স্বৈরাচারী শাসকের সময়ে বছরের পর বছর মানুষ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট হতে দেখেছে।
স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে নাগরিকদের অবমূল্যায়ন এবং সীমাহীন দুর্নীতির কারণে এদেশের মানুষ ভয়াবহ অসম্মান ও অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিল।
প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল। এসময় মানুষের ভোটাধিকার ছিল না বললেই চলে। তাই নাগরিকদের তারা প্রায়ই অসম্মান করে কথা বলত। এছাড়াও সরকার ও তাদের দোসররা দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল। ফলে আইন-শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে আর্থিক অবস্থার বেহাল দশা তৈরি হয়েছি। তাই সে সময় মানুষ ভয়াবহ অসম্মান ও অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিল।
২০২৪-এর আন্দোলন নিয়ে গণমানুষের প্রত্যাশার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার মিল রয়েছে।
সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী ব্যক্তিরা কোনো বাধার কাছেই নতি স্বীকার করে না। শত বাধাকে অতিক্রম করেও তারা পথ খুঁজে নেয়। সংগ্রামের পথে তারা আপসহীন। এই আপসহীন মনোভাবই তাদের নতুন দিনের স্বপ্ন দেখায় এবং অন্যায় ও অচলায়তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করে তোলে।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। সে সময় পাকিস্তানি শাসকদের অপশাসন ও শোষণ-নির্যাতনে এদেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সংগত কারণেই এদেশের মানুষ যুদ্ধজয়ের মধ্য দিয়ে শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন নতুন দিনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। একইভাবে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায়ও ২০২৪-এর শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানকে ঘিরে এদেশের মানুষের প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে। যেখানে এদেশের মানুষ বৈষম্যহীন এক'নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার মিল রয়েছে।
কেবল আন্দোলন-সংগ্রামকে নিয়ে প্রত্যাশা তুলে ধরায় উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার মূলভাবকে সম্পূর্ণ তুলে ধরে না।
বাঙালি জাতির এগিয়ে চলার পথটি কখনোই মসৃণ ছিল না। শোষণমুক্তির লক্ষ্যে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে এ জাতিকে বারবার আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। ঐক্য চেতনা, অধিকার সচেতনতা ও সাম্যবাদী মনোভাবই ছিল এসব আন্দোলন-সংগ্রামের মূল ভিত্তি।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের অপশাসন এবং মিলিটারি বাহিনীর নৃশংস আক্রমণে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। সংগত কারণেই মকবুলের মতো- তরুণরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। যুদ্ধজয়ের মধ্য দিয়েই তারা সার্বিক মুক্তির স্বপ্ন দেখছিল, যেমনটি উদ্দীপকের সুরুজ আলির মনোভাবেও প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের এ দিকটি আলোচ্য রচনায়ও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ আন্দোলনে বিজয়ের অনিবার্যতাকে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ৫ই আগস্ট বিজয় উদ্যাপনের জন্য গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের দিকটিও গুরুত্বের সাথে ফুটে উঠেছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। সেখানে কেবল যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত দেশ প্রত্যাশার দিকটিই উঠে এসেছে, উল্লিখিত অন্যান্য বিষয় নয়। এ বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View Allকোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য অর্জিত হয় ২০১৮ সালে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটির দ্বারা দেশ সংস্কারে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের একাত্মতা বোঝানো হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগদান করেন। সবাই নিজেদের অবস্থান ভুলে রাস্তায় একত্র লড়াই করেছিলেন একটা উদ্দেশ্য সামনে রেখে। এভাবে আন্দোলনের সময় এমন এক ভাষা তৈরি হয়েছিল যার মাধ্যমে সবাই সবাইকে বুঝতে পারছিলেন। মানুষের মধ্যে এমন বোধ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর তৈরি হয়েছিল বলে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উর্ধ্বে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এটাই হওয়া উচিত। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের বিরুদ্ধাচরণ করে। তখন পরিণতি হয় মর্মান্তিক।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে ছাত্রসমাজ কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে চরম দমননীতি এবং হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এতে গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, গোঁতাবায়া রাজাপাকসে বিক্ষোভকারীদের দমন করার জন্য নিপীড়ন চালায়। শেষ পর্যন্ত তার পতন হয়।
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালি জাতি হলো বীরের জাতি। তারা যুগে যুগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণপথে লড়াই করেছে। সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাঙালিরা জীবনদানেও কার্পণ্য করেনি।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরকার পতনের আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য সরকার তার পোষ্য দলীয় বাহিনী ও জাতীয় বাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের দ্বারা সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হাজার হাজার জনতা। ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়ে সরকার পালাতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকেও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। ফলে ডজনখানেক আহত হয়েছে। সেখানে কোনো মৃত্যুর ঘটনার কথা নেই। আবার জুলাই বিপ্লব পুরোপুরি শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত ছিল। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত বিক্ষোভে এমন কোনো আভাস নেই। উপর্যুক্ত এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'কারফিউ' শব্দের অর্থ সান্ধ্যআইন।
'সরকার নির্বাচন নিয়ে একের পর এক তামাশা করেছে' বলতে এখানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। এর পর থেকে এই সরকারে তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এসব নির্বাচনে সরকার লোক দেখানো ভোটের আয়োজন করে শেষ পর্যন্ত কারচুপি করে নির্বাচনে জয়ী হয়। এভাবে সরকার যে প্রহসনের নির্বাচন করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে সে কথাই বোঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!