১৯৭১ সালের ১লা মার্চ থেকে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
গেরিলা যুদ্ধ একটি বিশেষ রণকৌশল।
গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে বৃহৎ ও শক্তিশালী শত্রুবাহিনীর ওপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাহিনী অতর্কিত আক্রমণ করে। এর উদ্দেশ্য হলো বৃহত্তর বাহিনীকে হয়রানি, নাজেহাল এবং সম্ভব হলে নির্মূল করা। শক্তির পার্থক্যের কারণে গেরিলা যোদ্ধারা যথাসম্ভব সম্মুখযুদ্ধ এড়িয়ে চলে। সাধারণত কোনো বিদেশি হানাদার বাহিনী বা স্বৈরাচারী সরকারি শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিকামী জনগণ বা আদর্শিক প্রতিপক্ষ এ কৌশলে লড়াই করে। পেশাদার সেনাদের বদলে সাধারণ জনগণের সমন্বয়ে গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব রাফিকে ৭ই মার্চের ভাষণ আন্দোলিত করেছিল।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে জনাব রাফি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। মার্চ মাসে এক মহান নেতার ভাষণ তাকে খুব বেশি আন্দোলিত করে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এখানে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এ ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা এককথায়, অনন্য। বঙ্গবন্ধুর এ ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা এবং মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা পায়। এ ভাষণে তিনি প্রতিরোধ সংগ্রাম, যুদ্ধের কলা-কৌশল এবং শত্রু মোকাবিলার উপায় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। মূলত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই সাত কোটি নিরীহ বাঙালি রাতারাতি যোদ্ধায় পরিণত হয়। এ ভাষণ বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা জোগিয়েছিল।
স্বতন্ত্র জাতিসত্তার চেতনা ও আদর্শকে ধারণ করে রাফি এবং অন্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
গণতন্ত্রের জন্য বাঙালিরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। বাংলাদেশকে সত্যিকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা ছিল তাদের স্বপ্ন। সর্বপ্রকার শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্তিলাভ ছিল তাদের অপর একটি লক্ষ্য এবং আদর্শ। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকেই বাঙালি জাতি শাসকগোষ্ঠীর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, তথা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র হবে সবার'- এ চেতনা ও আদর্শ নিয়ে সব ধর্মের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে।
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলে ছিল স্বতন্ত্র জাতিসত্তার চেতনা, যাকে আমরা বলি বাঙালি জাতীয়তাবাদ। একটি স্বতন্ত্র জাতির জন্য স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রয়োজন হয়। আর বাঙালি জাতিসত্তার মধ্যে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড, ভাষা-সাহিত্য, অসাম্প্রদায়িক বা সহিষ্ণু সংস্কৃতি, ইতিহাস- ঐতিহ্যগত চেতনা নিহিত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা মালিকানার মধ্যেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ ব্যক্ত হয়েছে। আমাদের দেশের সর্বস্তরের জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তাই রাষ্ট্রের মালিকও তারা সকলে। আমাদের সংবিধানে ঘোষণা করা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ' [অনুচ্ছেদ ৭ (১)]।
পরিশেষে বলা যায়, স্বতন্ত্র জাতিসত্তার চেতনা ও আদর্শকে ধারণ করে বাংলাদেশের আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরই ভিত্তিতে ১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
Related Question
View Allআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ২১শে ফেব্রুয়ারি।
দ্বিজাতি তত্ত্ব ব্রিটিশ ভারতকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত করার একটি রাজনৈতিক মতবাদ। এর ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল।
ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমান অধিবাসীরা দুটি আলাদা জাতি- এটাই দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল কথা। ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, "ভারতের হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি আলাদা জাতি। তাদের জীবন দর্শন, ধর্মীয় আদর্শ ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।” জিন্নাহ এ যুক্তি দিয়ে ভারতের মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবি করেন। তার এ যুক্তিই উপমহাদেশের ইতিহাসে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
উপরের ছবিটি আমাদের ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত।
উপরের ছবিতে একটি মিছিলের একাংশ দেখা যাচ্ছে। ছাত্রজনতা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করছে। এ ছবির সাথে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের মিছিলের সাদৃশ্য রয়েছে। পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জন অধিবাসীর মাতৃভাষা ছিল বাংলা। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা যে আন্দোলন শুরু করে, তা-ই ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে পূর্ব বাংলার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে থাকে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক নেতৃত্বে, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র নেতৃত্বের সমন্বয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। কয়েক বছর ধরে চলা এ আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল করে। পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। অতঃপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়।
ছবির লোকগুলোর চেতনাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দিতে- সক্ষম হয়- এ উক্তিটির পক্ষের যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
ভাষা আন্দোলন তখনকার পূর্ব বাংলা অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে প্রথম অধিকার সচেতন করে তোলে। বাঙালি জাতি তার স্বতন্ত্র আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে নতুন করে সচেতন হয়ে ওঠে। ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর থেকেই বাঙালিরা বুঝতে পারে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এতে পূরণ হচ্ছে না। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মুসলিম লীগের ভরাডুবি এবং বিরোধী জোট যুক্তফ্রন্টের বিজয় পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক চেতনাকে আরও শানিত করে। পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভাষাকেন্দ্রিক ভাষা আন্দোলনের ফলে পূর্ব বাংলার হিন্দু-মুসলমান উভয়ের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটে।
ভাষা আন্দোলনের জের ধরেই ধীরে ধীরে পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী সবাই পাকিস্তানিদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালিদের মধ্যে যে জোরালো অধিকারবোধের সৃষ্টি হয় তা এ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক বিবর্তনকে এগিয়ে নেয়। এর ধারাবাহিকতায়ই ধাপে ধাপে আসে পাকিস্তানি বৈষম্যের বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় পাওয়া আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পাকিস্তানি শাসকচক্র মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে। পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
সুতরাং বলা যায়, ছবির লোকগুলোর চেতনা তথা ভাষা আন্দোলনের চেতনাই কালক্রমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দিতে সক্ষম হয়।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন।
গেরিলা যুদ্ধ একটি বিশেষ রণকৌশল।
গেরিলা যুদ্ধের মূলকথা হচ্ছে বৃহৎ ও নিয়মিত শত্রুবাহিনীর ওপর, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ, যার উদ্দেশ্য হলো বৃহত্তর বাহিনীকে হয়রানি, নাজেহাল এবং সম্ভব হলে নির্মূল করা। শক্তির পার্থক্যের কারণে গেরিলা যোদ্ধারা যথাসম্ভব সম্মুখযুদ্ধ এড়িয়ে চলে। পেশাদার সেনাদের বদলে সাধারণ জনগণের সমন্বয়ে গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আক্রমণের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা পদ্ধতিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন। গেরিলাদের মধ্যে ছাত্র ও কৃষকের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!