'১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে বিধৃত হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা যুদ্ধকালীন তাদের বর্বরতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়। '১৯৭১' উপন্যাসের আখ্যানভাগে দেখা যায়, নীলগঞ্জ এক প্রত্যন্ত অঞ্চল। একদিন পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসার মেজর এজাজ তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে নীলগঞ্জে আসে। গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে একটা বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে পাকিস্তানিরা মুসলমানদের কিছু করে না। তাই তারা গ্রামের মহিলাদের দূরে সরানোর কথা ভাবলেও সেটা বাদ দেয়। কিন্তু গ্রামবাসীর বিশ্বাস ছিল ভিত্তিহীন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আসলে কোনো নারীকেই সম্মান করত না। যার প্রথম প্রমাণ মেলে মিলিটারি কমান্ডার এজাজ কর্তৃক আজিজ মাস্টারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। মালা সম্পর্কে মেজর এজাজের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বর্ণনা শোনার যে ভঙ্গিমা তাতেই-নারী সম্পর্কে তার নিকৃষ্ট মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। এরপর আমরা দেখতে পাই সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও তার বারো বছরের শ্যালিকাকে ধর্ষণের ঘটনা। বাড়ের রাতে নিজ বাড়িতে রাজাকার ও মিলিটারি মিলে তাদের সম্ভ্রমহানি করে। উপন্যাসের বহু জায়গায় এরকম নারী নির্যাতন ও নারী লাঞ্ছনার দৃশ্য দেখা যায়।
আমরা দেখতে পাই মনা কৈবর্তকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মেজর এজাজ কীভাবে তার স্ত্রী সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন- সে কেমন রূপবর্তী। সে কোথায় থাকে প্রভৃতি। এখানেও এজাজের নিকৃষ্ট চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়। যার দ্বারা তিনি নারীদের লাঞ্ছিত করতে ইচ্ছুক, সেই ধারণা পাওয়া যায়। আবার জয়নাল মিয়াকে তার মেয়ের সম্পর্কে জানতে চাওয়ার সময়ও আমরা দেখতে পাই, একজন পিতার সামনে তার মেয়েকে লাঞ্ছিত করার ইশারা দিতে পিছপা হননি মেজর এজাজ। এভাবেই উপন্যাসের অনেক জায়গায় নারী লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের বিষয় উঠে এসেছে, যা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারীলোলুপ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়।
Related Question
View Allমুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত '১৯৭১' উপন্যাসটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দলিল হিসেবে স্বীকৃত। হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসের শুরু করেছেন মীর আলির বর্ণনা দিয়ে। উপন্যাসের প্রথম লাইন- মীর আলি চোখে দেখে না। চোখে না দেখলেও বৃদ্ধ মীর আলি তার প্রত্যহ সময় অতিবাহিত করতে কিছু কাজ করে। লেখক মীর আলির পরিবারের বর্ণনা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন মীর আলির বড় ছেলে বদিউজ্জামানের তিন বছর বয়সের একজন মেয়ে আছে। দিনের বেলায় মীর আলির কাজ হচ্ছে নাতনি পরীবানুকে কোলে নিয়ে বারান্দায় বসে থাকা। দাদাকে সে খুবই পছন্দ করে। মীর আলিও জগতের অনেক জটিল বিষয় নিয়ে পরীবানুর সঙ্গে কথা বলে। মীর আলি তিন বছরের পরীবানুর মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। সুতরাং বলা যায়, দিনের বেলায় মীর আলির অন্যতম কাজ হচ্ছে পরীবানুকে কোলে নিয়ে বারান্দায় বসে থাকা এবং তার সঙ্গে গল্প করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!