শামসুর রাহমানের কবিতায় মধ্যবিত্ত নাগরিক জীবনের প্রত্যাশা, হতাশা, বিচ্ছিন্নতা, বৈরাগ্য ও সংগ্রাম সার্থকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
'সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল' বলতে পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে সম্ভ্রম হারানো সাকিনা বিবির জীবনে মহা দুর্যোগ নেমে আসাকে বোঝানো হয়েছে।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এদেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরেছেন। এ কবিতায় পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। তাদের সেই অত্যাচারের শিকার হয়েছে সাকিনা বিবি। স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য সাকিনা বিবির মতো গ্রামীণ নারীর সহায়-সম্বল-সম্ভ্রম বিসর্জিত হয়েছে। কবি এখানে সাকিনা বিবিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতনের দিকটি ফুটে উঠেছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। তারা এদেশের নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তারা স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাঙালির মন থেকে চিরতরে মুছে দিতে চেয়েছিল।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে ১৯৭১ সালের ১১ অক্টোবর ভারী অস্ত্র ও গোলা-বারুদ নিয়ে গাজীপুরা গ্রামে একদল মিলিটারির হত্যাযজ্ঞ চালানোর কথা বলা হয়েছে। তাদের অত্যাচার থেকে গ্রাম ছেড়ে পালাতে গিয়ে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়। উদ্দীপকের এই চিত্রটি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় প্রতিফলিত জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক নিয়ে এদেশের মানুষের ওপর দানবীয় অত্যাচার চালানোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি এখানে সাকিনা বিবির কপাল ভাঙার, হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়া, ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে কুকুরের আর্তনাদ, পিতা-মাতার লাশের উপর অবুঝ শিশুর হামাগুড়ি দেওয়া, সগীর আলী, কেষ্ট দাস, মতলব মিয়া, রুস্তম শেখ প্রমুখের মৃত্যুর কথা বলে পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মম অত্যাচারের বর্ণনা দিয়েছেন। এভাবে উদ্দীপকটি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকটি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার খণ্ডচিত্র মাত্র।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে মুছে দিতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা এদেশের মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। বাঙালিরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তাদের রুখে দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কিছু সদস্যের আক্রমণে গাজীপুরা গ্রামের মানুষের জীবনে নির্মমতা নেমে আসার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সেই হত্যাযজ্ঞের কথা ঐ গ্রামের বেঁচে যাওয়া মানুষেরা আজও ভুলতে পারে না। এই বিষয়টি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ করে। এ কবিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচার- নির্যাতনের দিকটি উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিষয়টি ছাড়াও কবিতায় স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এদেশের সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগের বিষয়, নারী নির্যাতন, শিশু ও বৃদ্ধের প্রতি নির্মমতার দিক প্রতিফলিত হয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় উদ্দীপকের বিষয় ছাড়াও স্বাধীনতার জন্য অধীর প্রতীক্ষা, রাইফেল কাঁধে তেজী তরুণ যোদ্ধার ঘুরে বেড়ানো, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত ঘোষণা হয়ে, নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে স্বাধীনতার আগমনের স্বপ্ন ইত্যাদি রয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!