শালিক পাখি আরজুর সাথে কথা বলে না।
স্কুলে যাওয়ার পথে অসহায় আরজু কারো সাহায্য না পেয়ে মনের দুঃখে পাখির সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।
পায়ের ব্যথায় অসহায় আরজু স্কুলে যাওয়ার জন্য কারো কাছে সাহায্য না পেয়ে আমবাগানে একাকী বসেছিল। তখন পাখির সাড়া পেয়ে পাখির কাছেই অনুরোধ করছিল তার ডানায় করে আরজুকে স্কুলে দিয়ে আসতে। এভাবে আরজু তার মনের দুঃখ প্রকাশ করতে পাখির সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।
উদ্দীপকের হুইলচেয়ারে বসা ছেলেটির সাথে 'সেই ছেলেটি' নাটিকার আরজু চরিত্রের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
'সেই ছেলেটি' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র আরজু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর। ছোটোবেলার অসুস্থতার কারণে তার পা সরু হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সে বেশিক্ষণ হাঁটতে পারে না। স্কুলে যাওয়ার সময় হাঁটতে না পারায় মাঝপথেই সে বসে পড়ে। সহপাঠীরা তাকে রেখে স্কুলে চলে যায়। সে একা আমবাগানে বসে কাঁদে আর পাখিদের কাছে তার মনের দুঃখ প্রকাশ করে। সবার মতো হাঁটতে না পারা, স্কুলে যেতে না পারায় তার বুকটা কষ্টে যেন ফেটে যায়।
উদ্দীপকের হুইলচেয়ারে বসা শারীরিক প্রতিবন্ধী একটি ছেলের দৃশ্য' ফুটে উঠেছে। যে দূর হতে সমবয়সিদের উচ্ছল খেলাধুলা দেখে। সবাই মাঠে খেলা করে, কেউ তার সাথে খেলতে আসে না। কারণ সে তাদের মতো স্বাভাবিক নয়। মনের দুঃখে সে একা বসে থাকে। আকাশের পাখিদের দেখে ভাবে যদি পাখি হয়ে উড়ে যেতে পারত। 'সেই ছেলেটি' নাটকে শারীরিক সীমাবদ্ধতাসম্পন্ন আরজুর অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সহপাঠীরা স্কুলে চলে যায়, সে হাঁটতে পারে না বলে পথের মাঝেই বসে থাকে। কেউই তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যায় না। তার অসহায়ত্বের কথা, তার কষ্টের কথা পাখিদের জানায়, কান্না করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হুইলচেয়ারে বসা ছেলেটির সঙ্গে 'সেই ছেলেটি' নাটকের আরজু চরিত্রের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ ও সহমর্মিতা না পেলে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ মানসিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে, যা তার প্রতিবন্ধকতাকে বরং বাড়িয়ে দেয়।
'সেই ছেলেটি' নাটকে লেখক একজন শারীরিক সীমাবদ্ধতাসম্পন্ন কিশোরের অসহায়ত্ব তুলে ধরেছেন। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে আরজু স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। স্কুলে যাওয়ার সময় মাঝপথেই বসে পড়ে। সহপাঠীরাও তাকে ফেলে চলে যায়। সে পথে অনেককে জিজ্ঞেস করে তারা স্কুলের দিকে যাবে কি না। কারোরই তার কথা শোনার সময় নেই। তার বাবাও তার এই সমস্যার ব্যাপারে গুরুত্ব দেননি। ফলে রাস্তায় একা বসে হাঁটতে না পারার কষ্টে আরজু কাঁদে।
উদ্দীপকের হুইলচেয়ারে বসা শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেটির অসহায়ত্বের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সমবয়সিরা কেউ তার সাথে খেলে না। সবাই মাঠে ছুটে বেড়ায় যা দূর থেকে দেখে সে। আর নিজের অবস্থা নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে। প্রতিবন্ধকতার কষ্ট আরও বেড়ে যায় তার। পাখিদের আকাশে উড়া দেখে চিন্তা করে সে যদি পাখি হয়ে উড়ে যেতে পারত। 'সেই ছেলেটি' নাটিকার আরজুরও এরকমই অসহায় অনুভূতি হয়। 'সেই ছেলেটি' নাটিকায় ভাবিকভাবে চলতে না পারা আরজু সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের অভাবে চিকিৎসা পায়নি। হাঁটতে পারে না দেখেও কেউ তার কথা শুনতে আসেনি। পথের অনেককেই সে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে, কিন্তু সবাই ব্যস্ত। সবার এমন আচরণে সে কাউকে নিজের অসহায়ত্বের কথা খুলে বলেনি। কষ্টে তার বুক ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। সহপাঠীরাও প্রথমে জানতে চায়নি কেন সে মাঝপথে বসে পড়ে। উদ্দীপকের প্রতিবন্ধী ছেলেটির প্রতিও তার সমবয়সিরা অবজ্ঞা করেছে। কেউ তার সাথে খেলে না কারণ সে স্বাভাবিক নয়। এমন অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সেও হীনম্মন্যতায় ভোগে। সহমর্মিতা না পেলে প্রতিবন্ধীদের জীবনের বাধা আরও বৃদ্ধি পায়, যা তাদের প্রতিবন্ধকতা জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, 'উপযুক্ত পরিবেশ ও সহমর্মিতার অভাব প্রতিবন্ধকতা জয়ের অন্তরায়।'- মন্তব্যটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allমিঠু আরজুকে পলাশতলীর আমবাগানের কাছে বসে থাকতে দেখেছে।
