বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রাচীনকাল থেকেই যৌতুকের প্রচলন লক্ষ করা যায় বলে এটি একটি প্রাচীন প্রথা।
প্রাচীন চীনে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে যৌতুক সঙ্গে নিয়ে যেত। এথেন্সেও বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে নিয়ে যেত অর্থসম্পদ। সেখানে যৌতুক গ্রহণকে সামাজিক মর্যাদা হিসেবে দেখা হতো।
সফুরার চোখ উৎপাটনের জন্য স্বামী জাহাঙ্গীরের বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে পারে।
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করলে অপরাধী সর্বনিম্ন ১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। আবার, ১৯৮৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী যৌতুকের কারণে নির্যাতন করে নারীর মৃত্যু ঘটালে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।
উদ্দীপকের জাহাঙ্গীর যৌতুকের জন্য স্ত্রী সফুরাকে নির্যাতন এবং হত্যার চেষ্টা চালায়। তাতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে তার চোখ উৎপাটন করে। তাই সফুরার স্বামী জাহাঙ্গীরের উপরে উল্লিখিত শাস্তি হতে পারে।
সফুরার অবস্থার আলোকে বলা যায়, আত্মনির্ভরশীলতাই যৌতুক প্রথা নিরসনের একমাত্র উপায় নয়।
মূলত দারিদ্র্যের কারণেই যৌতুক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হয়। দারিদ্র্যের কারণে বরপক্ষ কনেপক্ষের কাছে অর্থ-সম্পদ দাবি করে। কনের পিতার অর্থ-সম্পদ ব্যবহার করে বর প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চায়। বাংলাদেশের অনেক সম্পদশালী মানুষ তাদের কন্যার বিয়েতে বিপুল অঙ্কের যৌতুক দেয়। ধনী পিতা-মাতার ধারণা যৌতুকের কারণে তাদের কন্যা স্বামীর ঘরে মাথা উঁচু করে থাকবে। এ কারণেও যৌতুক প্রথা সমাজের গভীরে বাসা বেঁধেছে। আমাদের দেশে যৌতুক নিরোধের জন্য আইন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এ বিষয়ে না জানার কারণেও যৌতুক প্রথা সমাজে স্থায়ী রূপ লাভকরেছে। তাছাড়া অনেক সময় এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় যৌতুক সমস্যা বেড়েই চলেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার সফুরা আত্মনির্ভরশীল নয়। সফুরা আত্মনির্ভরশীল হলে হয়ত সে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হতো না। তবে আত্মনির্ভরশীল হলেই যে সফুরা যৌতুকের শিকার হতো না, একথা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কেননা বাংলাদেশে যৌতুকের পেছনে নানা কারণ বিদ্যমান।
সফুরার অবস্থার আলোকে তাই বলা যায়, আত্মনির্ভরশীলতাই যৌতুক প্রথা নিরসনের একমাত্র উপায় নয়।
Related Question
View Allএথেন্সে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে অর্থসম্পদ নিয়ে যেত।
কন্যা সন্তানকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কন্যাসন্তান শিক্ষিত হলে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে। নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক এমনকি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
জাহিদের বাবা-মায়ের প্রস্তাবটি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা যৌতুক প্রথাকে ইঙ্গিত করে।
যৌতুক একটি প্রাচীন প্রথা। প্রাচীন চীন ও এথেন্সে এ প্রথা চালু ছিল। খৌতুক হচ্ছে বিয়ের সময় বরকে প্রদত্ত অর্থ, সম্পত্তি ও নানা ধরনের মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম। বাংলাদেশের বিবাহ আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।
উদ্দীপকের জাহিদের বাবা-মা তার বিয়েতে নানা উপহারসামগ্রী ও টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এখানে ছেলেপক্ষকে উপহার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি পরোক্ষভাবে যৌতুক প্রথাকেই সমর্থন করে।
যৌতুক বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম একটি প্রথা। আমরা এ জঘন্যতম সামাজিক প্রথা রোধে যেসব পদক্ষেপ নিতে পারি তা হলো-
প্রথমত, পরিবারের কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শিক্ষিত হয়ে মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হলে যৌতুকের অভিশাপ তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারীসমাজ এ জঘন্য প্রথার কারণে প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে বা তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। তাই এ প্রথার বিরুদ্ধে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মনে যৌতুকবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না। এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন হয় ১৯২৯ সালে।
যৌতুক নিরোধের জন্য বাংলাদেশে ফৌজদারি আইন প্রচলিত আছে।
যৌতুক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে 'যৌতুক নিরোধ আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুক প্রথা দমনের জন্য ১৯৮৩ সালে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। সবগুলো আইনেই অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!