নিরেট বা দৃঢ় অস্থির গঠনমূলক একককে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র বলে। নিরেট অস্থির ম্যাট্রিক্স কতগুলো স্তরে (৫-১৫টি) সাজানো থাকে। স্তরগুলোকে ল্যামেলি বলে। ল্যামেলি একটি সুষ্পষ্ট নালির চারদিকে 'চক্রাকারে বিন্যস্ত। কেন্দ্রীয় এ নালিকে হ্যাভারসিয়ান নালি বলে। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান নালি ও একে বেষ্টনকারী ল্যামেলির সমন্বয়ে একটি হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র গড়ে উঠে।
Related Question
View Allলিগামেন্ট হলো এমন এক ধরনের তন্তু যার মাধ্যমে অস্থিগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে।
উদ্দীপকের চিত্র-X হলো ঐচ্ছিক পেশি। যেসব পেশি দেহের অস্থি বা কঙ্কালের সাথে সংযুক্ত থাকে তাদেরকে বলা হয় কঙ্কাল পেশি বা ঐচ্ছিক পেশি। নিচে এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল পেশির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা খুব দ্রুত ও শক্তিশালী, তবে সংকোচন-প্রসারণ স্বতঃস্ফূর্ত বা ছন্দোবদ্ধ নয়। এ পেশির নিঃসাড়কাল স্বল্পস্থায়ী এবং সহজেই অবসাদগ্রস্ত হয়। এছাড়া গঠন বৈশিষ্ট্যে দেখা যায় প্রতিটি ঐচ্ছিক পেশিতন্তু বা পেশিকোষ সারকোলেমা নামক সূক্ষ্ম তন্তুময়, ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে। পেশিকোষে বা পেশিতন্তুর সারকোপ্লাজমে (সাইটোপ্লাজমে) অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া, গ্লাইকোজেন দানা, বহু সংখ্যক সংকোচন-প্রসারণশীল অনুদৈর্ঘ্য মায়োফাইব্রিল তন্তু এবং সাধারণত একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। মায়োফাইব্রিলগুলো অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক আমিষ দ্বারা গঠিত। মায়োফাইব্রিল তন্তু দ্বারা গঠিত। কতকগুলো পেশিগুচ্ছ সমান্তরালভাবে মিলিত হয়ে এক একটি পেশি গঠিত হয়।
উদ্দীপকের Y ও Z যথাক্রমে মসৃণ বা অনৈচ্ছিক পেশি এবং হৃদপেশি। উভয়ই অনৈচ্ছিক প্রকৃতির হলেও এদের মধ্যে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। নিচে এদের মধ্যকার, বৈসাদৃশ্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
হৃদপেশি পরিমিতভাবে দ্রুত ও ছন্দময়তার সাথে সংকুচিত-প্রসারিত হতে পারে কিন্তু ডানৈচ্ছিক পেশির সংকোচনের ক্ষমতা মন্থর। হৃদপেশির সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রিত হয় দশম করোটিক স্নায়ুর কার্ডিয়াক শাখার মাধ্যমে। অপরদিকে অনৈচ্ছিক পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রিত হয় স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুর মাধ্যমে। হৃদপেশি বেলনাকার, ক্ষুদ্র এবং শাখা-প্রশাষাযুক্ত হলেও অনৈচ্ছিক পেশি মাকু আকৃতির ও শাখা-প্রশাখাবিহীন। হৃদপেশিতে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক উপস্থিত থাকলেও অনৈচ্ছিক পেশিতে তা অনুপস্থিত। হৃদপেশি হৃদস্পন্দন ঘটায়। অপরদিকে অনৈচ্ছিক পেশি পরিপাকনালি, শ্বাসনালি, রেচন, জনননালি, ইত্যাদির পেশিসমূহের সংকোচন- প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে।
একটি জিন যখন একটি নন অ্যালিলিক জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয়, উক্ত ঘটনাই হলো এপিস্ট্যাসিস।
বুই মাছের হৃৎপিন্ডে সর্বদা যুক্ত রক্ত প্রবাহমান থাকে। যুক্ত রক্ত কখনোই বুই মাছের হূৎপিণ্ডে আসে না। হৃৎপিণ্ড থেকে যুক্ত রক্ত ফুলকায় পরিশোধিত হয়ে যুক্ত হয়ে দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়। আবার দেহের বিভিন্ন অংশ হতে শিরার মাধ্যমে যুক্ত রক্ত হূৎপিন্ডে ফিরে আসে। এই কারণে রুই মাছের হৃৎপিণ্ডকে শিরা হৃৎপিণ্ড বা ভেনাস হার্ট বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্রটিতে ঐচ্ছিক পেশি সর্বাধিক সক্রিয়। নিচে ঐচ্ছিক পেশির গঠন বর্ণনা করা হলো-
ঐচ্ছিক পেশির প্রতিটি পেশির কোষ লম্বা ও বেলনাকার। এদের দৈর্ঘ্য ১-৪০ মি. মি. ও প্রস্থ ০.০১০৪ মি. মি.। ১২-২০টি পেশি কোষ একত্রিতভাবে পেশি কোষগুচ্ছ গঠন করে। পেশিতন্তুর প্রতিটি গুচ্ছকে বলা হয় ফ্যাসিকুলাস। বহু 'ফ্যাসিকুলাস নিয়ে পেশি গঠিত হয়। অসংখ্য বেলনাকার পেশিকোষ নিয়ে ঐচ্ছিক পেশি গঠিত হয়। প্রতিটি পেশি কোষ সারকোলেমা নামক মেমব্রেন দ্বারা ঘেরা থাকে। সারকোলেমা সারকোপ্লাজমকে ঘিরে অবস্থান করে। সারকোলেমার নিচে কয়েক'শ ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। প্রতিটি পেশি কোষের সারকোপ্লাজমে অসংখ্য উপতত্ত্ব পরস্পর সমান্তরালভাবে সাজানো থাকে যা মায়োফাইব্রিল নামে পরিচিত। প্রতিটি মায়োফাইব্রিলে গাঢ় ও হালকা ধরনের সূক্ষ্মতত্ত্ব বা মায়োফিলামেন্ট থাকে। এরা পৃথক পৃথক ও পর্যায়ক্রমিকভাবে অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রোটিন নিয়ে গঠিত এবং তা গাঢ় রেখা রূপে থাকে। এ কারণে ঐচ্ছিক পেশি ডোরাকাটা দেখতে লাগে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
