দেশের প্রতি ভালোবাসাকে দেশপ্রেম বলে
'জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী।' অর্থাৎ জননী ও জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও বড়। তাই যিনি দেশপ্রেমিক তিনি দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দেন। তিনি সবসময় দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণের জন্য কাজ করে থাকেন। দেশের কোনো বিপদে দেশপ্রেমিক কখনো নীরব থাকতে পারেন না।
নিজের জীবনের বিনিময়েও তিনি সে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
উদ্দীপকের পাকসেনারা যেন রাবণের প্রতিচ্ছবি।
প্রাচীনকালে কার্তবীর্যার্জুন নামে চন্দ্রবংশীয় এক রাজা ছিলেন। তিনি যেমন কর্তব্যপরায়ণ, তেমনি বীর ও দেশপ্রেমিক ছিলেন। একবার রাজকার্যের ক্লান্তি দূর করার জন্য তিনি অবকাশ যাপন করছিলেন। এ সুযোগে রাবণ তার রাজ্য আক্রমণ করলেন। এ সংবাদ পেয়ে কার্তবীর্যার্জুন অবকাশ যাপন স্থগিত করে মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য সোজা যুদ্ধক্ষেত্রে চলে গেলেন। ভীষণ যুদ্ধ হলো রাবণের সৈন্যদের সাথে কীর্তবীর্যার্জুনের। অবশেষে জয়ী হলেন কার্তবীর্যার্জুন। রাবণ পরাজিত হয়ে বন্দী হলেন কার্তবীর্যার্জুনের হাতে। এভাবে দেশমাতৃকার জন্য, আজীবন সংগ্রাম করে দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন কার্তবীর্যার্জুন। অপরদিকে উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে পাক-সেনারা এদেশ আক্রমণ করে। যুবক রমেশ দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়। নয়মাস শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করে একটি পা হারায়। দেশ স্বাধীন হয়েছে, পা হারানোর জন্য তার কোনো দুঃখ নেই। তিনি নিজে মুক্তিযোদ্ধা বলে গর্ববোধ করেন। পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে পাকসেনারা যেন রাবণের প্রতিচ্ছবি ছিল।
সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উদ্দীপকের রমেশের মতো দেশপ্রেমিকের প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
দেশপ্রেমিক রমেশের সাথে পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত চরিত্র কার্তবীর্যার্জুনের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে পাকসেনারা এদেশ আক্রমণ করে। যুবক রমেশ দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়। নয়মাস শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করে একটি পা হারায় সে। দেশ স্বাধীন হয়েছে। পা হারানোর জন্য তার দুঃখ নেই। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে গর্ববোধ করে। অপরদিকে পাঠ্যপুস্তকে দেখা যায়, কার্তবীর্যার্জুন রাজকার্যের ক্লান্তি দূর করার জন্য রাজধানীর বাইরে অবকাশ যাপন করছিলেন। এ সুযোগে রাবণ তার রাজ্য আক্রমণ করলেন। সাথে সাথে এ সংবাদ কার্তবীর্যার্জুনের কাছে পৌছে গেল। তিনি ক্রোধে আগুনের মতো জ্বলে উঠলেন। তিনি বললেন, "আমার মাতৃভূমি শত্রুর বিষাক্ত নিঃশ্বাসে বিপর্যস্ত। আমি এখনই যুদ্ধে যাব।" তারপর অবকাশ যাপন স্থগিত করে সোজা চলে গেলেন যুদ্ধের ময়দানে। প্রাণপণ যুদ্ধ করে মাতৃভূমিকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করলেন। উদ্দীপকের রমেশ ও কার্তবীর্যার্জুন উভয়ই নিজের দেশকে রক্ষায় প্রাণপণ যুদ্ধ করেছেন। অবশেষে তাদের দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করেছেন। তাই বলা যায় যে, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উদ্দীপকের রমেশের মতো দেশপ্রেমিকের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allকৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রগুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য।
অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য, কৌরব ও পান্ডবদের ছিল একটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর। একদিন অর্মগুরু কৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার পরীক্ষা নিতে গভীর বনে গেলেন। তাঁদের শিবিরের অল্প দূরেই ছিল একলব্যর সাধনার স্থান। একলব্য গভীর মনোনিবেশে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষায় ব্যস্ত। এমন সময় কুকুরটি সেখানে এসে ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করাতে একলব্যের সাধনা ভেঙে যায়। যার জন্য একলব্য কুকুরটির মুখে বান নিক্ষেপ করেন।
মনোহর বাবুর কর্মকান্ডে যে নৈতিক গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো দেশপ্রেম।
দেশপ্রেম বলতে বোঝায় দেশের প্রতি ভালোবাসা। মানুষ যেদেশে জন্মগ্রহণ করে, তার মাটি-জল আলো-বাতাস তার দেহকে পুষ্ট করে, তাকে বাঁচিয়ে রাখে। বড় হয়ে মানুষ তার মাতৃভূমির প্রতি মমত্ব অনুভব করে। মাতৃভূমির প্রতি এ মমত্ববোধই দেশপ্রেম। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নামই দেশপ্রেম। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। উদ্দীপকের মনোহর বাবু গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছেন। রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, হাসপাতাল নির্মাণ এবং সেখানে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যিনি দেশপ্রেমিক, তিনি দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। তিনি সবসময় দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণের জন্য কাজ করেন। দেশের কোনো বিপদে দেশপ্রেমিক কখনো নীরব থাকতে পারেন না। দেশের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজন হলে নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। দেশপ্রেম মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। মনোহর বাবুর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেম নামক নৈতিক গুণটিই প্রকাশ পেয়েছে।
হ্যাঁ, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মনোহর বাবুর নৈতিক গুণটির অবশ্যই প্রয়োজন আছে।
মনোহর বাবুর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ব্যক্তি নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের কল্যাণের। কথা চিন্তা করেন। তিনি দেশের উন্নতির জন্য কাজ করেন এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। উদ্দীপকের মনোহর বাবু তার গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় যেসব কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন তার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। দেশের উন্নতির জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের। প্রকাশ-ঘটে। রাষ্ট্র যাতে সঠিকভাবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়, সেজন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশপ্রেমিক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। নিজের দেশের কল্যাণের জন্য দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে। গড়ে তুলতে হয়। কেবল নিজের বা নিজের পরিবারের স্বার্থ দেখলেই। চলে না, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের কথাও ভাবতে হয়। সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সদা সচেষ্ট থাকতে হয়। এর নাম দেশপ্রেম। ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম নামক নৈতিক গুণটি অর্জন করতে হয়। দেশপ্রেম মানুষকে উদার করে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে, আত্মসুখ বিসর্জন দেওয়ার প্রেরণা দান করে। দেশপ্রেম মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। যার মধ্যে দেশপ্রেম নেই তাকে যথার্থ মানুষ বলা যায় না। আত্মকেন্দ্রিক মানুষ কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। দেশপ্রেমিক। দেশের সম্পদ, দেশের স্বার্থ, দেশের মর্যাদা প্রভৃতিকে নিজের সম্পদ, নিজের স্বার্থ ও নিজের মর্যাদা বলে মনে করেন। তাই বলা যায়, মনোহর বাবুর কর্মকান্ডে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নার্স হচ্ছে দেশপ্রেম।
হাতে কাম, মুখে নাম'- এটি হরিচাঁদ ঠাকুরের অন্যতম উপদেশ। তিনি বলেছেন, গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল, হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজেও সংসারী ছিলেন, তাই তিনি সংসারে থেকেই ধর্মচর্চা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনিই সবাইকে বুঝিয়েছেন যে, ধর্মচর্চার জন্য সংসার ত্যাগ করতে হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!