কাপড়ের টানা বা লম্বা সুতা এবং পড়েন বা আড়াআড়ি সুতাই গ্রেন লাইন।
সেলাই মেশিন ব্যবহারযোগ্য রাখার জন্য একে নিয়মিত পরিষ্কার রাখার প্রয়োজন হয়।
সেলাই মেশিন নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না করলে এতে ময়লা ও তেল জমে আটকে যায়। ফলে মেশিন ঘুরানো যায় না। মেশিনের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ শাটল রেখে সামান্যতম ধূলাবালি বা সুতার আঁশ লেগে থাকলে সেলাই কাজ বিঘ্নিত হয়। অর্থাৎ সেলাই মেশিন নিয়মিত পরিষ্কার না করলে অকেজো হয়ে পরে।
হোসনে আরা তার শিক্ষার্থীদের যে খসড়া কাগজের কথা বলেছেন তা হলো ড্রাফটিং।
বাজার থেকে বস্ত্র ক্রয়ের পর বস্ত্রকে পরিধানকারীর শরীরের মাপ অনুযায়ী কেটে সেলাই করা হয়। দেহের মাপ অনুযায়ী পোশাক কাটার পূর্বে বাদামি রঙের সমতল কাগজের ওপর পোশাকের যে নকশা তৈরি করা হয় তাকে ড্রাফটিং বলে।
ড্রাফটিং এর যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা হলো-
১. পোশাকের ডিজাইনে সহজে পরিবর্তন করা যায়। 1
২. একই সাইজের অনেকগুলো পোশাক ছাঁটা যায়।
৩. কাপড়ের অপচয় রোধ করা যায়।
৪. পোশাক ছাঁটতে খুব কম সময় লাগে।
৫. সমতল নমুনার ড্রাফটকে সরাসরি প্রকৃত পোশাকের ডিজাইনে রূপান্তরিত করা হয়।
৬. কাপড়ের বাড়তি ছাঁট বা টুকরা দিয়ে ছোটদের পোশাক ছাড়াও প্রয়োজনীয় নানারকম সামগ্রী যেমন- ন্যাপকিন, রুমাল, টিকোজি, টেবিল ম্যাট ইত্যাদি তৈরি করা যায়।
৭. মূল ড্রাফটিং এর ওপর ভিত্তি করে নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় নকশার পোশাক সহজে তৈরি করা যায়।
উপরিউক্ত কারণে হোসনে আরা তার শিক্ষার্থীদের ড্রাফটিং করে পোশাক প্রস্তুতের কথা বলেন। কেননা ড্রাফটিং পোশাক প্রস্তুতের অপচয় কমায়, সময় বাঁচায়।
হোসনে আরা সালোয়ার প্রস্তুতের কথা বলেছেন।
কুচি দেওয়া ঢিলেঢালা পায়জামাকে সালোয়ার বলে। মেয়েরা কামিজ ও ওড়নার সাথে সালোয়ার পরে।
সালোয়ার তৈরি করতে ৪টি মূল মাপের প্রয়োজন হয়।
১. ঝুল- কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা মাপ = ৩৮"।
২. মৌরি- ১৩"/১৪"।
৩. কোমর থেকে হিপ পর্যন্ত লম্বা মাপ-৭"।
৪. পায়ের মৌরি- ১৪"।
উক্ত মাপের সালোয়ার তৈরি করতে কাপড় লাগবে ২ হাত চওড়া, সোয়া ২ গজ।
ঝুল = আসল লম্বা +১'' সেলাই -৭''=৩৮''+১''=৩৯''-৭''=৩২''l
মৌরি = মৌরির অংশ ২৮" চওড়া কাপড়ের+১''সেলাই = ৭" +১''=৮
ইয়ক লম্বা= ৭''+ ফিতা বা ইলাস্টিক লাগানোর জন্য +সেলাই =
ইয়ক চওড়া = কোমরের মাপ ৩৬" এর সেলাই
সালোয়ারের ড্রাফটিং তৈরি:

১. বাদামি পেপারে মৌরির ৮" চওড়া ৩২" লম্বা অংশ কাটতে হবে।
২. চিত্রের ন্যায় লম্বায় আবার ৩২" কাপড় নিয়ে দুইভাঁজ করে দুই দিকে ১.৫” মাপ নিয়ে আড়াআড়ি করে কলি কাটতে হবে। কলি পায়ের দিকের কাপড় একসাথে করে হিপের ৭"।
৩. ইয়কের জন্য লম্বায়এবং চওড়ায় ১০” কাপড় নিতে হবে। কাপড় কাটা
১. সালোয়ারের দুই পায়ের জন্য ৩২" চওড়া ও ৩২” লম্বা কাপড় চার ভাঁজ করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কাটা অংশ যেন কলির সাইডে থাকে।
২. কলির জন্য ৩২” লম্বা কাপড় লম্বা দুই হাত চওড়া কাপড় নিয়ে চিত্রের মতো ভাঁজ করে কাটতে হবে। এতে ৪ টুকরা কাপড় বের হবে।
৩. ইয়কের জন্য কাপড় ৪ ভাঁজ করে নিতে হবে। ৪০” ও ৯" কাপড় নিতে হবে। উপরের দিকে ১.৫ কাপড় ফিতার জন্য মোড়াতে হবে।
৪. সালোয়ারের নিচে বকরম বা ৩ ভাঁজ করে কাপড় বর্ডারের জন্য নিতে হবে। বর্ডার পছন্দমতো চওড়া করা যেতে পারে।
উল্লিখিত পদ্ধতিতে সালোয়ারের ড্রাফটিং করতে হয় ও কাটতে হয়।
Related Question
View Allজামদানি কার্পাস তুলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের পরিধেয় বস্ত্র।