স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় পড়াশোনায় ভালো করতে পারেনি বলে আইসক্রিমওয়ালা আরজুকে স্কুল ফাঁকি দিতে নিষেধ করল।
ঠিকমতো পড়াশোনা না করলে এবং স্কুল ফাঁকি দিলে জীবনে বড়ো হওয়া যায় না। আইসক্রিমওয়ালা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এটা বুঝতে পেরেছে। সে ভাবে, স্কুল আর পড়াশোনাতে ফাঁকি দেওয়াতেই তার এই দুর্ভাগ্য। তাই সে আরজুকে সাবধান করে দিয়ে স্কুল ফাঁকি দিতে নিষেধ করে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের রওশন ও 'সেই ছেলেটি' নাটিকার আরজুর মাঝে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'সেই ছেলেটি' নাটিকায় বর্ণিত আরজু শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। ছোটোবেলায় হওয়া অসুখের কারণে তার পা সরু হয়ে যায়। বেশিক্ষণ হাঁটলে তার পা অবশ হয়ে আসে। এ কারণেই স্কুলে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে সে।
উদ্দীপকের রওশন প্রায়ই স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এর কারণ তার স্নায়বিক সমস্যা। নিয়মিত স্কুলে এলে তার সমস্যা বেড়ে যায়। নাটিকার আরজুর মতোই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় রওশন। একইভাবে নাটিকার আরজুও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। নিয়মিত স্কুলে আসা এবং পড়াশোনার ইচ্ছা থাকলেও রওশন ও আরজু তা পারে না। স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী না হওয়াটাই তাদের মধ্যে সাদৃশ্য নির্দেশ করে।
আবিদ স্যার কারণ না জেনেই ছাত্রকে বকাঝকা করেছেন, যা লতিফ স্যারের তুলনায় একেবারেই অযৌক্তিক।
প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের সাথে সবসময় বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত। তাদেরকে অবজ্ঞা না করে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।
উদ্দীপকের আবিদ স্যার তার ছাত্র রওশনের স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান না করেই তাকে বকা দেন। আবিদ স্যারের বিচার কাজটি 'সেই ছেলেটি' নাটিকার লতিফ স্যারের আচরণ বিবেচনায়, যৌক্তিক বলা যায় না। কেননা নাটিকার আরজুর মতো উদ্দীপকের রওশনও পড়াশোনায় বেশ আগ্রহী। কিন্তু অসুস্থতা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে সে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। কিন্তু আবিদ স্যার এসব ঘটনা না জেনেই রওশনকে ক্লাসে বকা দেন।
প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের প্রতি বাবা-মা ও শিক্ষকদের মনোযোগী হয়ে হবে এবং তাদের প্রতি স্নেহশীল আচরণ করতে হবে। আলোচ্য নাটিকায় লতিফ স্যার অকারণে আরজুকে বকাঝকা না করে তার অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করেছেন। সবকিছু জেনে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের আবিদ স্যার রওশনকে ফাঁকিবাজ ছাত্র ভেবে বকা দেন। এক্ষেত্রে তিনি একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের মতো দায়িত্ব পালন করেননি, ছাত্রের সমস্যার প্রতি মনোযোগ দেননি। যা লতিফ স্যারের দায়িত্বশীলতার বিপরীত এবং একেবারেই অযৌক্তিক।
শালিক পাখি আরজুর সাথে কথা বলে না।
স্কুলে যাওয়ার পথে অসহায় আরজু কারো সাহায্য না পেয়ে মনের দুঃখে পাখির সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।
পায়ের ব্যথায় অসহায় আরজু স্কুলে যাওয়ার জন্য কারো কাছে সাহায্য না পেয়ে আমবাগানে একাকী বসেছিল। তখন পাখির সাড়া পেয়ে পাখির কাছেই অনুরোধ করছিল তার ডানায় করে আরজুকে স্কুলে দিয়ে আসতে। এভাবে আরজু তার মনের দুঃখ প্রকাশ করতে পাখির সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
