নিহিলিজম' বা নাস্তিবাদ হচ্ছে একটি দার্শনিক মতবাদ যার অর্থ প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় ও নৈতিক বিশ্বাসের সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান।
উদ্দীপকে সাঁওতালদের সংগ্রামের সাথে বিশ শতকের প্রথমদিকে শিয়ায় সংঘটিত বলশেভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে।
৯১৭ সালে সংঘটিত বলশেভিক বা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বিশ শতকের তিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন (১৯১৫- ৮) পশ্চিম ইউরোপ যখন এক বিরাট পরিবর্তনের সম্মুখীন হয় ঠিক দিনই রাশিয়ার এ বিপ্লবের সূচনা হয়। এ বিপ্লবের পিছনে নানাবিধ রিণ বিদ্যমান। ক্রিমিয়ার যুদ্ধ, জাপান যুদ্ধ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রারম্ভে রাশিয়ার একাধিক বিপর্যয় জনসাধারণের নিকট জারতন্ত্রের অসারতা প্রতিপন্ন করেছিল। ফলে সেদেশে অভ্যন্তরীণ বিপ্লব 'অনিবার্য হয়ে ওঠে। এছাড়া ১৯০৫ সাল থেকে ঘটিত শ্রমিক অসন্তোষ, রাশিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট, জার্মানির সাথে অপমানকর সন্ধি, মান্ধাতা আমলের শিল্পকারখানা ও কৃষি ব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট খাদ্যাভাব এবং সর্বোপরি সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের প্রভাবে একসময় রুশবিপ্লব অনিবার্য হয়ে ওঠে। মূলত স্বৈরাচারী জার সরকারের নির্যাতন, শোষণ ও বঞ্চনায় দীর্ঘকাল ধরে রুশ জনগণের হৃদয়ে যে জারবিরোধী মনোভাব পুঞ্জীভূত হয়েছিল তা উপযুক্ত পরিস্থিতির কারণ বিপ্লবে বিস্ফোরিত হয়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত সংগ্রাম অর্থাৎ বলশেভিক বিপ্লবের প্রভাব বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
রাশিয়ায় সংঘটিত ১৯১৭ সালের এ ঘটনা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাশিয়ার শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের নেতা লেনিন রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে যে আলোড়ন তুলেছিলেন তাতে আলোড়িত হয়েছিল গোটা বিশ্বের রাজনীতি। সমাজ বিকাশের ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর জাতিসমূহ বিংশ শতাব্দীতে সমাজতন্ত্রের ভাবধারায় আলোড়িত হয়েছিল। বুশ বিপ্লবের পর ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশসহ এশিয়ার চীন, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং লাতিন আমেরিকার কিউবায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল পৃথিবীর সবদেশ ও জাতি রুশ বিপ্লব দ্বারা প্রভাবিত হবে। কিন্তু রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। এ বিপ্লব মানুষের সামগ্রিক চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। তদুপরি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি। তবে রুশ বিপ্লবের প্রভাবে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে ঔপনিবেশবাদ ভেঙে পড়ে এবং জাতীয় সংগ্রাম তীব্রতর হয়েছিল। বিভিন্ন দেশে সমাজতন্ত্রের বেশকিছু মর্মবাণী ধারণ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কল্যাণকামী রাষ্ট্রের বিস্তার ঘটেছে। এভাবে রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব সারা বিশ্বের রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল।
Related Question
View AllUtopia গ্রন্থের লেখক হলেন টমাস ম্যুর।
রাশিয়ার সমাজ বরাবরই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। অভিজাত শ্রেণি ও ভূমিহীন শ্রেণি। আর এ অভিজাত শ্রেণির প্রধান ছিলেন জার। তিনি অনেকটা স্বৈরাচারী শাসকের বেশে আবির্ভূত হন। দেশের সকল জমিই থাকত জারের অধীন। তিনি সকল ক্ষেত্রে অবস্থান অধিপতি হিসেবে পরিগণিত হন।
উদ্দীপকে যে বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে তা ইতিহাসে বলশেভিক বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ সম্রাট তথা জার ও অভিজাতদের হাতে শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণি এবং সাধারণ সৈনিক শ্রেণির মানুষের ন্যূনতম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। এই অবস্থা থেকে ১৮৯৮ সালে বিপ্লবী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক এ সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে লেনিন বিপ্লবের জন্য তার দলকে প্রস্তুত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও সামরিক দুর্ভোগ রাশিয়ার কৃষক, শ্রমিক ও সৈনিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে লেনিনের নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষক ও সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে এবং অবশেষে ১৯১৭ সালে বলশেভিক বা বুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে দেখা যায়, শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের পিছনে অনেক মহান নেতার অবদান ছিল। 'ক' রাষ্ট্রের মতো বলশেভিক বিপ্লবেও অনেক মহান নেতা অবদান রেখেছেন। বলশেভিক বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল কার্ল মার্কসের লেখনি। এছাড়া লেনিন ট্রটস্কি, লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
সুতরাং বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের বিপ্লবের সাথে বলশেভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, উক্ত বিপ্লব তথা বলশেভিক বিপ্লব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভার বিস্তার করেছিল।
সারা পৃথিবীর নির্যাতিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব একটি আদর্শ হিসেবে পরিগণিত। 1 বলশেভিক বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উপনিবেশের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই শুরু করে। এ বিপ্লব এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার পরাধীন দেশগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ক্রমান্বয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম। বিশ শতকের সারা পৃথবীর স্বাধীনতার লড়াই আর জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। মূলত গোটা পৃথিবীর কৃষক ও শ্রমিক সমাজকে শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে উৎসাহিত করে বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের - ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে চীনে সংঘটিত হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন একটি প্রধান রাজনৈতিক স্রোতে পরিণত হয়। পৃথিবীব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত ছিল বলশেভিক বিপ্লব।
সুতরাং বলা যায়, এই বিপ্লব শুরু রাশিয়াতেই নয় সারা পৃথিবীর রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিল।
Mein Kampf এডলফ হিটলারের রচিত গ্রন্থ।
কার্ল মার্কসকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়। সমাজতন্ত্রকে একটি বিজ্ঞানসম্মত রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত করার জন্য তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, চরম দারিদ্র্য কিছুই তাকে তার সংগ্রাম থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। কার্ল মার্কসের সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Das Kapital. এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তার লেখনীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯১৭ সালে সংঘটিত হয় রুশ বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লব। পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর এসব কারণেই - কার্ল মার্কস বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে আছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!