১৭৬০ সাল হতে ১৮৫০ সালের মধ্যে প্রথমে ইংল্যান্ডে পরবর্তীতে ইউরোপ ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে উৎপাদন, প্রযুক্তি, যাতায়াত ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়। এ পরিবর্তনের ফলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও মানবজীবনে নতুন নতুন জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এ সমস্যা মোকাবেলায় বিজ্ঞানসম্মত উপায় হিসেবে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির উদ্ভব হয়। 

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

COS-এর পূর্ণরূপ হলো Charity Organization Society |

উত্তরঃ

বিভারিজ রিপোর্ট হলো ১৯৪২ সালে স্যার উইলিয়াম বিভারিজ কর্তৃক প্রণীত ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি রিপোর্ট।

বিভারিজ রিপোর্টে অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, মলিনতা ও অলসতাকে মানবসমাজের অগ্রগতিতে পাঁচটি প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সমস্যাগুলো সমাধানে রিপোর্টে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়। এই রিপোর্টের লক্ষ্য ছিল সমাজ হতে অভাব দূর করে ফলপ্রসূ সামাজিক নিরাপত্তা পদ্ধতি প্রচলন করা।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত আমূল পরিবর্তনকে শিল্প বিপ্লব নামে আখ্যায়িত করা হয়।

শিল্প বিপ্লব হচ্ছে কৃষিভিত্তিক, হস্তশিল্পনির্ভর ক্ষুদ্রায়তন উৎপাদন ও অর্থনীতি থেকে শিল্প ও যন্ত্রচালিত বৃহদায়তন উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া; যা অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে শুরু হয়। এর প্রভাবে সমাজের সকল স্তরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ ঘটে এবং এর প্রভাব মানবসভ্যতার ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্ববহ।

উদ্দীপকে ১৭৬০ থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত সমগ্র ইউরোপ ও তার সূত্র ধরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে উৎপাদন, প্রযুক্তি, যাতায়াত ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সূচিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই - পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়েছিল ইংল্যান্ড থেকে। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে শিল্প বিপ্লবের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে এর ফলাফলও তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, শিল্প বিপ্লব আর্থ-সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এর ফলে অর্থব্যবস্থা দ্রুত সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পায়ন শিল্প বিপ্লবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর শিল্পায়নের ফলে শহরায়ন প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে, যার ফসল আজকের শহরকেন্দ্রিক সভ্যতা। তবে এর ফলে মানবজীবনে কিছু নতুন সমস্যারও উদ্ভব ঘটে, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট আমূল পরিবর্তনের কথাই বলা হয়েছে।

উত্তরঃ

শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট নানাবিধ সমস্যার প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি হিসেবে সমাজকর্ম পেশার উদ্ভব ও বিকাশ সাধিত হয়।
শিল্প বিপ্লব মানবসভ্যতায় এক আকস্মিক ও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে, যা মানুষকে বস্তুগত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দিলেও সমাজজীবনে বহুমুখী জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে। এসব সমস্যার সমাধানে একটি বিজ্ঞানসম্মত কার্যকর পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, যার সূত্র ধরে সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটে।

শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধন করলেও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতার মতো ভয়াবহ সমস্যারও সৃষ্টি করে। এ - ধরনের সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই সাধারণত সমাজের অন্যান্য নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই শিল্পবিপ্লবোত্তর সমাজে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে স্বাভাবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আত্মনির্ভরশীলতার প্রতি গুরুত্বারোপ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষিতে সমাজকর্মের মতো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির আবশ্যকতা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া হিসেবে সমাজকর্মের কার্যকারিতা অপরিহার্য হতে শুরু করে। আর এ কারণেই শিল্প-বিপ্লবোত্তর সময়ে সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রধান সহায়ক হয়ে ওঠে সমাজকর্ম। পরিশেষে বলা যায়, শিল্প বিপ্লব সমাজকর্মের উদ্ভব ও বিকাশে প্রধান প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

124

Related Question

View All
উত্তরঃ

হেনরীয় দরিদ্র আইন প্রণয়ন করেন ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি।

456
উত্তরঃ

আত্মনির্ভরশীলতা বলতে যেকোনো বিষয়ে ব্যক্তির আত্মনিয়ন্ত্রণকে বোঝায়।
সমাজকর্মে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সাহায্যার্থীকে এমনভাবে সাহায্য করা হয় যেন সে নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে পারে। সক্ষমতা অর্জন করতে পারাই আত্মনির্ভরশীলতা। এ গুণ অর্জনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে।

435
উত্তরঃ

উদ্দীপকের রফিক সমাজকর্ম পেশার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সমাজকর্ম হলো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। এ পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে তারা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকের রফিকও তাই করেছেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কারখানায় কাজ করার সময় আতিক সাহেবের হাত কেটে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা খরচ হয় যা তার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তার সমস্যা সমাধানে রফিক এগিয়ে আসেন। তিনি নিজের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে আতিক সাহেবকে সাহায্য করেন। তিনি আইনের সহায়তায় কারখানা থেকে তাকে ক্ষতিপূরণও পাইয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ রফিক সমাজকর্মীর মতো সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে আতিক সাহেবের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রফিক সমাজকর্ম পেশার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

218
উত্তরঃ

আতিকের সহায়তায় ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া হয়েছে যা পরবর্তী সময়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইংল্যান্ডে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার স্যার উইলিয়াম বিভারিজকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। সার্বিক বিশ্লেষণে- এ কমিটি ১৯৪২ সালে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করে যা বিভারিজ রিপোর্ট নামে পরিচিত। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তায় সামাজিক বিমা, পারিবারিক ভাতা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বা শিল্প দুর্ঘটনা বিমা, সরকারি সাহায্য, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি প্রভৃতি প্রণয়ন করা হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য, বার্ধক্য ও পড়া বিমা; শিশু জন্ম-মৃত্যুর জন্য বিশেষ ভাতা, পরিবারে দুইয়ের অধিক ১৮ বছরের কমবয়সী সন্তানের জন্য ভাতা, শিল্প দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ, দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কাজের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রণয়নের ফলে সমাজের দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্ররা সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেতে থাকে। অনেকের কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় জনগণের চিকিৎসার চাহিদাও পূরণ হয় যা জনসাধারণের সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এভাবে বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এর ফলে বিশ্বে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ধারণা সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, আতিক সাহেব কারখানায় কাজ করতে গিয়ে আহত হন। তিনি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে রফিক তাকে সহযোগিতা করেন। এ সময় রফিক ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কারখানা থেকে' আতিক সাহেবকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেন। আর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রেখেছিল যা দেখে বিশ্বের অন্য দেশগুলো অনুপ্রাণিত হয়। এর ফলে বিশ্বে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি রচিত হয়। তাই বলা যায়, আতিকের সহায়তায় যে কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া হয়েছে সেটি পরবর্তী সময়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে

204
উত্তরঃ

সামাজিক নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধন।
যেকোনো সমাজেই দারিদ্রদ্র্য বিমোচন, নারীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য এবং মানসিক অসুস্থতার মতো সামাজিক সমস্যাসমূহ দূর করা। তাই বলা যায়, সামাজিক নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন।

363
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews