'১৯৭১' উপন্যাসে কৈবর্ত জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বাঙালি জাতীয়তাবাদীর চেতনার বহিঃপ্রকাশ। বক্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একক কোনো গোষ্ঠীর যুদ্ধ নয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণেই সংঘটিত হয়েছে এই যুদ্ধ। পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর অগণিত মানুষকে হত্যার নৃশংসতার পরই আমরা পেয়েছি চূড়ান্ত বিজয়। তবে স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতিকে রক্তগঙ্গার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণেই এই বিজয়। '১৯৭১' উপন্যাসেও লেখক জাতভেদাভেদ ভুলে মুক্তিসংগ্রামের দৃশ্যপট অঙ্কন করেছেন। নীলগঞ্জ গ্রামের কৈবর্তপাড়াকে করেছেন মিলিটারির মূল আকর্ষণের জায়গা। কারণ তাদের কাছে পূর্ব থেকেই তথ্য ছিল মুক্তিবাহিনীকে কৈবর্তবাসীরা আশ্রয় দিয়েছে। ফলে সর্বদা ভীতি ও জ্বালাও পোড়াও নীতির কবলে পড়ে তাদের জীবন বিপন্ন হয়। তারা তাদের আশ্রয়স্থল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। অবশ্য উপন্যাসের শেষাংশে আমরা জানতে পারি, কৈবর্তবাসীরাই আশ্রয়, সেবা ও খাবার দিয়ে মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করেছে।

'১৯৭১' উপন্যাসে মিলিটারি নীলগঞ্জে প্রবেশের প্রথম পর্যায়েই চিত্রা বুড়ির ভয়ের কথা বলা হয়েছে। এই ভয় আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েই। নিজ গোত্রের মানুষকে বাঁচাতে প্রথমে তাদের খবর দেওয়ার কথা বলা হলেও উপন্যাসের শেষাংশে আমরা জানতে পারি, আসলে ছয়-সাতজন মুক্তিসেনা কৈবর্তপাড়ায় ছিল সেবা নিতে। সুতরাং বুড়ি মূলত মুক্তিবাহিনীকে খবর দিতেই কৈবর্তপাড়ায় গিয়েছে একথা বোঝা যায়। আবার কৈবর্তদের দ্রুত সবকিছু গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে। অতি সুচতুর এই জেলে সম্প্রদায়ের মানুষগুলো তাদের নৌকা ও ঘরের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেরিয়ে যায় পাড়া থেকে। কারণ একটাই, মিলিটারি তাদের পাড়ায় তান্ডব চালাবে মুক্তিবাহিনী ধরতে। জঙ্গলা মাঠে মুক্তিবাহিনীকে খাবার পৌছে দেওয়ার মতো মহৎ কাজও করে কৈবর্তরা। উপন্যাসে সবকিছুই নাটকীয়ভাবে ঘটতে থাকে। সবকিছুই যেন সন্দেহ কিন্তু সন্দেহই যে বাস্তবসত্য তা শেষাংশে প্রমাণিত হয় রফিক ও মেজরের কথোপকথনে। তাইতো মেজর এজাজের নির্দেশে কৈবর্তপাড়ায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। কৈবর্তদের এরূপ আচরণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, কোনো বিশেষ পেশার বা জাতিগোষ্ঠীর নয় বরং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনারই বহিঃপ্রকাশ হয়েছে কৈবর্তদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবে।

139

Related Question

View All
উত্তরঃ

"প্রাণ বাঁচানোর জন্য অনেক সময় এ জাতীয় কথা বলা হয়।"- উক্তিটি রফিক মেজর এজাজকে বলেছে। মুক্তিবাহিনীরকে নীলগঞ্জ গ্রামের লোকজন সহায়তা করেছে কি না মেজর জয়নাল মিয়ার কাছে তা জানতে চান। উত্তরে জয়নাল মিয়া জানায় তারা মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করেছে জঙ্গলা মাঠে অবস্থানকালীন সময়ে। তাদের খাদ্য, আশ্রয় ও তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। কিন্তু সকল তথ্য মূলত মিথ্যা বলে দাবি রফিকের। কারণ মেজর জয়নালকে মেরে ফেলবে সেই ভয়েই সে মেজরকে এমন ভ্রান্ত তথ্য দেয়। অর্থাৎ প্রাণ বাঁচানোর জন্য এমন ভ্রান্ত তথ্য দেয় বলে রফিকের দাবি।

68
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews