বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের প্রতিবেদন অনুসারে ২০০১ সালে বাংলাদেশ ৪,০৯১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশে গাড়ির সংখ্যা যে হারে বেড়েছে সে হারে দক্ষ চালক তৈরি হয়নি। অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালককে দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গাড়ি চালানোর জন্য যেসব আইন ও নিয়মনীতি রয়েছে তাও অধিকাংশ গাড়ি চালকরা জানেন না। এ কারণে তারা কখনো কখনো মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই কম বেতনে সনদবিহীন চালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব চালকদের অধিকাংশই তরুণ বয়সের, যারা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অন্য গাড়িকে ওভারটেক করে এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। এ কারণেও প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সমাজজীবনে শিশু ও কর্মক্ষম ব্যক্তির পঙ্গুত্ববরণ ও মৃত্যুর অর্থনৈতিক ও মানসিক প্রভাব খুবই মারাত্মক, যা আবার বহু সমস্যার জন্মদাতাও।
হাইওয়ে পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তিদের ২৪% লোকের বয়স ১৫ বছরের নিচে এবং ৩৯% লোকের বয়স ১৬-৫০ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা ফলাফলে দেখা যায় যে, বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান শিকার হচ্ছে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহত হওয়ার কারণে এসব পরিবারের সদস্যদের দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয় এবং আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এ পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনায় কবলিত ব্যক্তি শারীরিকভাবে পঙ্গু হলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যা তার ব্যক্তি জীবনকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। মানসিক ভারসাম্যহীনতা ব্যক্তি জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। এ সমস্যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মহত্যায় রূপ নেয়। আবার দেখা যায়, পঙ্গু ব্যক্তিটিকে ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশা গ্রহণ করতে হয়। কেউ কেউ জীবন নির্বাহের জন্য অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। চরম হতাশা লাঘবে অনেকে আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
সুতরাং বলাই বাহুল্য সড়ক দুর্ঘটনা শুধু পারিবারিক জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, আর্থসামাজিক ও মানসিক জীবনকেও দুর্বিষহ করে তোলে।
বাংলাদেশে নতুন নতুন সড়ক ও যানবাহনের সৃষ্টি সড়ক ভ্রমণকে দুর্ঘটনামুক্ত বা নিরাপদ করতে পারেনি।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব না হলে আমাদের জীবনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। উপরিউক্ত তথ্যের আলোকে আমরা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। যেমন- গাড়ির চালককে ট্রাফিক আইনকানুন ও নিয়মশৃঙ্খলা মেনে গাড়ি চালাতে উদ্বুদ্ধ করা এবং সাইড, সিগন্যাল, গতি মেনে সতর্কভাবে গাড়ি চালাতে গাড়ি চালককে উৎসাহিত করা। বেপরোয়া ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি না চালানো, গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল পরিবহণ না করা, অন্য গাড়িকে ওভারটেকিং না করার বিষয়ে চালকদের সচেতন এবং আইন মানতে উদ্বুদ্ধ করা। ভারীযান চলাচলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা, সকল সিগন্যাল পয়েন্টে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল স্থাপন করা, আধুনিক ও মানসম্মত ড্রাইভিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা, ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা, কালভার্ট, ব্রিজ সংস্কার ও পুনঃ নির্মাণ করে সড়ক নিরাপদ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা। গাড়ির ছাদে যাত্রী এবং মালামাল বহন না করা, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি না চালানো, রাস্তায় গাড়ি বের করার পূর্বে যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা করা প্রভৃতি বিষয়ে সচেতন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দায়িত্ব পালনে সচেতন করা। জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার মাধ্যমকে ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করা। দূরপাল্লার সড়কের পাশে বাড়িঘর তৈরি এবং হাটবাজার স্থাপন না করা। তাছাড়া ধান, পাট, মরিচ না শুকাতে দেওয়া এবং গরু-ছাগল না বাঁধা। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দায়িত্বশীল হওয়া এবং ভুয়া লাইসেন্সধারী যাতে রাস্তায় গাড়ি চালাতে না পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দায়িত্বশীল করা। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এ্যালকোহল গ্রহণকারী গাড়ি চালকদের শনাক্ত করা এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহার করা ইত্যাদি।
তাই বলা যায়, উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো যদি গ্রহণ করা যায় তবে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।
