মাযহাব অর্থ চলার পথ, ধর্মমত, বিশ্বাস।
ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়ন করলে ইসলামি শরিয়াহ বা আইন সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। ফিকহশাস্ত্র ইসলামি আইনের বিন্যস্ত গ্রন্থাবদ্ধ রূপ।
ইসলামি আইনের চারটি উৎসই ফিকহশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। ফিকহশাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর নির্ধারিত হুকুম-আহকাম পালনের সঠিক রীতি-পদ্ধতি নির্দেশ করা। তাই বলা যায়, ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমে ইসলামের বিধি-বিধান সম্পর্কে সুবিন্যস্ত, সঠিক ও বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করা যায়।
প্রশ্নোক্ত আয়াতটির অর্থ হলো- এরপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি করে উপদল কেন বের হলো না, যাতে তারা দীনের জ্ঞান লাভ করে এবং তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়কে সতর্ক করে? (সুরা আত্ তাওবাহ: ১২২)।
উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ তায়ালার ঘোষণায় ফিকহের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ফুটে ওঠেছে। প্রকৃতপক্ষে ফিকহ এমন একটি বিষয় যা কুরআন-হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। একজন মুসলমানের জীবনাচরণে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা আলোচ্য আয়াতে ফিকহের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।
সুরা আত তাওবার উল্লিখিত আয়াতটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আয়াতটিতে আল্লাহ তায়ালা সবসময় একটি বিশেষ দলকে ফিকহচর্চা ও গবেষণায় নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এ থেকে বোঝা যায় সবার পক্ষে ফিকহ চর্চা করা সম্ভব নয়। খুব সাধারণভাবেই প্রত্যেক মুসলমানের পক্ষে ইসলামি শরিয়তের চারটি উৎস নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে ফিকহের জ্ঞানলাভ করা অনেক কঠিন এবং তার প্রয়োজনও নেই। এক শ্রেণির বিজ্ঞ আলেম ফিকহের চর্চার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে ইসলামের বিধি-বিধানসমূহ সহজবোধ্য করে সরলভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের দলের মধ্যে উপদলের কথা বলেছেন, যারা দীনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে অন্যদেরকে তা অবগত করবে। সুতরাং বলা যায়, আলোচ্য আয়াতটি ফিকহ সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশনার সুস্পষ্ট নিদর্শন।
কুরআনের উল্লিখিত আয়াতের আলোকে বলা যায় হুযায়ফা সাহেব ফিকহচর্চার ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলামের বিধি-বিধান অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং কার্যকর উপযোগিতাসম্পন্ন। যেমন- ইসলামের সৎ কাজের আদেশ করতে বলা হয়েছে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ফিকহশাস্ত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তি এ কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করে থাকেন। যা হুযায়ফা সাহেবের কর্মকাণ্ডেও পরিলক্ষিত হয়।
হুযায়ফা সাহেব একজন ধর্মীয় আলেম। এ কারণে তিনি ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী। আর তিনি কুরআন মাজিদে তার মতো মানুষের করণীয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ সম্পর্কেও অবগত। এ কারণেই তিনি সমাজের মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেন। ফিকহশাস্ত্রে অভিজ্ঞ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। উদ্দীপকে তিনি যে আয়াতটি তেলাওয়াত করেছেন সেখানেই তার কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়। আয়াতটিতে আল্লাহ দীন অর্থাৎ ইসলামি শরিয়ত সম্পর্কে সূক্ষ্ম জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তা অপরকে জানানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নির্দেশ প্রদান করেছে। আর আল্লাহ তায়ালার এই নির্দেশরই অনুসরণ করে হুযায়ফা সাহেব অন্যদেরকে ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত করার চেষ্টা করেন। এজন্য তিনি উত্তম প্রতিদান পাবেন। হাদিসে এসেছে, 'একজন ফিকহশাস্ত্রবিদ এক হাজার আবিদের চেয়েও শয়তানের ওপর অধিক শক্তিশালী।' ন এ কথাটি হুযায়ফা সাহেবের জন্যও প্রযোজ্য।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে হুযায়ফা সাহেবের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং শরিয়তসম্মত।
Related Question
