ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির উদ্ভাবক হলেন ম্যারি রিচমন্ড।
অস্ট্রেলিয়ার সমাজকর্ম শিক্ষা কারিকুলামে মাঠ শিক্ষা (Field Education) কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মাঠ শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সমাজকর্মকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার প্রশিক্ষণ লাভ করে। একজন শিক্ষার্থী সমাজকর্মের অর্জিত জ্ঞানকে যাতে বাস্তবে প্রয়োগ করে দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে কারণেই শিক্ষা কারিকুলামে Field Education বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের পূর্ব তিমুর নামক দেশটির সমাজকর্ম শিক্ষা বিকাশের সাথে ভারতের সমাজকর্ম শিক্ষা বিকাশের মিল রয়েছে।
ভারতে ১৯২০ সালে সমাজকর্মের দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলেও ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর নানা ধরনেরআর্থ-সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হয়। এ দেশটিতে সমাজকল্যাণের অগ্রযাত্রায় খ্রিষ্টান মিশনারিরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯২৫ সালের দিকে American Marathi Mission নামের একটি খ্রিস্টান মিশনারি বোম্বে শহরে সমাজসেবা কাজে নিয়োজিত ছিল।উদ্দীপকের পূর্ব তিমুরে সমাজকর্ম বিকাশে ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তাছাড়া পূর্ব তিমুরে যেমন দক্ষ সমাজকর্মী গড়ে তোলার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তেমনি ভারতেও এক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সমাজকর্মী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৩৬ সালে Sir Dorabji Tata Graduate School of Social Work প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকার Ne York School of Social Work এর অনুকরণে পরিচালিত হতো। ১৯৪৪ সালে এর নাম পরিবর্তন করে Tata institute of Social Science রাখা হয়। বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি ভারতে সমাজকল্যাণকে বিজ্ঞানসম্মত সমাজকর্মে রূপদান করে। সময়ের বিবর্তনে এটি টাটা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এ কারণে বলা যায় পূর্ব তিমুরে সমাজকর্ম শিক্ষা বিকাশের সাথে ভারতের সমাজকর্ম শিক্ষা বিকাশের যথেষ্ট মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, সমাজকর্ম শিক্ষা বিকাশের ক্ষেত্রে পূর্ব তিমুরের ন্যায় ভারত রাষ্ট্রটিও অন্য রাষ্ট্রের ওপর তথা আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল ছিলো।
আমেরিকান মিশনারিরাই ভারতে সমাজকর্ম বিকাশে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। বেসরকারিভাবে গঠিত Tata University সেটি সমাজকর্মের আধুনিক রূপদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত, তাও পরিচালিত হচ্ছে আমেরিকার New York School of Social Work প্রতিষ্ঠানটির অনুকরণে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সে দেশে Social work institute প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে সমাজকর্মের যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা আমেরিকার সমাজকর্ম শিক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৫৫ সালে Social Welfare in India নামে যে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয় তা পরবর্তীতে আমেরিকার সমাজকর্ম বিশ্বকোষের অনুকরণে চারটি খণ্ডে বিভক্ত করে ১৯৮৭সালে Encyclopedia of Social Work নামে প্রকাশ করা হয়। ভারত সমাজকর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে এত বেশি আমেরিকা নির্ভর ছিল যে, Encyclopedia প্রকাশে এবং সমাজকর্মীদের Code of Ethics নির্ধারণেও আমেরিকান ব্যবস্থাকে অনুকরণ করা হয়। ভারতের ছাত্র-শিক্ষক মহলে পঠিত বইয়ের ৯০ শতাংশই আমেরিকার, এককথায় বললে বলা যায়, ভারতের সমাজকর্মের সুগঠিত ধারণা, নীতি, তত্ত্ব এবং কৌশলসমূহ সবটাই আমেরিকার তৈরি করা সমাজকর্ম ব্যবস্থা থেকে নেওয়া।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, উদ্দীপকের দেশটি যেমন- সমাজকর্ম শিক্ষা বিকাশে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে তেমনি ভারত দেশটিও এক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে আমেরিকা নির্ভর ছিল।
Related Question
View Allবাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো- অদক্ষ জনশক্তি।
দানশীলতা বলতে শর্তহীনভাবে স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের কল্যাণে কোনো কিছু দান করার রীতিকে বোঝায়।
দানশীলতা মানবপ্রেম থেকে সৃষ্ট একটি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা। এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত। তবে প্রত্যেক ধর্মই দুস্থ ও অসহায়দের কল্যাণে ধনী বা সম্পদশালীদের দান করার জন্য উৎসাহিত করে। সুতরাং দানশীলতা হলো মানবপ্রেম থেকে সৃষ্ট একটি মহৎ গুণ, যা দুস্থদের কল্যাণকে ত্বরান্বিত করে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের সাথে সমাজসেবার যৌথ সমন্বয় ঘটেছে।
সমাজসেবা ও সমাজকর্মের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে তাকে সহায়তা করাই সমাজসেবার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম সংগঠিত ও পরিকল্পিত উপায়ে পরিচালিত হয়। সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে এ দুটি বিষয় পরস্পর নির্ভরশীল। সমাজকর্ম ও সমাজসেবা উভয়ই সুসংগঠিতভাবে সমাজের মানুষের সেবা দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিকল্পনা করে। এ দুটি বিষয়ই ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সচেষ্ট এবং কার্যকর মানবীয় সেবা সৃষ্টিতে কাজ করে।
তাই বলা যায়, সমাজকর্মের সাথে সমাজসেবার যৌথ সমন্বয় রয়েছে এবং উভয়ই একে অপরের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের মাধ্যমে চীনের সমাজকর্ম শিক্ষার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
চীনে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম শিক্ষার সূত্রপাত হয় ১৯২০ সালে। পেশাদার সামাজিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চীনে 'Yanjing University' তে ১৯২২ সালে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম বিভাগ খোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯২৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত আটটি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজসেবা ও সমাজকর্ম সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করে। ১৯৪৯ সাল
থেকে ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে 'Civil Affairs Division' এর মাধ্যমে সরকার নিজেই বিভিন্ন সমাজকর্ম ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষিতে এই Division সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে নতুনভাবে সমাজকর্ম পেশার আবশ্যকতা দেখা দেয়। CCP, The State council এবং Central Government এর যৌথ উদ্যোগে সমাজকর্ম পেশাকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর সার্বিক লক্ষ্য ছিল একটি কাঙ্ক্ষিত সমাজব্যবস্থা গঠন করা।
তাই বলা যায় যে, চীনের সমাজকর্মের শিক্ষাকে সেদেশের দ্রুত উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইংল্যান্ডকে সমাজকর্মের সূতিকাগার বলা হয়।
যেসব দেশ প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে সেসব দেশই উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত।
উন্নত দেশগুলোতে সাধারণত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হয় এবং এসব দেশের মানুষ উন্নত জীবন যাপনে অভ্যস্ত। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের মধ্যে রয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!