'সুচেতনা' কবিতায় আজকে রূঢ় রৌদ্রে অনেক প্রাণ ঘুরে বেড়ায়।
'সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ' চরণটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে- সুচেতনার আলো জ্বেলে পৃথিবীর ক্রমমুক্তি নিশ্চিত করবে বিভিন্ন শতাব্দীতে আসা মনীষীরা।
বিভিন্ন শতাব্দীতে এ পৃথিবীতে মনীষী তথা জ্ঞানীদের আগমন ঘটেছে। যারা মানুষের সংকটে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে তাদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। 'সুচেতনা' কবিতার আশাবাদী কবি মনে করেন, পূর্বের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও এ সব মনীষীরা শুভ চেতনার আলো জ্বালিয়ে মানুষের মুক্তির কাজ করবেন।
উদ্দীপকের দুর্ধর্ষ জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ 'সুচেতনা' কবিতার হানাহানি ও রক্তপাত বন্ধ করে শুভচেতনা ধারণ করার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সুচেতনা' কবিতায় পৃথিবীর অস্থির অবস্থাকে অসুখ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে পৃথিবীতে অনেক রক্তপাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কবির বিশ্বাস, শুভচেতনা এই অস্থিরতা ও অসুখ দূর করে মানবমুক্তি নিশ্চিত করবে।
উদ্দীপকের এই জলদস্যুরা সাগর ও নদীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে জেলেদের সর্বস্ব লুটে নিত। এজন্য তারা মানুষকে হত্যা করতেও দ্বিধা করত না। অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে সহায়-সম্পদ লুট করাই ছিল তাদের কাজ। একজন সাংবাদিকের প্রচেষ্টায় তাদের মাঝে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটে এবং তারা হানাহানি ও রক্তপাতের জীবন ছেড়ে দিয়ে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। এমন শুভ চেতনার উদ্রেকই 'সুচেতনা' কবিতার কবির প্রত্যাশা ছিল।
'রক্তপাত ও হানাহানিই পৃথিবীর শেষ সত্য নয়'- 'সুচেতনা' কবিতার কবির বিশ্বাস ও উদ্দীপকের দুর্ধর্ষ জলদস্যুদের, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আলোকে মন্তব্যটির সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়।
'সুচেতনা' কবিতায় কবি পৃথিবীর অস্থির অবস্থা দেখে হতাশ নন। তিনি মনে করেন, সভ্যতার বাঁকে বাঁকে যে রক্তপাত ও হানাহানি ঘটেছে তার অবসান হয়েছে শুভ চেতনার জাগরণের ফলে। তাই তাঁর বিশ্বাস, রক্তপাত ও হানাহানি পৃথিবীর শেষ সত্য নয়; বরং সুচেতনাই হবে শেষ সত্য।
উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার কবির ইতিবাচক এ বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে দুর্ধর্ষ জলদস্যুরা তাদের অতীতের নিকৃষ্ট জীবন থেকে বের হয়ে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উদ্যোগ নেয়। নদী ও সাগরে অস্ত্রের মুখে জেলেদের জীবন ও সম্পদ লুণ্ঠন করাই ছিল যাদের কাজ, তাদের মাঝে শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়ায় তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
'সুচেতনা' কবিতা ও উদ্দীপকের পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুভ চিন্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলে পৃথিবীময় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সভ্যতার প্রতিটি পরতে পরতে হানাহানি, রক্তপাত ও সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তবে পৃথিবীর এই গভীরতর অসুখ শেষ সত্য নয়। মানুষকে মানুষের মতো ভালোবাসা দিয়ে এ অসুখ সারিয়ে তোলা সম্ভব। আলোচ্য কবিতার কবি এমন ইতিবাচক শুভ চেতনার বিশ্বাসে আশাবাদী। তাঁর এমন আশাবাদ উদ্দীপকের দুর্ধর্ষ জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। একজন সাংবাদিক ভালোবাসা দিয়ে তাদেরকে মুক্তি দানের মাধ্যমে আলোচ্য কবিতার 'রক্তপাত ও হানাহানি শেষ সত্য নয়' মন্তব্যটি যথার্থতায় রূপদান করেছেন।
Related Question
