Kline শব্দের অর্থ Bed বা শয্যা।
সমাজে বিদ্যমান অবাঞ্চিত অবস্থা দূর করতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেসব আইন প্রণয়ন করে সেগুলোই সামাজিক আইন হিসেবে পরিচিত।
এ আইনগুলো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজ করে বলে তা সমাজকল্যাণ আইন হিসেবেও পরিচিত হয়। সমাজের দুর্বল, অসহায় ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বেশির ভাগ সামাজিক আইন প্রণীত হয়, যেমন- যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০; শিশু আইন-১৯৭৪ ইত্যাদি।
উদ্দীপকে বেকার সমস্যাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ করার ইচ্ছা, সামর্থ্য ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাজ না পেলে তাকে বেকার বলা হয়। কর্মে আগ্রহী ব্যক্তির এই অবস্থাকে বেকারত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো দেশে এই সমস্যার প্রধান কারণ মূলধনের অভাব। কেননা এর অভাবে জনসংখ্যাবহুল অনুন্নত দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও নিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে দেশের জনশক্তিকে কাজে লাগানো যায় না, যার প্রভাবে বেকারত্ব দেখা দেয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বেকার সমস্যা সৃষ্টির পেছনে মূলধনের অভাব এবং ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।
উদ্দীপকের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও বয়সসীমার বাধ্যবাধকতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন না। এ অবস্থার পরিত্রাণের জন্য তারা আন্দোলন করছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অবস্থা বেকার সমস্যাকে তুলে ধরে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মী সাহায্যকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।
বেকারত্ব একটি মৌলিক সমস্যা। কোনো বিক্ষিপ্ত কর্মসূচির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সে অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী সমাজকর্মের মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতির আলোকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারেন।
উদ্দীপকের মতো অসংখ্য তরুণ দেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও চাকরি পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী তাদেরকে কারিগরি শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এছাড়া তিনি বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী বা সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থানমূলক কাজের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। এর ফলে পুঁজির স্বল্পতা কাটিয়ে উঠা একজন বেকারের জন্য সহজ হয়। আবার দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যা, সামাজিক কুসংস্কার (যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা সরকারি চাকরি ছাড়া অন্য যে কোনো কাজে মর্যাদা নেই এ রকম ভাবা), কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্য প্রভৃতিও বেকার সমস্যাকে প্রভাবিত করে। একজন সমাজকর্মী এ সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা ভেঙে তাদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন। পরিশেষে বলা যায়, বেকারত্বের কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানে একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।
Related Question
View AllIFNS এর পূর্ণরূপ হলো International Federation of Nematology Societies.
সামাজিক সমস্যা সমাজের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বিধায় একে সর্বজনীনভাবে ক্ষতিকর বিবেচনা করা হয়।
বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যাকে সামাজিক সমস্যা বলা যায় না। যখন কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন বা সামাজিক সমস্যারূপে গণ্য হয়। এটি সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের পরিপন্থী। এছাড়া সামাজিক সমস্যা সব দেশের সব সময়ের সমাজের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো সমাজের মানুষই সামাজিক সমস্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। তাই সামাজিক সমস্যাকে সর্বজনীন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আনিসা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
যে খাদ্যে খাবারের ছয়টি গুণ, যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বিদ্যমান সেই খাবার হলো পুষ্টিসম্মত খাবার। এ ধরনের খাবারের অভাবে শরীরে যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই হলো অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা। আনিসার ক্ষেত্রে এ অস্বাভাবিক অবস্থাই দৃষ্টিগোচর হয়।
বস্তিবাসী আনিসা চোখে সমস্যা, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাঁটা সমস্যাগুলোতে ভুগছে। এছাড়া রক্তস্বল্পতার জন্য তার মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এসব সমস্যার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা মূলত অপুষ্টির কারণেই হয়। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। এ ধরনের খাবারের ঘাটতিই অপুষ্টির সৃষ্টি করে। এ অবস্থা শরীরে নানা ধরনের রোগের জন্ম দেয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। উদ্দীপকের আনিসার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটার কারণে বলা যায়, সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণকে দায়ী করা যায়।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা প্রভৃতি কারণে অনেকেই মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে পুষ্টিহীনতা অন্যতম। আমাদের দেশের অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পায় না। আর পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান দরিদ্র লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব। এছাড়া খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞ। ফলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা স্বাস্থ্যহীনতায় বা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এ কারণে এদেশের মানুষ রক্তশূন্যতা, চক্ষুরোগ, রাতকানা, রিকেটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু খাবারই পর্যাপ্ত নয়, ভালো আবাসন, পোশাক এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এদেশের মানুষ পর্যাপ্ত বাসস্থান, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শহর এলাকায় বস্তি সমস্যা, গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দিন পার করছে। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায় অপুষ্টি নামক সমস্যাটি সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়াই বেশি দায়ী।
জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা শহর সমাজসেবা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করেন।
সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। আর পরিবার সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানব শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মার ওপরই বর্তায়। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালনে কোনো সমস্যা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!