২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিষয়ে ভর্তি হয় রুনা। বিষয়টির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দর্শন বিভাগের নীতিশাস্ত্রের সাথে সমাজবিজ্ঞানের কিছু বিষয়বস্তু পড়ানোর মাধ্যমে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথেও বিষয়টি পড়ানো হয়। ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র একটি বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন একজন ফরাসি নৃবিজ্ঞানী। 

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

সমাজবিজ্ঞানের জনক ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান বিকাশে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য পাঁচজন হলেন-

১. ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্লদ লেভি স্ট্রস, ২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিম, ৩. ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ ও ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ড. পেরি বেসাইনি, ৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক অজিত কুমার সেন এবং ৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক রংগলাল সেন। 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রুনা যে বিষয়টি অধ্যয়ন করার জন্য ভর্তি হয়েছে তা হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান। কারণ আমরা জানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দর্শন বিভাগের নীতিশাস্ত্রের সাথে সমাজবিজ্ঞানের কিছু বিষয়বস্তু পড়ানোর মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ড. পেরি বেসাইনি। আর এ তথ্যগুলো উদ্দীপকের রুনা যে বিষয়ে ভর্তি হয়েছে তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি বিকাশের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বৃহৎ বঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সে সময় স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে নয়, বরং অর্থনীতি বিভাগের এম.এ কোর্সের একটি পত্র হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের পথ চলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বর্তমান বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দর্শন বিভাগে এম.এ কোর্সের পাঠ্যসূচি হিসেবে Ethics and Sociology 'নামে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৯-৪০ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের আওতায় Elements of Sociology শিরোনামে সমাজবিজ্ঞান-এর কিছু বিষয় পড়ানো হতো। পরবর্তীতে ইউনেস্কো ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান সর্বপ্রথম একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে তার যাত্রা শুরু করে। উল্লেখ্য, সমাজবিজ্ঞানকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার ক্ষেত্রে অধ্যাপক অজিত কুমার সেন ও ড. এ. কে. নাজমুল করিমের অবদান অপরিসীম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও সমাজবিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে নাজমুল করিমের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশে  সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব হঠাৎ করেই হয়নি, বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের একান্ত প্রচেষ্টায় শাস্ত্রটি বাংলাদেশে তার বিকাশ ঘটিয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় তথা সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে সমাজ সম্পর্কিত সব ধরনের জ্ঞান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভূমিকা, কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন শ্রেণি, তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে তাদের সম্পর্ক, ভূমিকা ও অবদান সম্পর্কে জ্ঞানও সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে লাভ করা যাবে। সমাজবিজ্ঞান সামাজিক দায়িত্ব- কর্তব্য সম্পর্কে প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের উপায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বিদ্যমান অন্তরায় ও তা সমাধানের উপায় প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি সমাজজীবনে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাব এবং বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা কীভাবে, কতটা ফলপ্রসূ করা যাবে সমাজবিজ্ঞান পাঠ করে সে সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করা যায়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, কৃষি কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে বিদ্যমান সমস্যা দূরীকরণের সঠিক পথ নির্দেশনাও সমাজবিজ্ঞান পাঠ করে জানা যায়।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে নিশ্চিতরূপে বলা যায় যে, সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি অধ্যয়নের মাধ্যমে সমাজ সম্পর্কিত সব ধরনের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা সম্ভব।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
554

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজের মানুষের অবদান ও অধিকার সম্পর্কে জানা যায়। শুধু সামাজিক অধিকারই নয়, সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও সমাজবিজ্ঞান আমাদের জ্ঞান দান করে। আর সে কারণেই বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন জনসংখ্যা সমস্যা, নিরক্ষরতা, অপরাধ ইত্যাদি মোকাবিলায় সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। বস্তুত সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের দিক নির্দেশনা দেওয়া আমাদের সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এসব কর্তব্য পালনের জন্য অর্থাৎ সমাজ সংস্কারের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান একান্ত প্রয়োজন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
1.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারার পরিচয় ফুটে উঠেছে। কেননা ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পাঠ শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা শুরু হয়। ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম সমাজবিজ্ঞান নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উক্ত বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক এ কে নাজমুল করিম ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
355
উত্তরঃ

উত্ত দেশের অর্থাৎ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে- বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি না। এর সপক্ষের যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-

মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৯৭০ সালে এখানে সম্মান কোর্স চালু হয়। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭০ সালে সমাজতত্ত্ব নামক আলাদা একটি বিভাগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এর পরবর্তী দশকে ২০০২ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কিছু কলেজে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর স্তরে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হচ্ছে।

সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এ বিষয়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও অবদান রয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
771
উত্তরঃ

পঠন পরিসর ও উদ্দেশ্যের কারণে সমাজবিজ্ঞানকে মানবতাবাদী প্রায়োগিক বিজ্ঞান বলা হয়। 

সামাজিক প্রয়োজন ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকেই সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা প্রবাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ পরিবারের কথা বলা যায়, পরিবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- একক পরিবার, যৌথ পরিবার, পিতৃতান্ত্রিক পরিবার, মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ইত্যাদি। সমাজবিজ্ঞান সবধরনের পরিবারকেই স্বীকৃতি দেয়। আর এ কারণেই সমাজবিজ্ঞান মানবতাবাদী প্রায়োগিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
1.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews