হুমায়ূন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের উপরে যে কয়েকটি উপন্যাস, রচনা করেছে সেগুলোর মধ্যে '১৯৭১' উপন্যাসটি অন্যতম। এ উপন্যাসে মানবসৃষ্ট বিপর্যয় তথা পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক সৃষ্ট অরাজক পরিবেশের বর্ণনার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালবৈশাখিরও বর্ণনা রয়েছে। সেই ঝড়ে বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে মীর আলি ও তার পরিবার। উপন্যাসের এই দুই বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে মীর আলি হয়ে উঠেছে মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক।
প্রথমে কালবৈশাখির আঘাত আসে বদিউজ্জামানের বিয়ের সময়। ঝড়ে গ্রামে কারও কোনো ক্ষতি না হলেও তার ঘরটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে যুদ্ধ চলাকালে যে কালবৈশাখির ঝড় হয় সেখানেও গ্রামের কারও কোনো ক্ষতি না হলেও তার টিনের চালা উড়ে যায়। বৃদ্ধ মীর আলির উপর নেমে আসা বারবার বিপর্যয় মিশে যায় ১৯৭১ সালের অন্যায় যুদ্ধের সঙ্গে।
প্রাকৃতিক পীড়নের পাশাপাশি মেজর এজাজ আহমেদের প্রযোজনায় অধিকতর বিপর্যয়কর যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে তার জোয়ান ছেলে ঘরে ফিরে আসেনি, ফিরে আসার সম্ভাবনাও তিরোহিত; সেখানে মীর আলির পক্ষে সামলে ওঠার আর কোনো আশা থাকে না। ঝড় কবলিত মীর আলিকে তাই একাত্তরের অন্যায় সময়ে সংঘটিত মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হিসেবে পড়াই সংগত।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, '১৯৭১' উপন্যাসে ঝড় কবলিত মীর আলি একাত্তরের অন্যায় যুদ্ধে সংঘটিত মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক।
Related Question
View Allগভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য মীর আলি ছেলের অপেক্ষা করতে করতে একসময় বিছানাতেই প্রস্রাব করে ফেলে। এতে বিছানার একাংশ ভিজে যায়। এর আগে কখনই তার সাথে এমন ঘটেনি। যার ফলে মীর আলি অত্যন্ত বিচলিত বোধ করে। মীর আলি সত্তর বছর বয়সি বৃদ্ধ মানুষ। তার কাছে বুড়ো বয়সের সবচেয়ে যন্ত্রণা রাত-দুপুরে বাইরে যেতে হয়। কিন্তু সে একা একা যেতে পারে না। অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়। এমনই একদিন গভীর রাতে তার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। শুরুতে তার পুত্রবধূ অনুফা তাকে সাহায্য করে এবং সে বাইরে যায়। কিন্তু কিছু সময় পর তার আবার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। ছেলেকে ডাকলেও সে আসতে দেরি করায় একসময় মীর আলি অজান্তেই বিছানায় মূত্রত্যাগ করে। আর এটাই তাকে অত্যন্ত বিচলিত বোধ করায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!