ডায়াবেটিস একটি বিপাক জনিত রোগ।
নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন না করার কারণে আমরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছি।
বিজ্ঞানের প্রসারের সাথে সাথে নগরায়নের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। সেই সাথে আমাদের জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। জীবনযাত্রার ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক জীবনের পরিবর্তে এসেছে অনিয়ম ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবন প্রণালি। এর ফলে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও ওজনাধিক্য ক্রমে বেড়ে চলেছে। এ সকল কারণে আমরা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছি।
শিরিন বেগম উচ্চ রক্তচাপের রোগী। শিরিন বেগমকে সুস্থ থাকার জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে। তাকে নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। তাকে নিয়মিত ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম বা পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত তাকে রক্তচাপ পরিমাপ করতে হবে। তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ করতে হবে। তাকে মানসিক চাপ, উত্তেজনা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া তার ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্দিষ্ট করা এবং প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। নেশা জাতীয় অভ্যাস থাকলে তাকে তা পরিত্যাগ করতে হবে।
শারীরিক যে কোনো জরুরি অবস্থায় বা রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হলে বা ওঠানামা করলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। উপরে উল্লিখিত উপায়ে শিরিন বেগম নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে পারেন।
শিরিন বেগম যেহেতু উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, তাই তাকে খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
শিরিন বেগম যে সমস্ত খাদ্য খেতে পারেন তা হলো বেশি আঁশযুক্ত খাদ্য যেমন- শাকসবজি ও ফল, বিশেষ করে টকজাতীয় ফল যেমন- লেবু, জাম্বুরা, কমলা, আনারস ইত্যাদি। কচি ডাবের পানি, সাদা আটা ও সাদা চালের পরিবর্তে লাল চালের ভাত ও ভুসিসহ আটার রুটি তার জন্য বেশি উপকারী। তার মাছ, চর্বি ছাড়া মাংস ও ডিম প্রয়োজনীয় পরিমাণে খাওয়া উচিত। তিনি ডাল, বাদাম খেতে যেতে পারেন। ননী তোলা দুধ ও এই দুধের তৈরি টক দই তিনি খেতে পারেন। তাকে রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় বাড়তি লবণ খাওয়া যাবে না। তার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য শক্তি গ্রহণ করা যাবে না। শিরিন বেগম যদি উপরের তালিকা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করেন তবে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থেকে অনেকটা রক্ষা পেতে পারেন।
সুতরাং বলা যায়, খাদ্য গ্রহণে সতর্কতাই শিরিন বেগমকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।
Related Question
View Allসুস্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন।
সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা প্রয়োজন।
নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের ফলে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। জীবনের দীর্ঘতা বা আয়ু বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই সুস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।
মিসেস শীলা অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করেন এবং তার খাদ্যাভ্যাসও ত্রুটিপূর্ণ। ফলে তার ওজন বেড়ে যাচ্ছে এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় তার খাদ্যাভ্যাস যেরূপ হওয়া দরকার তা হলো-
১. চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের ছয়টি উপাদান সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
২. যথাযথ সময় পরিকল্পনা করতে হবে। খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হবে। খাওয়ার কমপক্ষে দু ঘণ্টা পর ঘুমাতে যেতে হবে।
৩. পরিমিত পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে হবে।
৪. ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস যেমন অতিরিক্ত ক্যালরি এবং ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে।
৫. দৈনিক কিছু শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
৬. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্য গ্রহণে সচেতন থাকতে হবে।
৭. খাদ্য সম্পর্কিত কুসংস্কার পরিহার করতে হবে।
উপরিউক্ত নিয়মে খাদ্য গ্রহণ করলে মিসেস শীলা খুব সহজেই তার স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।
মিসেস শীলার জীবনপ্রণালি সংশোধন না করলে তার শারীরিক জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
মিসেস শীলার বয়স ৪৫ বছর। এই বয়সে সাধারণত মানুষের প্রোটিন ও ফ্যাটের চাহিদা হ্রাস পায় এবং ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময় প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্য তার খাদ্য তালিকা থেকে কমাতে হবে এবং ভিটামিন ও খনিজ লবণের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মিসেস শীলা পরোটা, মাংস, মিষ্টি, ডিম ইত্যাদি বেশি, পরিমাণে গ্রহণ করেন। এসকল খাদ্য গ্রহণের ফলে তার দেহে অতিরিক্ত ফ্যাট সঞ্চিত হয়ে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া তার সময় ব্যবস্থাপনায়ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। তিনি সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমান। দুপুরে খাওয়ার পর ২ ঘণ্টা ঘুমান, আবার রাতে খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়েন। এই ধরনের জীবনযাপনের ফলে তার গৃহীত খাদ্য পরিপাকে সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং মিসেস শীলার শারীরিক জটিলতা থেকে উত্তরণের জন্য তার জীবন প্রণালির সংশোধন আবশ্যক।
বিপাকজনিত একটি রোগ হলো ডায়াবেটিস।
স্বাস্থ্যরক্ষায় আঁশ জাতীয় খাবার গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি পরিমাণে আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণে রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে। এছাড়া আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে পিত্তথলির রোগ, মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ্ব, এ্যাপেন্ডিকস, হৃদরোগ, স্থূলতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য রোগের প্রকোপ কমে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!