যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজেই তড়িৎ পরিবাহিত হতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
বাহ্যিক বল প্রয়োগে দুটি বস্তুকে যখন ঘর্ষণ করানো হয় তখন যে বস্তুর ইলেকট্রনের আসক্তি বেশি সে বস্তু অপর বস্তু থেকে মুক্ত ইলেকট্রন সংগ্রহ করে ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় এবং অপর বস্তুটিতে ইলেকট্রনের ঘাটতি হওয়ায় তা ধনাত্মক আধানে আহিত হয় এবং বস্তুদ্বয়ে বিদ্যুতের সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ ঘর্ষণের ফলে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে বলেই অনাহিত বস্তু আহিত হয়।
উদ্দীপকে অহনা দণ্ড চুম্বককে লোহার সাথে ঘষলো। এরপর দেখা গেল যে লোহার দণ্ডটি ছোট ছোট লোহার গুঁড়াকে আকর্ষণ করে। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
কোনো চৌম্বক পদার্থকে চুম্বকের সাথে ঘষলে চৌম্বক পদার্থটি চুম্বকে পরিণত হয় এবং অপর চৌম্বক পদার্থকে আকর্ষণ করে। এখানে লোহার দণ্ড একটি চৌম্বক পদার্থ। ফলে লোহার দণ্ডকে, দণ্ড চুম্বকের সাথে ঘষায় লোহার দণ্ডটি চুম্বকে পরিণত হয় এবং ছোট ছোট লোহার গুঁড়া অর্থাৎ চৌম্বক পদার্থকে আকর্ষণ করে।
শিক্ষকের সর্বশেষ বক্তব্যটি হলো- চুম্বকের সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এটি প্রমাণ করার জন্য নিচের পরীক্ষাটি করা যায়-

প্রথমে দণ্ড চুম্বকটি সুতা দিয়ে ঝুলাতে হবে। এক্ষেত্রে দণ্ড চুম্বকটি উত্তর-দক্ষিণ মুখ হয়ে থাকবে। এরপর যে লোহার দণ্ডকে চুম্বকে পরিণত করা হয়েছে সেটিকে উত্তর-দক্ষিণমুখী করে ঝুলাতে হবে। এরপর দণ্ড চুম্বক এবং লোহার দণ্ডের উত্তর-দক্ষিণ মেরু চিহ্নিত করতে হবে। এরপর প্রথমে দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরুকে যদি লোহার দণ্ডের উত্তর মেরুর কাছে নিয়ে আসা হয় তাহলে দেখা যাবে এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করছে। আবার দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরুকে লোহার দণ্ডের দক্ষিণ মেরুর কাছে নিয়ে গেলে দেখা যাবে এরা পরস্পরকে আকর্ষণ করছে। অর্থাৎ সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
Related Question
View Allযেসব পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে।
একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সবসময় উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে থাকে। ঝুলন্ত চুম্বকটিকে একটু এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে ছেড়ে দিলে কিছুক্ষণ দোল খেয়ে আবার উত্তর দক্ষিণ বরাবর অবস্থান নেবে। এ ঘটনা, থেকে অবশ্যই ধারণা করা যায় যে, একটি বাহ্যিক বল দণ্ড চুম্বকটির উপর ক্রিয়া করে তাকে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর থাকতে বাধ্য করছে। পৃথিবীর সবজায়গায়ই এ ঘটনা দেখা যায়। এ থেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বক।
উদ্দীপকের ১ম চুম্বকটি ঘর্ষণ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়েছে।

কৌশল: একটি দণ্ড চুম্বক ও একটি চৌম্বক পদার্থ লোহার দণ্ড নিই। লোহার দণ্ডটিকে টেবিলের ওপর রাখি। এবার দন্ড চুম্বকটিকে লোহার দণ্ডের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঘষে নিই। আবার দণ্ড চুম্বকটিকে তুলে নিয়ে পূর্বের মতো এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ঘষে নিই। এভাবে বেশ কয়েকবার একমুখী ঘর্ষণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করি। এবার একটি লোহার পিন লোহার, দণ্ডটির নিকটে আনি। দেখা যাচ্ছে, লোহার পিনটি দণ্ডটি কর্তৃক আকৃষ্ট হচ্ছে। অর্থাৎ লোহার দন্ডটি চুম্বকে পরিণত হয়েছে। যদি চুম্বকটির উত্তর মেরু দ্বারা ঘর্ষণ করা হয় তাহলে প্রথম যে প্রান্ত থেকে ঘর্ষণ শুরু হয়েছে দন্ডের সেখানে উত্তর মেরু এবং শেষপ্রান্তে দক্ষিণ মেরুর সৃষ্টি হয়েছে।
এটিই হলো ঘর্ষণের মাধ্যমে চুম্বক তৈরির কৌশল।
উদ্দীপকের ২য় প্রকারের চুম্বকটি বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে একটি লোহার পেরেককে সাধারণ বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পেঁচিয়ে কুণ্ডলী তৈরি করা হয়।

চিত্র: বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে তৈরি চুম্বক
তারপর তারের দুই প্রান্তকে একটি ব্যাটারির দুই প্রান্তের সাথে সংযুক্ত করে একটি আলপিনকে পেরেকের যেকোনো প্রান্তে আনলে দেখা যায় যে পেরেকটি আলপিনকে আকর্ষণ করে। কিন্তু তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিলে পেরেকটি আর আলপিনকে আকর্ষণ করে না।
অর্থাৎ পেরেকটি অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয়েছে। এভাবে তৈরি চুম্বক ক্ষণস্থায়ী কিন্তু শক্তিশালী। কারণ এদের চৌম্বকত্বের মাত্রা নির্ভর করে প্রবাহিত ব্যাটারির বিদ্যুৎ প্রবাহের উপর। বিদ্যুৎ প্রবাহ বেশি হলে এদের চৌম্বকত্বের মাত্রাও বেশি হয়। অন্যদিকে ঘর্ষণ পদ্ধতিতে তৈরি ১ম চৌম্বক স্থায়ী হলেও তাদের চৌম্বকত্বের মাত্রা এতো বেশি হয় না।
উপরের আলোচনা হতে বলা যায়, ২য় প্রকারের চুম্বকটি শক্তিশালী হলেও ক্ষণস্থায়ী।
যখন কোনো বিদ্যুৎ যেখানে সৃষ্টি হয় সেখানেই স্থির বা আবদ্ধ থাকে, কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় না তাকে স্থির বিদ্যুৎ বলে।
যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই বিদ্যুৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে। ধাতুসমূহ বিদ্যুৎ পরিবাহী। কারণ ধাতুসমূহের সর্বশেষ কক্ষপথে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, যা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে। আর এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলোই বিদ্যুৎ পরিবহনে অংশগ্রহণ করে। এ মুক্ত ইলেকট্রনগুলোর উপস্থিতির কারণে ধাতু বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!