উপজাতীয় জনগণের পোশাক মূলত তারা নিজ হাতে তৈরি করে ৫. বিধায় তাদের পোশাক তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।উপজাতিদের পোশাকের বৈচিত্র্যই এক গোষ্ঠী থেকে অন্য গোষ্ঠীকে আলাদা করে তোলে। প্রত্যেক গোষ্ঠীই তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরি করে।
পোশাক তৈরির পূর্বে পরিধানকারীর দেহের মাপ নেওয়া প্রয়োজন। মাপ না নিয়ে পোশাক তৈরি করলে তা অনেক সময় পরিধানকারীর জন্য উপযুক্ত হয় না। পরিধানকারীকে দেখতেও ভালো লাগে না।
আনিকা তার ছোট বোনের সোলোয়ার কামিজ তৈরির জন্য কাপড় কিনে। সালোয়ার কামিজ তৈরির জন্য তাকে দেহের নিম্নলিখিত অংশের মাপ নিতে হবে।
১. ঝুল- জামীর লম্বা মাপ।
২ছাতি বা বুক- বুকের ঘেরের মাপ।
৩. কোমর- কোমরের সম্পূর্ণ ঘের।
৪. কাঁধ বা পুট- মেরুদণ্ডের সবচেয়ে উঁচু হাড় থেকে কাঁধের ওপরের উঁচু হাড় পর্যন্ত।
৫ফুল হাতা-পুটের মাপের সাথে হাতের কব্জি পর্যন্ত মাপ।
৬. গলা- গলার ঘেরের মাপ।
৭. হিপ- হিপের উঁচু মাংসল অংশের মাপ।
৮. সেন্ত- কাঁধের ওপরের মেরুদণ্ডের হাড় থেকে কোমর পর্যন্ত মাপ।
৯. মুহুরী বা বাহু-বাহু বা হাতের কব্জির ঘেরকে মুহুরী বা বায়ু বলে।
১০. সেকম- দুই পায়ের সংযোগস্থলের কেন্দ্র থেকে পায়ের গোড়ালির নিচ পর্যন্ত মাপ।
১১. হাঁটু- হাঁটুর ঘেরের মাপ।
১২. উবু- উত্তর ঘেরের মাপ।
১৩. মৌরি- পায়জামার পায়ের পাতার ওপরের ঘেরের মাপ।
যেহেতু আনিকা দেলোয়ার কামিজ তৈরি করবে তাই তাকে দেহের উপরিউক্ত অংশের মাপগুলো নিতে হবে।
আনিকা মনে করে সেলাইয়ের ক্ষেত্রে সেলাই মেশিনের যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খুবই জরুরি।
তার ধারণাটি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। সেলাই মেশিনের মাধ্যমেই পোশাক সেলাই করা হয়। কারো কাছে প্রশিক্ষণজনিত দক্ষতা থাকলেও মেশিনের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তাই এর যত্ন নেওয়া জরুরি।
সেলাই মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ দুইভাবে করা হয়। প্রিভেনটিভ ও ব্রেকডাউন মেইনটেনেন্স। প্রিভেনটিভ মেইনটেনেন্স হলো প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ। কাজ করার পূর্বে মেশিনকে সচল ও ভালো অবস্থায় রাখার জন্য এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি। মেশিনের সকল যন্ত্রাংশ সচল রাখার জন্য এ মেইনটেনেন্স করতে হয়। কাজ করার পর কোনো কারণে মেশিনের কোনো যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে গেলে কিংবা কোনো কারণে মেশিন নষ্ট হলে ব্রেকডাউন মেইনটেনেন্স করা হয়। এ লক্ষ্যে প্রতিদিন মেশিন পরিষ্কার করা, কাজ শেষে মেশিন মুছে রাখা, কভার দিয়ে ঢেকে রাখা, নিয়মিত তেল দেওয়া, আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় মেশিন রাখা উচিত। ভালো সেলাই পেতে হলে সেলাই মেশিনের যত্ন নিতে হবে। কারণ যেকোনো যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্নের ওপরই ভালো থাকে। মেশিনের যত্ন নিলে এর স্থায়িত্ব বাড়ে ও গুণগত মানসম্পন্ন সেলাই পাওয়া যায়। উৎপাদনও বৃদ্ধি হয়। সেলাই মেশিনও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই বলা যায়, আনিকা ধারণাটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
কাপড়ের টানা বা লম্বা সুতা এবং পড়েন বা আড়াআড়ি সুতাই গ্রেন লাইন l
ড্রাফটিং এর একটি পদ্ধতি হচ্ছে প্যাটার্ন ড্রাফটিং।
পোশাক তৈরি করার পূর্বে দেহের বিভিন্ন অংশের মাপ নিয়ে বাদামি রঙের অথবা যেকোনো শক্ত কাগজে যে নকশা অঙ্কন করা হয় তাকে ২২ প্যাটার্ন ড্রাফটিং বলা হয়। মূল নকশার সাথে পছন্দমতো ডিজাইন প্রয়োজনানুসারে রদবদল করে চূড়ান্ত নমুনা প্রস্তুত করাকে প্যাটার্ন ড্রাফটিং বলে। প্যাটার্ন ড্রাফটিং করার সময় সেলাই ও বোতাম ঘরের জন্য যে বাড়তি কাপড়ের প্রয়োজন হয় তা কাগজের উপর বাড়তি রেখেই কাটতে হয়। সুতরাং বলা যায়, মূল নকশার পরিবর্তিত রূপই হলো প্যাটার্ন ড্রাফটিং।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!