দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
কমিউটার্ন বিরোধী ঐক্য হচ্ছে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে জাপান, জার্মানি ও ইতালির মধ্যে গঠিত ঐক্য। ১৯৩৫ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কমিউটার্নের সপ্তম সম্মেলনে ফ্যাসিবাদের উত্থান ও এর আগ্রাসী চরিত্র নিয়ে বুলগেরিয়ান কমিউনিস্ট নেতা গিওর্গি দিমেত্রেভ একটি পত্র উপস্থাপন করেন। তার উত্থাপিত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারণা কমিউটার্ন গ্রহণ করায় জাপান, জার্মানি ও ইতালি কমিউটার্ন বিরোধী চুক্তির মাধ্যমে অক্ষশক্তির জোট গঠন করেন। তখন থেকেই এ অক্ষশক্তি সোভিয়েত ও কমিউনিস্ট বিরোধী জোট হিসেবে পরিচিতি পায়। আর তাদের মধ্যে গঠিত এ ঐক্যই হচ্ছে কমিউনটার্ন বিরোধী ঐক্য।
উদ্দীপকের বন্ধুত্বের মতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে অক্ষশক্তি ও মিত্রশক্তি নামে দুটি জোট গঠিত হয়েছিল। অক্ষশক্তি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কমিউনিস্টবিরোধী রাজনৈতিক জোট। হেলাল ও জালালের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বটা আদর্শগত। কেননা তারা উভয়ই প্রায় একই রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। কামালও তাদের বন্ধু হলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তারা তাদের সমন্বিত শক্তি তাদের আশপাশে প্রয়োগ করতে শুরু করলে পার্শ্ব ও দূরবর্তী এলাকার সম ও বিপরীত আদর্শে বিশ্বাসীরা তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ঐক্যবদ্ধ হয়। তদ্রূপ অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ হচ্ছে জাপান, জার্মানি ও ইতালি। এরা সবাই প্রায় একই মতাদর্শ অর্থাৎ ফ্যাসিবাদে বিশ্বাস করত। জাপান, জার্মানি ও ইতালি মিলে অক্ষশক্তি গঠন করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মিলে এক অভূতপূর্ব মৈত্রীবন্ধনের সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় মিত্রশক্তি জোট। অক্ষশক্তি তাদের শক্তি প্রয়োেগ শুরু করলে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহের একজোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত শক্তি বা ফ্যাসিবাদের ঔদ্ধত্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।
১৯৩৫ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কমিউটার্নের সপ্তম সম্মেলনে ফ্যাসিবাদের উত্থান ও এর আগ্রাসী চরিত্র নিয়ে বুলগেরিয়ান কমিউনিস্ট নেতা গিওর্গি দিমেত্রেভ একটি পত্র উপস্থাপন করেন। তার উত্থাপিত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারণা কমিউটার্ন গ্রহণ করায় জাপান, জার্মানি ও ইতালি কমিউটার্ন বিরোধী চুক্তির মাধ্যমে অক্ষশক্তির জোট গঠন করেন। তখন থেকেই এ অক্ষশক্তি সোভিয়েত কমিউনিস্টবিরোধী জোট হিসেবে পরিচিতি পায়। ভার্সাই সন্ধির দ্বারা অসন্তুষ্ট জাপান, জার্মানি, ইতালি তাদের প্রতিপক্ষ মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করে। অন্যদিকে, শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য ফ্রান্স ও ব্রিটেন এ অক্ষশক্তির মোকাবিলা করার জন্য সমরসজ্জায় মত্ত হয়। যার শেষ পরিণতি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। অক্ষশক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করলে মিত্রশক্তির জোট গঠন ছাড়া ইউরোপের বাকি শক্তির কোনো বিকল্প ছিল না। সোভিয়েত ভীতি ত্যাগ করে তখন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও পশ্চিমা দেশগুলো মৈত্রী জোট গঠনে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করে। গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক দেশ তখন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একজোটে অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় এবং চূড়ান্ত আকার ধারণ করে।
Related Question
View Allদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অক্ষশক্তি চুক্তি নামে পরিচিত। মূলত এটি ছিল কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি। তবে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি হলেও এটিকে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সামরিক জোটও বলা যেতে পারে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের দুর্বলতা ও তাদের পারস্পরিক দুর্বলতার সুযোগে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। পরবর্তী বছর ১৯৩৭ সালে ইতালি এ চুক্তিতে যোগ দেয়। এর ফলেই রোম-বার্লিন-টোকিও উদ্ভব হয়। এ চুক্তি ইউরোপে নতুন শক্তিসাম্য গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের জনক বেনিতো মুসোলিনী ১৮৮৩ সালে ইতালির রোমানিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কর্মকার। শিক্ষা শেষে স্কুলশিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক প্রশিক্ষণ এড়াতে তিনি সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দিয়ে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৯১২ সালে সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্র 'আভান্তি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯১৯ সালে 'এক সম্মেলনে ফ্যাসিস্ট দল গঠন করেন। ফ্যাসিবাদ ছিল ইতালির সামাজিক অবক্ষয়ের যুগের একটি রাজনৈতিক ব্যাভিচার। গণতন্ত্রের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে ফ্যাসিবাদীরা ঘৃণা করত।
উদ্দীপকে 'X' নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে বল প্রয়োগে ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে তার মত ছিল।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'X'-দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উক্ত ব্যক্তির অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতি ছিল সম্প্রসারণবাদ।
মুসোলিনীর' পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রসারণবাদ। ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি ঘোষণা করেন, "আমি যুদ্ধ ভালোবাসি, যুদ্ধ করা আমার সহজাত প্রবণতা।" এ উপলক্ষে তিনি ইতালির পদাতিক, নৌ, বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজান। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের মানসিকতা প্রস্তুত করেন। তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ভার্সাই সন্ধির প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করেন। তিনি বুঝেছিলেন যে, । ইতালির সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করে তুলতে হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি ইত্যাদি শক্তিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করতে হবে। এজন্য তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করেন এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালির প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার কৌশল অবলম্বন করেন। মুসোলিনী তার এসব কৌশল প্রয়োগ করে বেশকিছু উপনিবেশ পুনরুদ্ধারে সফল হন। ১৯২৩ সালে গ্রিসের কফুদ্বীপ গ্রিসকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা ফেরত নিতে হয়। এতে নিজ দেশে মুসোলিনীর ভাবমূর্তি বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৩৬ সালে, স্পেনে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটলে মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোকে সমর্থন করেন। মুসোলিনী নিজ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য জার্মানির হিটলারের সাথে মৈত্রী বন্ধনে আবন্ধ হন।
পরিশেষে বলা যায়, মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে ইতালির সম্প্রসারণ ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালিকে সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদন করা।
জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মার্কিন জনগণ মিত্রপক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। মার্কিন সরকার ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে 'Lend-Lease Act' আইন পাস করে মিত্রশক্তিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে জার্মান ডুবোজাহাজগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিতে শুরু করলে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর অক্ষশক্তির সদস্য জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'পার্ল হারবার' আক্রমণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!