View Allসিহাহ সিত্তাহ বলতে বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে বোঝায়। হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগে হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে ছয়জন মুহাদ্দিস এবং তাদের সংকলিত গ্রন্থ বিশেষ প্রাধান্য পায়। এগুলো সর্বজনীন ও সর্বাঙ্গীন বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি লাভ করে। ইলমে হাদিসের পরিভাষায় তাদের সংকলিত বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়। এগুলো হলো- সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযি, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবন মাজাহ ও সুনানে আবু দাউদ। হাদিস সংকলকদের নাম অনুযায়ী উক্ত হাদিস গ্রন্থগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।
জনাব ময়নুল দ্বিতীয় উৎস হিসেবে হাদিস অধ্যয়ন করেন- যার গুরুত্ব অপরিসীম।
হাদিস অর্থ- কথা বা বাণী। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলে। হাদিস হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি আল কুরআনের মূলনীতিসমূহের বাস্তবরূপ ও ব্যাখ্যা। উদ্দীপকে এ উৎসের আলোকপাত হয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব ময়নুল কুরআনের ব্যাখ্যা বোঝার জন্য হাদিস অধ্যয়ন করেন। মূলত ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হাদিসের জ্ঞান। মানুষ জীবন চলার পথে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেই পারে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্ভূত সব সমস্যার সমাধান দিতে হাদিস অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। হাদিস মুসলমান জাতির জন্য জীবন চলার অন্যতম উপকরণ। ইসলামি জীবনধারার অন্যতম শর্ত হলো আল্লাহর বন্দেগি বা ইবাদত করা। এ ইবাদত কীভাবে করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রদান করেছে হাদিস। একজন মুসলমানের সামগ্রিক আচার-আচরণ কেমন হবে তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছে হাদিস। আর মহানবি (স) ছিলেন পরিচ্ছন্ন আচার- আচরনের বাস্তব প্রতিকৃতি। সুতরাং ইসলামি জীবনধারায় প্রত্যেক মুসলমানের জীবনাচরণ নিয়ন্ত্রিত হবে হাদিসের আলোকে।
উদ্দীপকে মাওলানা ফখরুলের কর্মটি ফিকহশাস্ত্র নিয়ে। ইসলামি শিক্ষা প্রসারে যার গুরুত্ব অপরিসীম। ফিকহ শব্দের অর্থ- অনুধাবন করা, বুঝতে পারা ইত্যাদি। পরিভাষায় যে শাস্ত্রে কর্মসংক্রান্ত তথা ব্যাবহারিক জীবনের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত শরিয়তের হুকুম-আহকাম ও বিধি-বিধান আলোচিত হয়, সে শাস্ত্রকে বলা হয় ফিকহশাস্ত্র বা ইলমুল ফিকহ। উদ্দীপকে এ শাস্ত্রেরই ইঙ্গিত এসেছে।
উদ্দীপকের মাওলানা কুরআন হাদিস গবেষণা করে এর বিধি-বিধান একটি বইয়ের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। তার কাজটি ইসলামি আইন সম্পর্কিত জ্ঞান প্রসারে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। কেননা কুরআন নাজিল সমাপ্তি ও রাসুলুল্লাহ (স)-এর ইন্তেকালের পর সর্বসাধারণের উপযোগী করে শরয়ি বিধান পরিবেশনের জন্য মূলনীতি ও বিধানাবলির চুলচেরা বিশ্লেষণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া কুরআন-হাদিসের অবিন্যস্ত ও বিক্ষিপ্ত বর্ণনা ইসলামি আইনের বিন্যাস ও সহজ উপস্থাপনার উপযোগিতা সৃষ্টি করে। ফিকহশাস্ত্র শরয়ি বিধানের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেয়। বিধান গুলোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুসারে এগুলোকে বিন্যস্ত করে সব দেশের সাধারণ মানুষের উপযোগী করে। সর্বোপরি এ শাস্ত্রবিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে সহজ উপস্থাপনার রীতি গ্রহণ করে আপামর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মানুশীলনকে সহজসাধ্য করেছে।
আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে গভীর সংযোগকারী বিষয় হলো- ইবাদত।
ইসলামের প্রসারের ফলে সাহাবিদের যুগে ফিকহশাস্ত্র বিকশিত হয়। সাহাবিদের যুগে ইসলাম দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়। সাহাবিগণ সম্মিলিতভাবে কুরআন-হাদিসের মূলনীতির আলোকে এসব সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ চেষ্টায় তারা ইজতিহাদের সূচনা করেন। এরপর ইজতিহাদি বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত করে সমস্যার সর্বসম্মত সমাধান দেওয়ার প্রয়াস পান। ফলে এ যুগে স্বতন্ত্র ফিকহশাস্ত্র সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!