আরামদায়ক, সুন্দর ও সহজ জীবনযাত্রার জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা কাজে নিয়োজিত শিল্পকে সেবা শিল্প বলে। যেমন: বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ, ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্য সেবা।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পরিশ্রমী ও বুদ্ধিমান জনগোষ্ঠী হলো দক্ষ জনশক্তি। এটি সামাজিক পরিবেশের একটি অন্যতম উপাদান। দক্ষ ও শিক্ষিত জনসংখ্যা দেশের জন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। নিজেদের দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তারা ব্যবসায়িক উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। এছাড়া, তারা গবেষণামূলক কাজের মাধ্যমে নতুন চিন্তাধারার প্রচলন করে। বেশি সংখ্যক জনসংখ্যা দক্ষ হলে কম দক্ষতার লোকদেরও তারাকাজে লাগাতে পারে। ফলে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। তাই দেশের উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম
বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য ব্যবসায়ের 'রাজনৈতিক পরিবেশ' উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
দেশের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রভৃতির সমন্বয়ে এ পরিবেশ গঠিত হয়। এ পরিবেশ অনুকূলে থাকলে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়। এছাড়া অন্য দেশের সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে। মানবিক দিক বিচারে বাংলাদেশ সরকার দেশের অভ্যন্তরে তাদের প্রবেশে বাধা দেয়নি। তাদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ সেবা দিতে দেশীয় সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা এগিয়ে এসেছে। এতে বিদেশি সংস্থার সাথে এদেশের নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা করেছে। প্রয়োজনে কিছু দেশের সরকার সাহায্যও করেছে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে মানবিকতার প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে। আর, অন্যান্য দেশের সাথে এদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যবসায়ের রাজনৈতিক পরিবেশের উপাদান। এভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
জনবহুল বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশের অনুমতি বাঙালির উদারতাই প্রমাণ করে- সামাজিক পরিবেশের উপাদানের আলোকে উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনি করি।
জাতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, শিল্প ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য প্রভৃতি উপাদানের সমন্বয়ে সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের মানুষ জাতিগত, ঐতিহ্যগত এবং সাংস্কৃতিকভাবে উদার, পরিশ্রমী ও সৃজনশীল। এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয়তাবোধ, জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতিও সামাজিক পরিবেশের অনুকূল উপাদান।
উদ্দীপকে সীমান্ত পথে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে। মানবিক দিক বিচারে বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রবেশে বাধা দেয়নি। এছাড়া, তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করছে।
সীমান্ত পথে যেকোনো ব্যক্তির অবৈধ প্রবেশে বাধা দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় নিয়োজিত থাকে। কিন্তু, রোহিঙ্গাদের এ পথে প্রবেশে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। কারণ, মিয়ানমারে থাকা অবস্থায় তারা দেশের সরকার কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছিল। তাই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হওয়ায় তারা ঐ নিজেদের দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। তাদের মৌলিক অধিকার (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা) নিশ্চিতে বিভিন্ন সংস্থা থেকে অর্থসংস্থান করে বাংলাদেশের সরকার। জাতিগত দিক থেকে রোহিঙ্গারা অন্য দেশের হলেও বাংলাদেশের মানুষ তাদের সহযোগিতা করছে। তাই লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশের অনুমতি বাংলাদেশের মানুষের উদারতাই প্রমাণ করে।
Related Question
View Allমসলিন বস্ত্রের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ব্যবসায়ের গঠন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এমন সব পারিপার্শ্বিক উপাদানের সমষ্টি হলো ব্যবসায় পরিবেশ।
একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায় গড়ে ওঠে। এসব পারিপার্শ্বিক অবস্থা (আবহাওয়া ওজলবায়ু, অর্থ ব্যবস্থা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সরকারি আইন প্রভৃতি) ব্যবসায়ের ওপর প্রভাব ফেলে। এগুলো ব্যবসায়ের ওপর কখনো অনুকূল, আবার কখনো প্রতিকূল প্রভাব ফেলে। এসব প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান মিলে ব্যবসায় পরিবেশ গড়ে ওঠে।
সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীল রচনামূলকতা বিকাশ সম্ভব।
কোনো দেশের জনসংখ্যা, তাদের ধর্ম, বিশ্বাস, শিক্ষা-সংস্কৃতি, রীতি- নীতি ও দেশীয় ঐতিহ্য প্রভৃতির সমন্বয়ে সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। এসব উপাদান মূলত মানুষের সৃষ্টি ও তাদের কাজের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। এটি ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকে মসলিন বস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে এ বস্ত্র উৎপাদনে দক্ষ ছিল। বর্তমানে এ বস্ত্র উৎপাদনের জন্য দক্ষ শ্রমিক ও কারিগরের অভাব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সহজ হবে। এতে শ্রমিক ও কারিগররা পুরনো ঐতিহ্য মসলিন কাপড় সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবসম্পদ সামাজিক পরিবেশের উপাদান। সুতরাং, সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীল রচনামূলকতা বিকাশ সম্ভব।
বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়ের জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি বলে আমি মনে করি।
আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। উন্নত যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে প্রযুক্তিগত পরিবেশ। দেশের সার্বভৌমত্ব, সরকারি নীতিমালা, আইনশৃঙ্খলা প্রভৃতি উপাদানের সমন্বয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। আর অদক্ষ কর্মী ও অস্থিতিশীল রাজনীতি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে আমাদের দেশে মসলিন কাপড়ের ব্যবসায় প্রসারের জন্য অনুকূল পরিবেশ আছে। কিন্তু মূলধনের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল, ধর্মঘট ও দক্ষ কর্মীর অভাব আছে। এসব কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছেন না। ফলে প্রচুর বৈদেশিক চাহিদা থাকার পরও মসলিন কাপড়ের ব্যবসায়ের প্রসার হচ্ছে না। শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নতির জন্য সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিবেশ আবশ্যক। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহী হবেন। ফলে ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ হবে। সরকার অনুকূল শিল্পনীতি প্রণয়ন করলে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এভাবে পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে মসলিন কাপড়ের ব্যবসায়ের প্রসার করা যাবে।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের কাছে পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর সব কাজ (ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, বিজ্ঞাপন) হলো বাণিজ্য।
উৎপাদনের বাহন হলো শিল্প।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য উৎপাদন করা হয়। আর এ উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। তাই শিল্পকে উৎপাদনের বাহন বলা হয়
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
