জীবন প্রসারের বয়ঃসন্ধিকালকে অর্থাৎ ছেলেদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৬ বৎসর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১১ থেকে ১৫ বৎসর মধ্যবর্তী সময়কালকে 'সংকটকাল' বলা হয়।
ক্লিফোর্ড বিয়ার্সের মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের ৩টি প্রধান উদ্দেশ্য নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. মানসিক রোগ সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়ে মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের প্রতি সমাজের লোকের বিরূপ মনোভাব দূর করা।
২. মানসিক রোগীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং মানসিক রোগের যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে হাসপাতালের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং রোগীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তোলা।
নাঈমের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনে পিটুইটারি ও যৌন গ্রন্থিন্নয় ক্রিয়াশীল। নিম্নে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত শরীরবর্ধক হরমোন এবং গোনাডোট্রপিক হরমোন বয়ঃসন্ধিকালে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী। শরীরবর্ধক হরমোন দেহের উচ্চতা ও আকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং গোনাডোট্রপিক হরমোন যৌনগ্রস্থির কর্মকান্ডের উপর প্রভাব বিস্তার করে। গোনাডোট্রপিক হরমোনের প্রভাবে যৌন গ্রন্থির তৎপরতা বেড়ে যায়। যৌনগ্রন্থির কার্যকারিতার ফলে এর থেকে নিঃসৃত ছেলেদের ক্ষেত্রে এন্ড্রোজেন এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে এস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে বিভিন্ন যৌন বৈশিষ্ট্য যেমন- ছেলেদের ক্ষেত্রে কন্ঠস্বরের পরিবর্তন, দাড়িগোঁফ গজানো প্রভৃতি বিকাশ লাভ করে। এ সময়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে অতিরিক্ত লজ্জা, আবেগের আধিক্য, একাকী থাকার ইচ্ছা প্রভৃতি জন্মে।
উদ্দীপকে নাঈমের বয়স ১৩ এবং তার মুখে দাড়িগোঁফ উঠছে, গলার স্বরও পরিবর্তিত হচ্ছে। তার মধ্যে অতিরিক্ত লজ্জা ও একাকী থাকার ইচ্ছা প্রবল হয়ে উঠছে। তাই বলা যায়, তার এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনে পিটুইটারি ও যৌন গ্রন্থিদ্বয়ের প্রভাব ক্রিয়াশীল।
উদ্দীপকে অভীক ও আতিক এর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা'র আচরণ যথাক্রমে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অভীকের বাবা-মা তার সম্পর্কে বেশ সচেতন। তারা তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্য দেন। ভুল-ত্রুটি শুধরে দেন। কোনো অবস্থাতেই বিরক্তি প্রকাশ করেন না। তাই তার আচরণের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এক্ষেত্রে তার মধ্যে সাহায্য-সহযোগিতার মনোভাব, মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, আস্থাবান ও আশাবাদী মনোবৃত্তি, স্বাবলম্বী ও সহজে অন্যের সাথে মিশতে পারার বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশিত হবে।
পক্ষান্তরে, আতিকের বাবা-মা তার একগুঁয়ে স্বাধীনচেতা মনোভাবের কারণে সবসময় বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাই তার মধ্যে এরকম আচরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আতিকের বাবা-মা'র আচরণে তাদের সাথে আতিকের সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে তার মধ্যে পরনির্ভরশীলতা, অবাধ্যতা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেতে পারে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, অভীকের ক্ষেত্রে, তার বাবা-মা'র আবেগের ইতিবাচক এবং আতিকের ক্ষেত্রে তার বাবা-মা'র আচরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
Related Question
View Allবয়ঃসন্ধিকাল হলো প্রাক-তারুণ্যের সময়কাল যা দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ও যৌন পরিপক্বতার বিকাশকে চিহ্নিত করে।
বয়ঃসন্ধিকালে শিশুদের সঙ্গে বাবা-মায়ের আচরণ ইতিবাচক, গঠনমূলক ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।
বয়ঃসন্ধিকালে শিশুর প্রতি সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করে বাবা-মা। মনোবিজ্ঞানীদের মতে বাবা-মা এ সময়ে শিশুদের প্রতি তিন ধরনের আচরণ করতে পারে। যেমন- সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ ও সমর্থন তথা সন্তানদের খাওয়া-দাওয়া ও শারীরিক মঙ্গলের দিকে নজর দেবেন। সন্তানের প্রতি আবেগপ্রবণ হবেন তথা তাদের ভালোবাসবেন এবং তাদের বিপদে এগিয়ে আসবেন। সর্বশেষ পর্যায়ে বাবা-মা সন্তানদের সামাজিক শিক্ষা দিবেন এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে খাপ-খাইয়ে চলতে সহযোগিতা করবেন।
জাউদ্দীপকে রবির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বিদ্যমান।
