'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন দেড় মাস পর ভিটে-মাটি ছেড়ে পথে বের হলো।
"তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ"- বলতে অত্যাচারী জমিদার বাবুর আচরণকে বোঝানো হয়েছে।
যে জমিদার অন্যায় ভাবে উপেনের সব কেড়ে নিয়েছে। সেই জমিদারই উপেনকে আম চুরির দায়ে চোর বলে। দরিদ্র কৃষক উপেনকে প্রতারণা করে বাড়িছাড়া করে জমিদার। উপেন দীর্ঘদিন পর গ্রামে ফিরে আসে। উপেন তারই লাগানো আমগাছের নিচে এসে বসে। বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাছ থেকে দুটি আম পড়ে। তখন উপেন ঐ আম দুটি কুড়িয়ে নেয়। আম দুটি নেওয়ার জন্য সেই প্রতারক জমিদার উপেনকে চোর বলে সাব্যস্ত করে। উপেন তখন মনের কষ্টে এই উক্তিটি করে।
উদ্দীপকের রহমত আলীর সঙ্গে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার জমিদার বাবু সাহেব চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
যুগ যুগ ধরে ধনীরা দরিদ্রের শোষণ করে আসছে। তাদের শোষণের ফলে দরিদ্র মানুষ আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে। মানবতার দিক থেকে সবার উচিত হতদরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা এবং তাদের সম্পত্তি গ্রাস না করা।
উদ্দীপকের বিত্তবান রহমত আলীর অমানবিকতা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে রহমত আলী অন্যায়ভাবে অন্যের জমি দখল করে। বর্গাচাষি হোসেনের ভিটেমাটি কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। উদ্দীপকের রহমত আলীর হীন মানসিকতা 'দুই বিঘা জমি' কবিতার জমিদার বাবুর হীন মানসিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় জমিদার বাবু বাগান করার জন্য দরিদ্র কৃষক উপেনের দুই বিঘা জমি কেড়ে নিয়ে তাকে গ্রামছাড়া করে। উদ্দীপকের রহমত আলীও নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য অন্যায়ভাবে বর্গাচাষি হোসেনকে ভিটে-মাটিছাড়া করে। এরা দুজনই অমানবিক চরিত্রের অধিকারী। উভয়ের কর্মকাণ্ডই একসূত্রে গাঁথা।
'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন যদি উদ্দীপকের হোসেনের অবস্থায় পড়তেন তাহলে উপেনকে ভিটে-মাটি হারাতে হতো না।-মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজে স্বার্থবাদীরা নিজের স্বার্থের জন্যে নানা রকম অন্যায় কাজ করে। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দরিদ্রের সামান্য সম্পদও আত্মসাৎ করে। নিজেদের সম্পদ আরও বাড়াতে চায়। তাদের এ হীন মানসিকতায় সমাজের সাধারণ মানুষ নানা সমস্যায় পতিত হয়।
উদ্দীপকে অমানবিক রহমত আলীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বর্গাচাষি হোসেন নিরুপায় হয়ে নিজের গ্রাম ছেড়ে দূর গ্রামে চলে যায়। এর সঙ্গে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার দুই বিঘা জমি হারিয়ে উপেনের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার মিল রয়েছে। উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রকারীর শিক্ষিত ছেলে অমিত পিতার কর্মকাণ্ডে বিব্রত ও লজ্জিত হয়ে হোসেনকে আবার তার গ্রামে তার ভিটায় ফেরার ব্যবস্থা করে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেনের ক্ষেত্রে তা ঘটে না। কারণ উপেনকে ফিরিয়ে আনার জন্য জমিদার বাবুর পরিবার থেকে উদ্দীপকের অমিতের মতো কেউ এগিয়ে আসেনি।
'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন সাতপুরুষের ভিটে-মাটি হারিয়ে তা আর জমিদার বাবুর থেকে ফেরত পায়নি। বরং বাতাসে ঝরে পড়া দুটি আম কুড়িরে সে চোর বলে সাব্যস্ত হয়েছে। উপেন যদি হোসেনের অবস্থায় পড়ত তাহলে ন্যায্য বিচার পেত। এ কারণেই বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার পান।
'রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি' বলতে বোঝানো হয়েছে বিত্তবান লোকের প্রচুর সম্পদ থাকার পরও তারা দরিদ্রের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়।
ধনী ব্যক্তিরা কখনো অল্পে তৃপ্ত হয় না। আরও সম্পদের লোভে তারা সবকিছু করতে পারে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতা জমিদার উপেনের সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত জমির দখল নিতে চায়। কিন্তু উপেন দিতে না চাইলে জমিদার তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে সে জমি দখল করে নেয়। অর্থাৎ যার অনেক আছে সে আরও চায়। উপর্যুক্ত উদ্ধৃতির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
