কবি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার কামনা করেছেন।
"হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!"- কবি কোন গুণের জন্য জন্মভূমির কাছে অমরতা প্রত্যাশা করবেন সেই বিষয়টি জানতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রবাসে থাকাকালে দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। কবি দেশকে ভালোবাসেন বলেই স্বদেশের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকতে চান। অনুতপ্ত কবি মনে করেন, তাঁর এমন কোনো গুণ নেই যার কারণে তিনি অমরতা লাভ করত পারেন। কবি তাই শ্যামল জন্মভূমির কাছে প্রশ্ন করেন যে, তার এমন কোনো গুণ কী আছে যার দ্বারা তিনি তার অপরাধের ক্ষমা পেতে পারেন এবং জন্মভূমির কোলে আশ্রয় নিয়ে অমরতা লাভ করতে পারেন।
উদ্দীপকটি মানুষের হৃদয়ে স্থান লাভ করার দিক দিয়ে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জন্মভূমি প্রত্যেকের কাছেই অত্যন্ত শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার স্থান। এ কারণে মানুষ প্রবাসে থাকলেও প্রিয় জন্মভূমিকে ভুলতে পারে না। জন্মভূমির নানা স্মৃতিকথা মনে করে আবেগে আপ্লুত হয়।
উদ্দীপকে নিজের সৃষ্টিকর্ম এবং সেগুলো মানবকল্যাণে নিবেদন করে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার তীব্র প্রত্যাশা ব্যক্ত হয়েছে। এই বিষয়টি 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় প্রতিফলিত কবির স্বদেশপ্রীতি এবং স্বদেশের মানুষের মনে চির অম্লান হয়ে থাকার প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় কবি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার জন্য বর প্রার্থনা করেছেন। কবিকে যেন তাঁর প্রিয় জন্মভূমি মনে রাখেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবির সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনিও তাঁর কর্মের মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণীয় হয়ে শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় বেঁচে থাকতে চান।
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপককে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার পরিপূরক বলা যায় না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জন্মভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা অকৃত্রিম। মানুষ যেখানেই থাকুক না কেন জন্মভূমিকে ভুলে থাকতে পারে না। কারণ জন্মভূমি মানুষের কাছে মায়ের মতোই আপন এবং শ্রদ্ধার বস্তু।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় কবির স্বদেশ চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি নিজেকে দেশমাতার সন্তান মনে করেছেন। তিনি তাই জন্মভূমির মাটিতেই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকতে চেয়েছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া কবিতায় জন্মভূমির সঙ্গে কবির যে গভীর বন্ধনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এ কবিতায় কবির মধ্যে যে সত্যিকারের দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এতে কবি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং নিজেকে জন্মভূমির কাছে নিবেদন করেছেন, যাতে জন্মভূমি তাকে স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করে। উদ্দীপকে এমন আকুতি প্রকাশ পায়নি।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় কবির অনুভবে মা এবং মাতৃভূমি অভিন্ন। 'কবি তার দেশমাতার কাছে মিনতি করেছেন দেশমাতা যেন তাকে মনে রাখে। আর উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি মানবকল্যাণমূলক কাজের মধ্য দিয়ে সবার মনে জায়গা করে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাকাব্যের নাম 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
কবি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার জন্য বর প্রার্থনা করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর জন্মভূমিকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। তিনিও চান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি যেন তাকে মনে রাখেন, হৃদয়ে স্থান দেন। দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার মধ্য দিয়ে তিনি অমরতা লাভ করতে চান। কবি আকুলভাবে তাঁর স্বদেশের কাছে সেই বর প্রার্থনা করেন।
উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে বাংলার প্রকৃতিতে কবির অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা ও স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। 'ফুটি যেন স্মৃতি-জলে' চরণটির মধ্য দিয়েও এ কথাই প্রকাশ পায়।
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এদেশের প্রতি রয়েছে আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা। বাংলা-মায়ের কোলে তাই সব বাঙালি অনন্তকাল স্থান পেতে চায়।
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের কবি মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হলে মানুষ অথবা শঙ্খচিল-শালিকের বেশে বাংলা-মায়ের কোলে ফিরে আসার আকুতি প্রকাশ করেছেন। কবির এ আকুতির মধ্য দিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে অমরতা লাভের ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে অকৃত্রিম স্বদেশপ্রেম। কবির এই স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি ও অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার প্রশ্নোক্ত চরণটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একজন বাংলা-মায়ের কাছে ফিরে আসতে চেয়েছেন, অন্যজন বাংলা-মা যেন তাঁকে মনে রাখে এবং তিনি যেন মায়ের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকতে পারেন অনন্তকাল সেই মিনতি জানিয়েছেন।
"দ্বিতীয় কবিতাংশ এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার মূল সুর একই"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের জন্মভূমি বিচিত্র উপাদানে সজ্জিত। যেমন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর তেমনই এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাত্মতা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি স্বদেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। স্বদেশের প্রতিটি বস্তু তাঁকে আকর্ষণ করে। তাই কবি বাংলা-মাকে আকুতি জানিয়েছেন তিনি যেন ছেলেকে ভুলে না যান। আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন চির স্মরণীয় হওয়ার এবং দেশমাতার স্মৃতিতে পদ্ম ফুলের মতো ফুটে থাকার। উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও দেশ বা পৃথিবীর প্রতি কবির ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি দেশ, দেশের মানুষের মাঝে তথা এ সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই প্রকৃতি এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে চলে যেতে চান না।
দেশমাতৃকার প্রতি উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েরই টান সীমাহীন। উভয় জায়গায়ই দেশ ও দেশের প্রকৃতিকে ভালোবাসা এবং মানবহৃদয়ে বেঁচে থাকার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে স্বদেশের স্মৃতিতে ঠাঁই পাওয়ার আকুলতা। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতাটি একটি গীতিকবিতা।
সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন চলমান বলে জীবন-নদের নীর স্থির নয়।
জাগতিক নিয়মে জীবন বয়ে চলে। কখনো জীবনে দুঃখ এসে ভর করে, কখনোবা আবার সুখের স্রোতে ভেসে চলে। নদীর ধারা যেমন প্রতিনিয়ত বয়ে চলে, জীবনও তাই। প্রকৃতির নিয়মেই রাতের শেষে
দিন হয়, আবার দিনের শেষে রাত আসে। জীবনেও এমন দুঃখ-দুর্দশায় মেঘ ঘনিয়ে অন্ধকার রাত হয়, আবার হাসি-আনন্দে জীবন ভরে ওঠে। এভাবে প্রকৃতির নিয়মেই জীবন-নদের নীর স্থির নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!