যে অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে 'আরোহ অনুমান' বা 'আরোহ' বলে।
কোনো জ্ঞাত বিষয় বা তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো অজ্ঞাত বিষয়ে বা তথ্যে উপনীত হওয়ার মানসিক প্রক্রিয়াই হলো অনুমান। যেমন- আকাশে মেঘ দেখে আমরা অনুমান করি বৃষ্টি হবে। অর্থাৎ জানা থেকে অজানায়, দেখা থেকে অদেখায়, গোচর থেকে অগোচর এবং প্রত্যক্ষ থেকে অপ্রত্যক্ষে যাওয়ার মানসিক প্রক্রিয়াই অনুমান।
ছকের ১নং যুক্তিটি অমাধ্যম অবরোহ অনুমানকে ধারণ করে। আমরা জানি, যে অবরোহ অনুমানে একটি মাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি সরাসরি অনুমিত হয় বা নিঃসৃত হয়, তাকে অমাধ্যম অনুমান বলে। অমাধ্যম অনুমানে দুটি যুক্তিবাক্যের একটি হলো আশ্রয়বাক্য এবং অন্যটি সিদ্ধান্ত। অমাধ্যম অনুমানে দ্বিতীয় কোনো আশ্রয় বাক্যকে মাধ্যমে হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। এজন্য একে অমাধ্যম অনুমান বলে। অমাধ্যম অনুমানকে প্রত্যক্ষ অনুমানও বলা হয়। ছকের ১নং যুক্তিটির 'সকল মানুষ হয় জীব' বাক্যটি আশ্রয়বাক্য এবং 'কিছু জীব হয় মানুষ' বাক্যটি সিদ্ধান্ত, যা দ্বারা নিঃসন্দেহে উপনীত হওয়া যায় যে, ছকের ১নং যুক্তিটি অমাধ্যম অবরোহ অনুমান। কেননা উপরিউক্ত উদাহরণ লক্ষ করলে দেখা যাচ্ছে যে, উদাহরণটিতে একটি আশ্রয়বাক্য থেকেই সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। মাধ্যম হিসেবে দ্বিতীয় বা অন্য কোনো আশ্রয় বাক্যের সাহায্য নেওয়া হয়নি। তাই এ ধরনের অনুমান প্রক্রিয়া হচ্ছে অমাধ্যম অনুমান। উল্লেখ্য যে, অমাধ্যম অনুমানকে কেউ কেউ অনন্তর অনুমান বলেও আখ্যায়িত করে থাকেন।
অবরোহ অনুমান হলেও ছকের ১নং যুক্তিটি হলো অমাধ্যম অনুমান এবং ২নং যুক্তিটি হলো মাধ্যম অনুমান। মাধ্যম ও অমাধ্যম অনুমানের মধ্যে নানা দিক থেকে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
মাধ্যম অনুমানকে বলা হয় পরোক্ষ অনুমান। অন্যদিকে, অমাধ্যম অনুমানকে বলা হয় প্রত্যক্ষ অনুমান। মাধ্যম অনুমানে মাধ্যম হিসেবে অপ্রধান আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না, কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মাধ্যম অনুমানের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো সহানুমান বা ন্যায়ানুমান। অন্যদিকে, অমাধ্যম অনুমানের উদাহরণ হলো- আবর্তন, প্রতিবর্তন, আবর্তিত প্রতিবর্তন, অন্তরাবর্তন' বিরোধানুমান, সম্বন্ধের পরিবর্তনের সাহায্যে অনুমান, নিশ্চয়তাঘটিত অনুমান, জটিল ধারণা যোগাত্মক অনুমান এবং জটিল যোগ্যত্মক অনুমান। মাধ্যম অনুমানের যুক্তিতে যুক্তিবাক্যের সংখ্যা থাকে তিনটি এবং অমাধ্যম অনুমানের যুক্তিতে যুক্তিবাক্যের সংখ্যা থাকে দুটি। মাধ্যম অনুমান হলো প্রকৃত অনুমান বা বৈধ অনুমান। অন্যদিকে, অমাধ্যম অনুমান হলো তথাকথিত অনুমান। এটি কোনো প্রকৃত অনুমান নয়। কারণ এ অনুমানে জানা থেকে অজানাতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু মাধ্যম অনুমানে জানা থেকে অজানাতে যাওয়ার অধিক সুযোগ রয়েছে। মাধ্যম অনুমান সত্যের সন্ধান দেয়, কিন্তু অমাধ্যম অনুমান কেবল নামমাত্র অনুমান। অমাধ্যম অনুমানে একই কথাকে ঘুরিয়ে বিপরীতক্রমে বলা হয়।
Related Question
View Allঅমাধ্যম অনুমান হলো যে অবরোহ অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি সরাসরি অনুমিত হয় বা নিঃসৃত হয়।
মাধ্যম অনুমান হলো পরোক্ষ অনুমান। যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি নিঃসৃত হয় বা অনুমিত হয় তাকে 'মাধ্যম অনুমান' বলে। মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। যেমন-
A – সকল মানুষ হয় মরণশীল।
A – রহিম হয় একজন মানুষ।
A - রহিম হয় মরণশীল।
উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্য আরোহ অনুমানমূলক। আরোহ অনুমান অনুযায়ী অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। যেমন-
মতিন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মজিদ হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মাখন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
সকল ধনী ব্যক্তি দানশীল।
মিজান সাহেব বাস্তবে কিছু মানুষকে দেখেছে যে তারা ধনী এবং দানশীল। সুতরাং তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে সকল ধনী ব্যক্তি হয় দানশীল। এখানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়েছে। আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে কিছু লোক এর দানশীল ও ধনীর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করা যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরোহ অনুমান এর সিদ্ধান্ত সব সময় সম্ভাব্য হয়।
সুতরাং উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্যটি একটি আরোহ অনুমান। যার সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য হয়। কারণ আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা অনুমিত হয় না, সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্য থেকে নতুন তথ্য প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে যে যুক্তিটি দেওয়া আছে তা হলো-
সকল জ্ঞানী হয় ধনী।
সকল কবি হয় ধনী।
সকল কবি হয় জ্ঞানী।
এই যুক্তিটি একটি অবরোহমূলক যুক্তি। এই দৃষ্টান্তে আশ্রয়বাক্য রয়েছে দুটি। আর আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তাই এটি অবরোহ অনুমান। যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে 'অবরোহ অনুমান' বলে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক বা সমান ব্যাপক হতে হবে। উপরোক্ত অনুমানে সমান ব্যাপক সিদ্ধান্ত হয়েছে। উদ্দীপকের উক্ত যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য হতে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তবে যুক্তির আশ্রয় বাক্যগুলোর সত্যতা থেকে সিদ্ধান্তের সত্যতা যদি যাচাই করতে যাই তবে তা মিথ্যা। কারণ 'সকল জ্ঞানী হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগত মিথ্যা এবং 'সকল কবি হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সকল জ্ঞানী ধনী • নাও হতে পারে, আবার, সকল কবি ধনী নয়। তাই উভয় আশ্রয়বাক্য বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সুতরাং সিদ্ধান্তে তথ্য 'সকল কবি হয় জ্ঞানী' বস্তুগতভাবে মিথ্যা। আশ্রয়বাক্য বস্তুগত মিথ্যা হলে সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা।
উদ্দীপকের যুক্তিটির আশ্রয়বাক্য, সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে সত্য মিথ্যার উপর যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ভর করে না। তাই এখানে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা হলেও যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হলে যুক্তিটি বৈধ হয়। আর উক্ত যুক্তির আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। সুতরাং, যুক্তিটি বৈধ।
যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় সেটিই হলো 'মাধ্যম অনুমান'।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তটি এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং যার সিদ্ধান্তটি কখনোই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপক হতে পারে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত সমব্যাপক হয় সেটিই হলো 'অবরোহ অনুমান'। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
রহিম হয় একজন মানুষ।
রহিম হয় মরণশীল।
উপরের দৃষ্টান্তে সিদ্ধান্তটি দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!