ক' হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার বাবু সাহেব চরিত্রের শোষক মানসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
আমাদের সমাজে সবলেরা সব সময় দুর্বলের উপর অত্যাচার করে। এটাই যেন সমাজের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বলদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে, এ অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে পারে না।
উদ্দীপকে মতিন মিয়ার ছোট্ট একটা চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে 'ক' হাউজিং সোসাইটির বিশালাকার অ্যাপার্টমেন্ট। একদিন সকালে মতিন দেখতে পায়, তার দোকান অ্যাপার্টমেন্টের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে আটকে গেছে। উপায়ান্তর না দেখে রাস্তায় রাস্তায় ফ্লাস্কে করে চা বিক্রির মাধ্যমে সে সংসার চালায় আর উদাস দৃষ্টিতে অ্যাপার্টমেন্টের দিকে তাকিয়ে বেদনার নিশ্বাস ছাড়ে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও মিথ্যে মামলা দিয়ে জমিদার বাবু উপেনের জমি দখল করে নেয়। ভিটেছাড়া উপেন বাধ্য হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় সাধুর শিষ্য হয়ে। উভয় জায়গায় দরিদ্রের ওপর শোষকের অত্যাচার প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, 'ক' হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার বাবু সাহেব চরিত্রের শোষক মানসিকতার দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের মতিন 'দুই বিঘা জমির' শোষিত উপেনের সার্থক প্রতিনিধি, কারণ তারা দুজনই শোষিত।
দরিদ্র অসহায় লোকেরা সামান্য কিছু পেলেই খুশি হয়, আর বিত্তশালী ভূস্বামীরা যে সম্পদ আছে তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করতে চায়। এমনকি গরিবের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিতেও তারা দ্বিধা করে না।
উদ্দীপকের মতিনের ছোট্ট চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে 'ক' হাউজিং সোসাইটির বিশালাকার অ্যাপার্টমেন্ট। একদিন সকালে সে দেখে, তার দোকানটি অ্যাপার্টমেন্টের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে আটকে গেছে। মতিন বুঝতে পারে যে, তার পক্ষে আর কিছুই করার নেই। তার এত দিনের সম্বল হাতছাড়া হয়। এ শোষণের পরিণতিতে সে ফ্লাস্কে করে চা নিয়ে রাস্তায় নামে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে শোষক ও শোষিতের কথা। সমাজে একশ্রেণির লুটেরা বিত্তবান প্রবল প্রতাপ নিয়ে বাস করে। সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে তারা সম্পদশালী হয়। কবিতার দরিদ্র কৃষক উপেন ঋণের দায়ে সব হারিয়েছে, বাকি আছে মাত্র দুই বিঘা জমি। অথচ জমিদার তার বাগান বাড়ানোর জন্য সেই জমিরও দখল নিতে চায়। সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত সেই জমি উপেন দিতে না চাইলে জমিদার মিথ্যে মামলা দিয়ে ঐ জমি দখল করে নেয়। উদ্দীপকের মতিন ও 'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন দুজনেই শোষকদের হাতে শেষ সম্বল হারিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়। উপেন এবং মতিনের শোষিত হওয়ার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বিষয় অভিন্ন। কাজেই একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, উদ্দীপকের মতিন 'দুই বিঘা জমি' কবিতার শোষিত উপেনের সার্থক প্রতিনিধি।
'দুই বিঘা জমি' কবিতাটি পাঠের উদ্দেশ্য- শিক্ষার্থীদের শোষকশ্রেণির নিষ্ঠুর শোষণ ও গরিবদের দুর্দশা সম্পর্কে জানানো।
'চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর মরিবার মতো ঠাঁই' বলতে দুই বিঘা জমিই যে উপেনের শেষ সম্বল সে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন একজন দরিদ্র কৃষক। জমিদারের বাগানের পাশে তার দুই বিঘা জমি রয়েছে। এই জমি তার পৈতৃক ভিটা। তার সাত পুরুষের জন্মস্থান। জমিদার তার বাগান দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান করার জন্য উপেনের কাছ থেকে সেই জমি কিনে নিতে চায়। উপেন তখন জমিদারকে বলে যে, জমিদার তো ভূস্বামী তার ভূমির শেষ নেই কিন্তু এই দুই বিঘে জমিই তার শেষ সম্বল। তার সাত পুরুষের বসত ভিটের ঐটুকু ভূমিই তার শেষ আশ্রয়স্থল। তাই সে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!