২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর 'রোকেয়া দিবস' উপলক্ষে। জাতীয় জাদুঘরের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে স্বপ্না ব্যানারে লেখা একটি লাইন পড়ছিল। "আমরা মানবসন্তানের শ্রেষ্ঠ অংশের অর্ধেক।" স্বপ্না মনে করে সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এই উক্তিটির যথাযথ বাস্তবায়ন ও কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।

উত্তরঃ

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষার পরিপূরক ব্যবস্থা।

প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তি ১০০ ভাগে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত যেসব শিশু-কিশোর বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না এবং যারা ঝরে পড়ে এই ব্যবস্থায় তারা মৌলিক শিক্ষা এবং ব্যবহারিক শিক্ষাও পাবে। এ শিক্ষা তারা প্রয়োজনে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারবে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপনকারী যোগ্যতাসম্পন্ন শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষায় উপযুক্ত শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'আমরা মানবসন্তানের শ্রেষ্ঠ অংশের অর্ধেক' লাইনটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশই হলো নারী। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৮১৪ জন নারী এবং নারী-পুরুষের অনুপাত ১০০ : ১০২। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করা হয়। যার প্রধান লক্ষ্য ছিল দীর্ঘকাল ধরে নির্যাতিত ও অবহেলিত নারীদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে নারী উন্নয়ন নীতিতে কিছু সংশোধন এনে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৮ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর করা হয়নি। সর্বশেষ বর্তমান সরকারের সময়কালে ২০১১ সালে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ প্রণয়ন করা হয়। উদ্দীপকের উল্লিখিত লাইনটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। নারীর মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ তার সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন সৃষ্টি এই নীতির মূল লক্ষ্য।

উত্তরঃ

মানবসম্পদ উন্নয়নে স্বপ্নার মন্তব্যে বর্ণিত বাংলাদেশের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারীর মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ তাদের ক্ষমতায়ন সৃষ্টি।

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১-এর লক্ষ্যসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এগুলো অর্জিত হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হবে। নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ তে নারী-পুরুষের সমতা বিধানের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নারীর এ ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়াই মানবসম্পদ উন্নয়নকে নির্দেশ করে। নারীকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর নারী উন্নয়ন নীতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। নারীকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে তাকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলাও নারী উন্নয়ন নীতির লক্ষ্য। আর এ নারীর স্বাবলম্বীতা অর্জন নারী উন্নয়ন নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। পারিবারিক ও জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারী উন্নয়ন নারীর সামাজিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করে নারীর কর্মস্বাধীনতার পথকে উন্মুক্ত করে দেয়। ফলে নারীরা সহজেই দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে নারীর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে নারীর কর্মস্পৃহাকে জাগ্রত করা হচ্ছে। ফলে নারীরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা প্রমাণের প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখছে। সর্বোপরি নারীর সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ নারীকে কর্মোপযোগী করে তুলছে, যা তাদেরকে কাজের জন্য উপযুক্ত করছে। নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য ও নির্যাতন দূর করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠন করতে সহায়তা করা বাংলাদেশে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির অন্যতম লক্ষ্য। তাই উল্লিখিত আলোচনা থেকে বলা যায়, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর লক্ষ্যসমূহ মানবসম্পদ উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এসব লক্ষ্যার্জনের প্রচেষ্টা নারীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করবে

56
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।

যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।

1.8k
উত্তরঃ

শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।

বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।

শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।

195
উত্তরঃ

রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।

নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।

উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা

214
উত্তরঃ

সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।

সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

255
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews