প্রতিফলিত রশ্মি অভিলম্বের সাথে যে কোণ উৎপন্ন করে তাই প্রতিফলন কোণ।
আয়নার সামনে দাঁড়ালে আমাদের ডান হাতকে বাম হাত এবং বাম হাতকে ডান হাত বলে মনে হয়। কারণ আয়নায় আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে, ফলে আমাদের শরীরের ডানদিকের অংশের সমগ্র প্রতিবিম্বটি বামদিকে এবং বামদিকের অংশের প্রতিবিম্বটি ডানদিকে দেখা যায়। তাই 'আয়নার সামনে দাঁড়ালে আমাদের ডান হাতটি প্রতিবিম্বের বাম হাত বলে মনে হয়।
উদ্দীপকে শিক্ষক আলো দিয়ে আমরা কিভাবে দেখি তা পরীক্ষার সাহায্যে দেখালেন, নিচে পরীক্ষাটি বর্ণনা করা হলো-
প্রয়োজনীয় উপকরণ: একটি কাঠের বাক্স বা জুতার বাক্স, একটি নুড়ি 'পাখর ও কিছু কালো কাগজ।
পদ্ধতি: ঢাকনাসহ একটি জুতার বাক্স নিই। কালো কাগজ দিয়ে বাক্সের ভিতরটা মুড়ে দিই। ঢাকনার উপর একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র করি এবং একপাশের দেয়ালে একটি বড় ছিদ্র করি। নুড়ি পাথরটি ঢাকনার ছিদ্রটির ঠিক নিচে রাখি। ঢাকনাটি বন্ধ করে দিই। বাক্সের পাশের দেয়ালের বড় ছিদ্রটি একটি মোটা কালো কাগজ বা টেপ দিয়ে ঢেকে দিই। ঢাকনার ছিদ্র দিয়ে নুড়িটি দেখার চেষ্টা করি। নুড়িটি দেখা যাচ্ছে না। বাক্সের পাশের দেয়ালের বড় ছিদ্রটির কালো কাগজ বা টেপ সরিয়ে নিই। এ ছিদ্র দিয়ে বাক্সে আলো প্রবেশ করবে। ঢাকনার ছিদ্র দিয়ে আবার নুড়িটি দেখার চেষ্টা 'করি। এবার নুড়িটি দেখা যাচ্ছে।
এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, আলো ছাড়া কোনো কিছু দেখা যায় না। কোনো বস্তুতে আলো পড়ে তা আমাদের চোখে ফিরে আসলেই আমরা বস্তুটি দেখতে পাই।
উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষকের বক্তব্যটি হলো কোনো বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখি।
ব্যাখ্যা: বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে না পড়লে আমরা কখনই বস্তুটিকে দেখতে পাইনা। যেমন আমাদের সামনে অন্ধকারে একটি বল রাখলে বলটি আমরা 'দেখতে পাইনা। তবে একটি বাঘ জ্বালিয়ে দিয়ে বলটি দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বাম্ব থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে বলে আমরা বাম্বটি দেখতে পাই। আবার বাম্ব থেকে আলো গিয়ে বলের উপর পড়ে, বল থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ে বলে আমরা বলটি দেখতে পাই। অর্থাৎ বলের নিজস্ব 'কোনো আলো নেই বলে তার উপর আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে আসলে আমরা তা দেখতে পাই। বলের মতো যেসব বস্তুর নিজস্ব আলো নেই তাদেরকে দেখতে হলে অন্য বস্তু থেকে আলো তার উপর প্রতিফলিত হতে হয়, এসব বস্তুকে অনুজ্জ্বল বস্তু বলে। আবার কোনো কোনো বস্তুর নিজস্ব আলো আছে যেমন- সূর্য, তারা, জোনাকি পোকা, মোমবাতি ইত্যাদি বস্তু থেকে সরাসরি আলো
আমাদের চোখে আসে এবং আমরা আমরা তা তা দেখতে পাই। । এদেরকে উজ্জ্বল বস্তু বলে। আবার কোনো কোনো অনুজ্জ্বল বস্তুতে আলো পড়লে তা সমস্ত আলো শোষণ করে নেয় বলে ঐ সব বস্তু কালো দেখায়।
Related Question
View Allকোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে, তা হলে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিবিম্ব বলে।
আমরা জানি, কোনো বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই। আবার কোনো বস্তু থেকে কোনো মসৃণ তলে আলো প্রতিফলিত হয়ে অন্য কোনো মসৃণ বা চকচকে পৃষ্ঠে পড়লে ঐ পৃষ্ঠে বস্তুটির প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার কারণে আমরা কোনো দর্পণের সামনে দাঁড়ালে আমাদের প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। সমতল দর্পণ বা আয়নার ক্ষেত্রে অসদ ও সোজা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এক্ষেত্রে দর্পণের যত সামনে বস্তু, থাকে, দর্পণের ঠিক ততটুকু পেছনে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যায় এবং বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়। এ কারণে সামিন বেসিনের আয়নার সামনের দিকে যেতে থাকলে, আয়নায় তার প্রতিচ্ছবিও সামনের দিকে আসে এবং দূরে যাওয়ার সাথে সাথে প্রতিচ্ছবি দূরে সরে যায়।
সামিনের বাসায় প্রস্তুতকৃত পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না।
উত্তরের সপক্ষে যুক্তি: পেরিস্কোপে সাধারণত দর্পণ দুটিকে দর্পণের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণ করে রাখা হয়। এতে আলো প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখি। পেরিস্কোপের দর্পণদ্বয় সমান্তরালে থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায়। সামিন যে পেরিস্কোপটি তৈরি করেছে তাতে সে দর্পণকে ৩০° কোণে রেখেছে এতে বস্তু থেকে আলো এসে ১ম দর্পণে পড়লে তাতে আপতন কোণ হবে ৬০°। এর ফলে আলো দ্বিতীয় দর্পণে পৌছাতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হবে না। দ্বিতীয় দর্পণে আলো না পৌছালে তা আর আমাদের চোখে পৌঁছাবে না। তাই সামিনের তৈরি পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে না।
কোনো মসৃণ পৃষ্ঠে আলো পড়ে বাধা পেয়ে ফিরে আসাকে প্রতিফলন বলে।
আলোর প্রতিফলনের দুটি নিয়ম রয়েছে।'
১. আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