View All'সুচেতনা' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন'- উক্তিটিতে কবির সমসাময়িক পৃথিবীতে বিরাজমান ধ্বংসোম্মুখ অবস্থার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানবপ্রেমী কবি তাঁর সমকালীন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে বিরাজমান অসহিষ্ণুতার ভয়ংকর রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন। অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা তাঁকে মর্মাহত করেছে। এই ধ্বংসাত্মক রূপকে তিনি পৃথিবীর 'গভীর গভীরতর অসুখ' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; যার পরিসমাপ্তিই কবির একমাত্র প্রত্যাশা।
উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সুচেতনা' কবিতাটিতে কবি অশুভ চেতনার স্থলে শুভ চেতনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। কবি প্রত্যক্ষ করেছেন পৃথিবীতে অন্ধকার তথা অশুভ শক্তির ভয়ংকর বিস্তার। স্বার্থের দ্বন্দ্বে মানুষ লিপ্ত, ভালোবাসার পরিণামে পৌছাতে স্বীকার করতে হয় বহু আত্মত্যাগ। পৃথিবীব্যাপ্ত এ গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মানুষের মুক্তি প্রয়োজন। আর একমাত্র শুভচেতনার আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই তা সম্ভব।
উদ্দীপকের কবিতাংশে পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির প্রতাপ পরিলক্ষিত হয়। সমাজের সর্বস্তরে অযোগ্য দুশ্চরিত্র লোকেরাই সর্বেসর্বা। পক্ষান্তরে জ্ঞানী-গুণীরা অবহেলিত। পৃথিবীর বৈষম্যময় সমাজব্যবস্থাই মূলত এর জন্য দায়ী। 'সুচেতনা' কবিতার বিষয়বস্তুতেও আমরা পৃথিবীতে এমন অশুভ শক্তির বিস্তার লক্ষ করি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ চেতনার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে
উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির বিস্তারের বিষয়টি উঠে এলেও 'সুচেতনা' কবিতার আশাবাদের দিকটি উন্মোচিত হয়নি।
'সুচেতনা' কবিতাটিতে কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাসকে শিল্পিত করেছেন। যে চেতনা পৃথিবীতে বিরাজিত সকল অন্যায়, অনিয়ম, যুদ্ধ, মৃত্যুসহ যাবতীয় গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে সুস্থ ইহলৌকিক পৃথিবীর মানুষকে জীবন্ময় করে রাখবে। কবির মতে, জীবন্মুক্তির এই চেতনাগত সত্যই পৃথিবীতে ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বালিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে। ইতিবাচক এ আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই সকল অশুভ শক্তি থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকে, পৃথিবীতে এক অদ্ভুত আঁধারের বিস্তার দেখানো হয়েছে। যে আঁধারে অযোগ্যরাই যোগ্যতর হিসেবে মর্যাদা লাভ করে আর যোগ্য ব্যক্তিরা হয় অবমূল্যায়িত। পৃথিবী যেন আজ অযোগ্য মানুষদের পরামর্শ ও নেতৃত্বেই চলছে। যোগ্য, জ্ঞানী, মহৎ মানুষদের মর্যাদা আজ নেই। উদ্দীপকের মতো সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি 'সুচেতনা' কবিতায়ও বিদ্যমান। তবে কবিতায় এ সংকট উত্তরণে মুক্তির পথের দিশারও অনুসন্ধান করা হয়েছে।
উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীতে বিরাজমান অশুভ শক্তির প্রভাবের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যা 'সুচেতনা' কবিতার একটি মাত্র দিক। 'সুচেতনা' কবিতায় এ বিষয়টি ছাড়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে। অশুভ শক্তির স্থলে শুভশক্তির বা শুভ চেতনার বিজয় কবিতাটিতে তাৎপর্যপূর্ণ রূপ লাভ করেছে। ইতিবাচক এ চেতনার মাধ্যমেই সকল বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে- এমন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।" উক্তিটি যথার্থ।
কবি জীবনানন্দ দাশের মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ
কবির সুচেতনা মূলত শুভচেতনা বা শুভবোধের স্মারক।
সুচেতনা মূলত কবির এক ধরনের চেতনাজাত বিশ্বাস, যা সমস্ত নেতিবাচকতা ধ্বংস করে এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটায়। কবির দৃষ্টিতে এটি তাঁর চেতনাগত সত্য। সংগত কারণেই পৃথিবীর নানা অভিঘাতে বা রক্তপাতের ঘটনায় এর কোনো পরিবর্তন হয় না। এ সত্যই শেষ পর্যন্ত আমাদের এক আলোয় ভরা, সুখী ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়। তবে এই চেতনা দূরবর্তী এক দ্বীপের মতোই অধরা। এর বিস্তার সর্বত্র হলেও সব জায়গায় এটি উপস্থিত নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!