বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ অনুযায়ী বিয়ের জন্য আইন অনুমোদিত বয়সের চেয়ে একজন বা উভয়ই যদি কম বয়সী হয় তাহলে সে বিয়েকে বাল্যবিবাহ বলে।
বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। দারিদ্র্যের কারণে পিতা তার কন্যা সন্তানের জীবনযাপনের ব্যয়ভার বহন করতে অসমর্থ হন। তাই দরিদ্র পিতা দ্রুত মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে বাল্যবিবাহের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
ফারহানা জীবনে যে সামাজিক সমস্যার শিকার তা হলো বাল্যবিবাহ। আর সমাজে বাল্যবিবাহের প্রভাব সবসময়ই নেতিবাচক।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ অনুযায়ী আমাদের দেশে মেয়েদের বিয়ের জন্য আইন অনুমোদিত বয়স হলো ১৮ বছর। কিন্তু ফারহানাকে ১৪ বছর বয়সে তার বাবা-মা বিয়ে দিয়ে দেয়, যা বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত।
বাল্যবিবাহের ফলে সমাজে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন-আমাদের দেশে মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে ১৮ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর বেঁধে দেওয়া হলেও এর পূর্বেই ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েদের মানসিক ও শারীরিক পরিপক্কতা আসার আগেই তারা বাবা, মা হয়ে যায়। এতে কিশোরী মেয়েটি শারীরিকভাবে পুষ্টিহীনতার শিকার হয়ে দুর্বল ও পুষ্টিহীন শিশুর জন্ম দেয়। ফলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশিত সমস্যা তথা বাল্যবিবাহ সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একাধিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
বাল্যবিবাহ সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি শান্তি ও জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করলে, একমাস কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দণ্ডিত হবে। এ আইন অনুযায়ী পিতা-মাতা, অভিভাবক বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো বাল্যবিবাহের অনুষ্ঠান সম্পাদন বা পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়া বাল্যবিবাহ সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের ফারহানাকে ১৪ বছর বয়সে তার মা-বাবা বিয়ে দেয়, যা. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ অনুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। বাল্যবিবাহের নানারকম নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান থাকায় রাষ্ট্রীয়ভাবে বাল্যবিবাহ সমস্যা সমাধানের জন্য বেশকিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
উল্লিখিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাল্যবিবাহ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
Related Question
View Allএথেন্সে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে অর্থসম্পদ নিয়ে যেত।
কন্যা সন্তানকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কন্যাসন্তান শিক্ষিত হলে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে। নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক এমনকি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
জাহিদের বাবা-মায়ের প্রস্তাবটি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা যৌতুক প্রথাকে ইঙ্গিত করে।
যৌতুক একটি প্রাচীন প্রথা। প্রাচীন চীন ও এথেন্সে এ প্রথা চালু ছিল। খৌতুক হচ্ছে বিয়ের সময় বরকে প্রদত্ত অর্থ, সম্পত্তি ও নানা ধরনের মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম। বাংলাদেশের বিবাহ আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।
উদ্দীপকের জাহিদের বাবা-মা তার বিয়েতে নানা উপহারসামগ্রী ও টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এখানে ছেলেপক্ষকে উপহার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি পরোক্ষভাবে যৌতুক প্রথাকেই সমর্থন করে।
যৌতুক বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম একটি প্রথা। আমরা এ জঘন্যতম সামাজিক প্রথা রোধে যেসব পদক্ষেপ নিতে পারি তা হলো-
প্রথমত, পরিবারের কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শিক্ষিত হয়ে মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হলে যৌতুকের অভিশাপ তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারীসমাজ এ জঘন্য প্রথার কারণে প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে বা তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। তাই এ প্রথার বিরুদ্ধে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মনে যৌতুকবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না। এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন হয় ১৯২৯ সালে।
যৌতুক নিরোধের জন্য বাংলাদেশে ফৌজদারি আইন প্রচলিত আছে।
যৌতুক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে 'যৌতুক নিরোধ আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুক প্রথা দমনের জন্য ১৯৮৩ সালে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। সবগুলো আইনেই অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!