যেসব মনোসামাজিক সমস্যা আচরণে প্রকাশ পায় সেগুলো বহির্মুখী মনোসামাজিক সমস্যা। যেমন- মাদকাসক্তি।
বিষণ্ণতা এক ধরনের মানসিক অবস্থা যেখানে মনের অসুখী ও একঘেয়েমির অনুভূতি থাকে।
দৈনন্দিন জীবনে নানা ঘটনায় মন খারাপ হওয়া এবং কাজ করতে ইচ্ছা না করা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন এরকম অবস্থা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং তা শরীরকে প্রভাবিত করে তখন সে অবস্থাকে বিষণ্ণতা বলে।
আদির আচরণ পরিবর্তনের কারণ কৈশোরকাল।
সাধারণত ১১ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সময়কে কৈশোরকাল বলে।
শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়সে যাওয়ার সময় হলো কৈশোরকাল। কৈশোরে কোনো ছেলে বা মেয়ে আইনবিরোধী কাজে লিপ্ত হলে তাদের কিশোর অপরাধী বলে। যেকোনো অগ্রহণযোগ্য কাজ আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ না হলেও তা কিশোর অপরাধের মধ্যে পড়ে। যেমন- কারো জিনিস অন্যায়ভাবে নিজের দখলে রাখা, অন্যের সম্পত্তির ক্ষতি করা ইত্যাদি। অনেক ধরনের অপরাধী আছে যারা কিশোর বয়সে এসে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। তারা সমবয়সী দলের চাপে অপরাধী হয়। সমবয়সীদের সাথে থেকে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। এ ধরনের ছেলেমেয়েদের মা-বাবা সন্তান পরিচালনায় সচেতন নয়। মধ্য কৈশোরে এসব ছেলেমেয়েদের অপরাধের মাত্রা খুব বেশি থাকে।
১৩ বছর বয়সী আদি একজন কিশোর। সে নিয়মিত স্কুলে যেত এবং পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী ছিল। এক পর্যায়ে স্কুলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন বয়সের ছেলেদের সাথে সে মিশতে শুরু করে। সে খারাপ সঙ্গীদলে মিশে রাস্তায় ঘোরাফেরা এবং ধূমপান করে।
রেবার মধ্যে সংঘটিত সমস্যার কারণ হলো নেতিবাচক মানসিক চাপ।
মানুষের মনের মধ্যে এমন কিছু চাপ মাঝে মাঝে সৃষ্টি হয় যা স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে মনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এটি নেতিবাচক চাপ। এই চাপ আমরা সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমাদের স্বাভাবিক জীবনে এই চাপ বাধা সৃষ্টি করে বা ছন্দপতন ঘটায়। নেতিবাচক চাপের ফলে বুক ধড়ফড় করা, হাত-পা কাঁপা, উত্তেজনাবোধ, আচরণে বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ মেয়াদি ও তীব্র মানসিক চাপ শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যেমন- হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্মৃতি শক্তি হ্রাস, ক্ষুধামন্দা, নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি। কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা বা দুঃসংবাদ, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, দরিদ্রতা, নিরাপত্তার অভাব, সামাজিক বৈষম্য, নৈতিকতার অবক্ষয়, ইচ্ছা পূরণ না হওয়া, ক্রমাগত কাজের চাপ, পরীক্ষার সময় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা, সবসময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকা ইত্যাদি কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। কিশোরী রেবার বাবা-মা চাকরিজীবী। বাড়িতে সে প্রায়ই একা থাকে। কিছুদিন যাবত সে সামান্য কথায় রেগে যায় এবং রাতে একা একা পায়চারি করে। নেতিবাচক মানসিক চাপের ফলেই তার এরকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুতরাং, রেবার স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটার কারণ হলো মানসিক চাপ।
Related Question
View Allকোনো সমস্যা যেন উদ্ভব না হয় তার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
কৈশোরে বিষণ্ণতাজনিত কারণে খাবারে অনীহা আসে।
কৈশোরে অতিরিক্ত কঠোর শাসন, সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের অবনতি, বাবা-মায়ের কলহ, পড়াশোনায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণ থেকে যে বিষণ্ণতা আসে তা খাবারে অনাসক্তির অন্যতম কারণ।
ইমন কৈশোরকালে অবস্থান করছে।
ইমন মাঝে মাঝে স্কুল পালায় ও ক্লাসে অমনোযোগী থাকে। তার বয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েরাও এ বয়সে নানা কারণে অপরাধী হয়ে ওঠে। এর কারণগুলো হলো-
১. পরিবারে বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ শিশুদের মনে বিষণ্ণতা তৈরি করে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলে।
২. পিতামাতার কঠোর শাসন, অতিরিক্ত ভালোবাসা, অযত্ন, অবহেলা, ইত্যাদি।
৩. পড়াশোনায় ব্যর্থতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, সমবয়সীদের প্রভাব।
৪. পরিবারে নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলার অভাব হলে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, পিতামাতার সঠিক পদ্ধতিতে সন্তান পরিচালনা, ভগ্ন পরিবার, পারিবারিক বন্ধনের অভাবই এ বয়সী ছেলেমেয়েদের অপরাধী হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ।
ইমন ১৩ বছর বয়সী কিশোর। তার বাবা-মায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় তারা দুজন আলাদা বসবাস করেন। ফলে ইমন বাবা-মায়ের অবহেলায় বেড়ে উঠছে। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নিয়ম শৃঙ্খলার অভাবে সে স্কুলে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। নিম্নলিখিত উপায়ে তার অপরাধ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। যেমন-
১. ইমনের সাথে তার মা-বাবার বন্ধন দৃঢ় করে।
২. পরিবারের সবার মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করে।
৩. পরিবারের ভাঙ্গন রোধ করে।
৪. ইমনের বাবা-মার মধ্যে সমঝোতার সম্পর্ক গড়ে তুলে।
৫. ইমনের বাবা-মার ইমনের প্রতি আরো যত্নশীল হওয়ার মাধ্যমে।
৬. তার স্কুলে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না তা খোঁজ নেওয়া ও প্রয়োজনে শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করে।
এ সকল বিষয় ছাড়াও ইমনেরও কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। যেমন- ভালো বন্ধু দল নির্বাচন, নিয়ম ভঙ্গকারীকে খারাপ বন্ধু হিসেবে চিনে নেওয়া ইত্যাদি।
কোনো সমস্যা যেন উদ্ভব না হয় তার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
কৈশোরে বিষণ্ণতাজনিত কারণে খাবারে অনীহা আসে।
কৈশোরে অতিরিক্ত কঠোর শাসন, সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের অবনতি, বাবা-মায়ের কলহ, পড়াশোনায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণ থেকে যে বিষণ্ণতা আসে তা খাবারে অনাসক্তির অন্যতম কারণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!