Related Question
View Allএইচআইভি (HIV) হলো অতি ক্ষুদ্র এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস, যার পুরো নাম হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immuno Deficiency Virus) ।
এইডস হচ্ছে এমন একটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি যা এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণের মাধ্যমে রোগীর দেহে প্রবেশ করে। এইডস রোগটি ছড়ানোর বিভিন্ন উপায় থাকলেও এর অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে যৌন মিলন। অর্থাৎ এইচআইভি সংক্রমিত পুরুষ বা মহিলার সাথে যৌন মিলনে এ রোগ ছড়াতে পারে।
ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হলেন যে, রিমির মা এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
এইচআইভি (HIV) হলো অতি ক্ষুদ্র এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস। এ ভাইরাসের পুরো নাম হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immuno Deficiency virus) সংক্ষেপে এইচ আইভি (HIV)। এটি মানবদেহে প্রবেশ করে দেহের নিজস্ব, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। এ ভাইরাস অনেকদিন পর্যন্ত শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সাধারণত এর সুপ্তিকাল ৬-৭ মাস। উদ্দীপকে উল্লিখিত রিমির পিতার ছয় মাস পর তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়ে তাকে এইডস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করেন। এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায় হলো এইডস। যদি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কারও দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায় তবেই তাকে এইচআইভি পজিটিভ বলা হয়। এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি এইডস রোগে আক্রান্ত হয়। যা ব্যক্তির অনিবার্য পরিণতি অকাল মৃত্যু। তাই বলা যায়, রিমির মায়ের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তার নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি এইডস রোগে আক্রান্ত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রিমির পরিবারের সমস্যা মোকাবিলায় 'নির্মল হাসি' সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়, মানবিক ও সময়োপযোগী।
এইডস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। তাই এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমাজ, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা অনুচিত। এক্ষেত্রে উদ্দীপকে 'নির্মল হাসি' উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম প্রশংসনীয়। রিমির বাবা সিঙ্গাপুরে চাকরিরত অবস্থায় অসুস্থতাবোধ করলে দেশে ফিরে আসেন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যুর ছয় মাস পর তার মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। নির্মল হাসি নামক উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় চিকিৎসা শুরু করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার তাকে এইডস রোগে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করলে পরিবারটি বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়। এ সমস্যা প্রতিরোধে নির্মল হাসি সংস্থা পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ায় এবং- নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যেমন- সামাজিক ও মানসিক সমর্থনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রোগীর প্রতি সমাজের অন্যান্যদের মানসিক ও সামাজিক সমর্থন আদায়ে প্রচেষ্টা চালায়। রোগীর সাথে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং স্নেহ- ভালোবাসা দিয়ে রোগীর মনকে প্রফুল্ল রাখতে চেষ্টা করে। রোগীকে সবার কাছ থেকে আলাদা না করার জন্য পরিবারের সদস্যদের উপদেশ দেয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখে।
তাই বলা যায়, এইডস রোগীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয় সেগুলো মোকাবিলায় নির্মল হাসি সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রশংসার দাবিদার।
বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের প্রতিবেদন অনুসারে ২০০১ সালে বাংলাদেশ ৪,০৯১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশে গাড়ির সংখ্যা যে হারে বেড়েছে সে হারে দক্ষ চালক তৈরি হয়নি। অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালককে দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গাড়ি চালানোর জন্য যেসব আইন ও নিয়মনীতি রয়েছে তাও অধিকাংশ গাড়ি চালকরা জানেন না। এ কারণে তারা কখনো কখনো মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই কম বেতনে সনদবিহীন চালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব চালকদের অধিকাংশই তরুণ বয়সের, যারা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অন্য গাড়িকে ওভারটেক করে এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। এ কারণেও প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!