জীবিকার নিমিত্তের জন্য অর্থনৈতিক প্রভাব বয়ঃসন্ধিকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এ সময়ে ছেলে-মেয়েরা অর্থনীতির কথা বিশেষভাবে চিন্তা করে; তারা ভাবে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। কোন পেশা নির্বাচন করলে সুখী হওয়া যাবে অথবা কোন বৃত্তি বাছাই করলে জীবনে সফলতা আসবে-এ সময়ে ছেলে মেয়েরা তা চিন্তা করে। উদাহরণস্বরূপ, যারা সাধারণ ছাত্রছাত্রী তারা মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করে জীবিকা নির্বাহ করবে; যারা ব্যাংক বিষয়ক কাজে বা হিসাবের কাজে নিজেদের নিবেদিত করতে চায় তারা ব্যবসায় শিক্ষাতে পড়াশোনা করবে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ছেলেমেয়ারা তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছার জন্য তারা ভাবতে থাকে। পারিবারিক দুরবস্থা ও আর্থিক অস্বচ্ছলতা বয়ঃসন্ধিকালের সময়ে ছেলেমেয়েদের নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে শেখায়।
প্রদত্ত উদ্দীপকে বর্ণিত রবির বয়স ১৪ বছর। সুতরাং রবি একজন কিশোর ও বয়ঃসন্ধিকালে অবস্থান করছে। তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে একটা ভালো চাকরি করে তার পরিবারের দুঃখ কষ্ট দূর করবে। এ থেকে রবির পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার চিত্র ফুটে উঠেছে। রবির মতো বয়ঃসন্ধিকালে প্রয়োজনীয় ও আকাঙ্ক্ষিত জিনিসের বস্তু বা অর্থের অভাব মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে অনেকে লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়ে। আবার অনেকে বিপথগামী হয়ে পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠে। তবে অনেকে এ সময়ে আদর্শ ব্যক্তিকে অনুসরণ করে ইতিবাচক জীবনের স্বপ্ন দেখে। মা-বাবার পরামর্শ এক্ষেত্রে ছেলেমেয়েকে বিশেষভাবে সহায়তা করে। অনেক ছেলেমেয়েকে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে বয়ঃসন্ধিকালেই সংসারের হাল ধরতে হয়। আবার অনেককে এ বয়স থেকেই পেশা নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা চিন্তা করতে হয় যা উদ্দীপকে রবির ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে।
নীল ও ডলির আচরণ পরিবর্তনের কারণ বয়ঃসন্ধিকাল হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে সে পরিবর্তন ভিন্ন হয়' প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ হয়েছে বলে মনে আমি মনে করি।
বয়ঃসন্ধিকালে সবচেয়ে বেশি দৈহিক বৃদ্ধি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অনুপাতে পরিবর্তন সংঘটিত হয়। এ সময়ে ছেলেদের অন্ডকোষ বৃদ্ধি ঘটে, বগল ও গুপ্তস্থানে লোমের বৃদ্ধি, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, দাড়ি জন্মায় এবং প্রথম বীর্যপাত শুরু হয়। অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তন বৃদ্ধি পায়, গুপ্তস্থানে লোম ওঠে, ঋতুস্রাব শুরু হয় ও অন্যান্য লোমের বৃদ্ধি ঘটে। এ সময়ে ছেলেমেয়েরা মা-বাবা, ভাইবোন, শিক্ষক ও সঙ্গীদের কাছ থেকে কম সমবেদনা পায়। এ সময়ে ছেলেমেয়েরা একাকী থাকতে চায়, লাজুক হয় এবং আত্ম-প্রত্যয়ের অভাব থাকে।
প্রদত্ত উদ্দীপকের বর্ণনায় নীলের বয়স ১৪ বছর এবং তার বোন ডলির বয়স ১২ বছর। বয়ঃসন্ধিকালের বয়ক্রমানুযায়ী তারা উভয়েই বয়ঃসন্ধিকালে অবস্থান করছে। নীলের কন্ঠস্বরের হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া; এজন্য কথা বলতে লজ্জা পাওয়া এগুলো বয়ো:সন্ধিকালে ছেলেদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা। অন্যদাকে হঠাৎ করে শারীরিক পরিবর্তন আসলে ডলির মতো অনেকেই মন খারাপ করে একা বসে থাকে; সময় মতো খাওয়া-দাওয়া করে না এবং বিষণ্ণ থাকে। এক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক লোকজন ও মা-বাবার সহযোগিতাই ছেলেমেয়েদের এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ-খাওয়াতে সহযোগিতা করে। তাহলে দেখা যায়, নীল ও ডলির আচরণ পরিবর্তনের কারণ হলো বয়ঃসন্ধিকাল, কিন্তু সে পরিবর্তন বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে ভিন্ন ধরনের।
উদ্দীপকের নীল ও ডলির আচরণ পরিবর্তনের কারণ এক হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে ভিন্ন। তাই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয় ১০ অক্টোবর।
বেকারত্ব হীনমন্নতা ও হতাশা সৃষ্টি করে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি • ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি। শিক্ষিত যুব সমাজের প্রতি পরিবার ও সমাজের চাওয়া বর্তমানে অনেক বেশি। কিন্তু তারা যখন যোগ্যতানুযায়ী কর্মপায় না, তখন তাদের মাঝে হতাশা দেখা দেয়। এই হতাশা থেকে সে নানা রকম অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। ফলে পারিবারিক অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং শিশু ও অন্যান্য সদস্যদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এভাবে বেকারত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!