হুদায়বিয়ার সন্ধির বিষয়টি পবিত্র কোরআনের ৪৮ নম্বর সুরা আল ফাতহ-এ আলোচনা করা হয়েছে।
হুদায়বিয়া সন্ধির শর্তাবলি: হুদাইবিয়ার সন্ধি ইসলামের। ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। হযরত মুহাম্মদ (স) ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে সঙ্গীসাথিসহ মক্কায় উমরা হজ পালনের জন্য যাত্রা করেন। তাঁদের সঙ্গে কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না। তবুও মক্কার অবিশ্বাসীগণ তাঁদের পথ রোধ করতে মনস্থ করে। খবর পেয়ে রাসুলুল্লাহ (স) দেড় হাজার সঙ্গীসাথিসহ মক্কার সীমান্তবর্তী হুদাইবিয়া নামক স্থানে তাঁবু ফেলেন। মক্কাবাসীগণ বিরাট সৈন্য বাহিনী নিয়ে তাঁদের অবরোধ করে রাখে। এ সময় সংঘর্ষ এড়াবার জন্য মুসলমানদের সঙ্গে মক্কার অবিশ্বাসীদের যে শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়, তারই নাম হুদাইবিয়ার সন্ধি।
এ সন্ধির ধারাগুলো হলো:
ক. মুসলমানেরা এ বছর হজ করতে পারবেন না;
খ. আগামী বছর তাঁরা হজ করতে পারবেন, কিন্তু তিন দিনের বেশি মক্কায় থাকতে পারবেন না;
গ. সে সময় কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া তাঁরা আর কোনো অস্ত্র বহন করতে পারবেন না;
ঘ. যে কেউ স্বেচ্ছায় মুহাম্মদ (স)-এর দলে অথবা কুরাইশদের দলে যোগ দিতে পারবে;
ঙ. কোনো মক্কাবাসী তার অভিভাবকের বিনা অনুমতিতে মুসলমানদের দলে যোগদান করলে তাকে কুরাইশদের নিকট ফেরত দিতে
হবে, কিন্তু মুহাম্মদ (স)-এর অনুসারী কোনো ব্যক্তি কুরাইশদের নিকট ফিরে এলে তাকে প্রত্যর্পণ করা হবে না;
চ. দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ রাখতে হবে, যাতে জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
হুদাইবিয়ার সন্ধির কোনো কোনো ধারা মুসলমানদের জন্য দৃশ্যত কিছুটা ক্ষতিকর প্রতীয়মান হলেও পরে তা সুদূরপ্রসারী সুফল বয়ে এনেছিল।
Related Question
View All"الم" (আলিফ-লাম-মীম) কুরআনের শুরুতে আসা এক ধরনের বিশেষ বর্ণমালা, যাকে বলা হয় হুরুফে মুকাত্তা‘আত (বিচ্ছিন্ন বর্ণ)
মর্মার্থ ও তাৎপর্য
- অর্থ রহস্যময়
- এর সঠিক অর্থ কেবল আল্লাহ তায়ালাই জানেন।
- ইসলামের প্রাচীন যুগ থেকেই আলেমরা এর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু চূড়ান্ত অর্থ গোপনই রাখা হয়েছে।
- কুরআনের অলৌকিকতার অংশ
- এই বর্ণগুলো কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে এসেছে।
- অনেক আলেমের মতে, এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ এর মধ্যে এক বিশেষ সংকেত।
- আবার কেউ কেউ বলেন, এটি কুরআনের ভাষাগত ও সাহিত্যিক অলৌকিকতার প্রমাণ।
- মানুষের জন্য শিক্ষা
- আল্লাহর জ্ঞানের সামনে মানুষের জ্ঞান সীমিত—এটি বিনম্রভাবে স্বীকার করার শিক্ষা দেয়।
- আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কুরআনের প্রতিটি হরফেই গভীর জ্ঞান ও রহস্য লুকিয়ে আছে।
- যেসব সূরায় এসেছে
- সূরা আল-বাকারাহ (২:১)
- সূরা আলে ইমরান (৩:১)
- সূরা আল-আনকাবুত (২৯:১) — ইত্যাদি
মুত্তাকী (المتقين) শব্দটি এসেছে তাকওয়া (تقوى) থেকে, যার অর্থ আল্লাহভীতি, সতর্কতা, ও গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা। কুরআন ও হাদিসে মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য:
- গায়েবের প্রতি ঈমান রাখা (আল্লাহ, ফেরেশতা, আখেরাত ইত্যাদি)
- সালাত কায়েম করা
- আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করা
- কুরআন ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বিশ্বাস রাখা
- আখেরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা
গুনাহ থেকে বাঁচতে সচেতন থাকা, এমনকি সন্দেহজনক বিষয় থেকেও বিরত থাকা
هدى للمتقين — “মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত”
- কুরআনের প্রভাব ও ফল লাভ করেন কেবল আল্লাহভীরু ও সত্যগ্রহণে প্রস্তুত মানুষ।
এখানে "হিদায়াত" বলতে কার্যকর দিকনির্দেশনা বোঝানো হয়েছে—যা শুধু সেই ব্যক্তির জীবনে প্রভাব ফেলে, যে তা গ্রহণ করতে চায়।
هدى للناس — “মানবজাতির জন্য হিদায়াত”
- কুরআনের বার্তা সবার জন্য উন্মুক্ত।
এখানে কুরআনের সর্বজনীন বার্তা বোঝানো হয়েছে—এটি জাতি, ধর্ম, ভাষা নির্বিশেষে সবার জন্য পথপ্রদর্শক।
মূল শিক্ষা
- কুরআন সবার জন্য নাজিল হয়েছে (هدى للناس), কিন্তু প্রকৃত উপকার পান তারা, যাদের অন্তরে তাকওয়া আছে (هدى للمتقين)।
- যেমন বৃষ্টি সবার জমিতে পড়ে, কিন্তু ফসল জন্মায় শুধু সেই জমিতে, যা প্রস্তুত ও উর্বর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!