময় সোনারগাঁও বিখ্যাত ছিল।
উক্ত উদ্দীপকে মামা তাদের অর্থাৎ হিশাম ও পারিশাকে জাতীয় জাদুঘরে অথবা যেকোনো প্রত্নস্থলের জাদুঘরে নিলে তারা ঐতিহ্য সচেতন হতে পারবে বলে আমি মনে করি।
কেননা বাংলাদেশের পুরাকীর্তিগুলো থেকে পাওয়া অনেক প্রত্ননিদর্শন জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়। তাই এসব প্রত্নসম্পদ দেখে দেশের পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। - যেমন- ঢাকায় রয়েছে আমাদের জাতীয় জাদুঘর। এছাড়া নানা প্রত্নস্থলের জাদুঘরেও রয়েছে প্রচুর প্রত্নসম্পদ। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের গ্যালারিতে সারা দেশে প্রত্ননিদর্শনের সঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে বাংলার নবাব, জমিদার, ও ইংরেজ শাসনকালের বেশ কিছু প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দিনাজপুরের মহারাজার ব্যবহার করা দ্রব্য ও হাতির দাঁতের করুকাজ করা শিল্পদ্রব্য। বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর সংগ্রহ থেকে আনা পোশাক, হাতির দাঁতের নানা কারুকাজ ও ঢাল-তলোয়ার। তাছাড়া এখানে রাখা হয়েছে নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদারদের ব্যবহার করা দ্রব্য, পোশাক, ঢাল-তলোয়ার ও সিংহাসন এবং ঢাকার নওয়াবদের ব্যবহার করা কারুকার্যখচিত পোশাক ও জিনিসপত্র। এছাড়া কোনো কোনো আঞ্চলিক জাদুঘর ও সংগ্রহশালায় নানা প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। অতএব বলা যায়, মামা তাদের এসব স্থানে নিলে তারা ঐতিহ্য সচেতন হতে পারবে।
Related Question
View All'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্নসম্প বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্মা, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
ঢাকার মসজিদগুলোতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশেলও রয়েছে। এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং কারুকাজ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এসব মসজিদ ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
লালবাগ মসজিদ ও সিতারা বেগম মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এগুলোর গঠনশৈলী চমৎকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই মসজিদগুলোতে মোগল শাসনামলের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
শিয়াদের ইমামবাড়া এবং হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এখানে মহররমের সময় নানা ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হয়। ইমামবাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতীক। এগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইংরেজ শাসনামলে এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ঢাকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকেশ্বরী মন্দির অনেক পুরনো এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক। রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক আমলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরগুলো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢাকার আর্মেনিয়ান গির্জা ১৭৮১ সালে আরমানিটোলায় নির্মিত হয়। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরানো গির্জা এবং আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন। গির্জাটির স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!