সমাজকর্মের পরিভাষায় 'Client' হলো সাহায্যার্থী।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম বলতে ব্যক্তি, পরিবার এবং দলের সাথে অথবা তাদের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে সমাজকর্ম অনুশীলন করাকে বোঝায়।
সমাজকর্মের এ শাখায় মানুষের সমস্যাগুলোকে ক্ষুদ্র আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করা হয়। সাধারণত শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্যকলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে সাহায্যার্থীকে সাইকোথেরাপি এবং পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সাহায্য দেওয়া
উদ্দীপকের সালেহা খাতুনের দায়িত্ব প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের পেশাদার প্রতিনিধির ওপর দেওয়া হয়।
সমাজকর্মের যে শাখা প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করে সেটিই প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম। সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের প্রবীণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক, মানসিক ও আর্থ-সামাজিক সমস্যায় ভোগেন। শারীরিক নানা ধরনের বাধা-বিপত্তি ছাড়াও দারিদ্র্য, অনাহার, অনাদর, অবহেলা, বিদ্রুপ বা কটাক্ষ, মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা বা প্রবঞ্চনা এ বয়সে অনেক প্রবীণকেই বিপর্যস্ত করে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের উৎপত্তি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রবীণ সমাজকর্মের পেশাদার প্রতিনিধিরা সহায়ক ভূমিকা রাখেন।
উদ্দীপকের সালেহা বেগমের বয়স ৭০ বছর। তার ছয় সন্তান চাকরি করলেও কেউ তার দেখাশোনা করে না। দারিদ্র্যের কারণে শারীরিক দুর্বলতা ও বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য এই বয়সে তাকে ভিক্ষা করতে হয়। নিঃসঙ্গতা, বিষণ্ণতা ও মানসিক দুশ্চিন্তায় তিনি একদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন থেকে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে সালেহা বেগম সুস্থ হওয়ার পর আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাকে একজন পেশাদার প্রতিনিধির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাই বলা যায়, সালেহা খাতুনকে প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের পেশাদার প্রতিনিধির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
উদ্দীপকে প্রবীণ সমস্যা নির্দেশ করা হয়েছে। প্রবীণদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পেশাদার প্রতিনিধি অর্থাৎ প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।।
একজন সমাজকর্মী মূলত একজন পরিবর্তন প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তাই বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে তিনি প্রবীণকল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ সেবা প্রদান সমাজকর্মীর ভূমিকার অর্ন্তভুক্ত। ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বিপদকালীন সময়ে প্রবীণদের এই সেবা দেওয়া হয়। এর ফলে তাদের মধ্যে সমস্যা মোকাবিলা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সামর্থ্য গড়ে ওঠে। প্রবীণদের কল্যাণে সামাজিক, অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য একজন সমাজকর্মী স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারকে প্রভাবিত করতে পারেন। এছাড়াও তিনি ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, প্রবীণরা তাদের বয়সজনিত মূল্যবোধ বা পুরনো বদ্ধমূল ধারণার কারণে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হন। এক্ষেত্রে তাদেরকেও সচেতন করে তুলতে হবে। সেইসাথে তারা যাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। এ সমস্ত ক্ষেত্রে প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মীর ভূমিকা তাই অপরিসীম।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, প্রবীণদের নানামুখী সমস্যা সমাধানে পেশাদার প্রতিনিধি অর্থাৎ প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন
Related Question
View Allমার্কিন সমাজবিজ্ঞানী শার্লট টোলে মৌল মানবিক চাহিদাকে ৬ ভাগে ভাগ করেছেন।
মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশে বাসস্থান পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয়।
নিরাপদে বসবাসের জন্য বাস্থানের বিকল্প নেই। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাসস্থান সংকট বাড়ছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের প্রায় ২৫% মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পরিবার প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা ৪.৯ জন, শহরে ৪.৮ এবং গ্রামে ৪.৯ জন। তবে বাংলাদেশ সরকার শহর এলাকার বাসস্থান সংকট কমিয়ে আনতে পূর্বাঞ্চল এলাকায় বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা শিক্ষাকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা পূরণ না হলে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশে বিরাজমান বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, বেকারত্ব প্রভৃতি। বর্তমানে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮ লাখ (অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮) এবং এদেশের শতকরা ২৪.৩ ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, বেকারত্ব, অসচেতনতা, শিক্ষা উপকরণের অভাব প্রভৃতি কারণে মৌলিক চাহিদা হিসেবে শিক্ষার উদ্দীপকে দেখা যায়, কানাইপুর একটি অনগ্রসর এলাকা। এর বাসিন্দারা পড়াশোনার ব্যাপারে উদাসীন, এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থাও অনুন্নত। শিক্ষার অভাবের কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে কুসংস্কার, ভুল চিকিৎসা, অলৌকিকতায় বিশ্বাস প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে। অথচ শিক্ষা মানুষকে আধুনিক করে তোলে এবং আদর্শ সমাজ গঠনে সহায়তা করে। কিন্তু অধিক জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের পক্ষে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার অভাবে তারা নিরক্ষর ও অজজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। যার প্রভাবে স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতন, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তেমনি উদ্দীপকের কানাইপুর গ্রামে শিক্ষার অভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি বিদ্যমান।
উদ্দীপকে নির্দেশিত শিক্ষার চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মীর ভূমিকা অপরিসীম- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি বিশেষ শাখাকে বোঝায়, যা বিদ্যালয় পরিবেশে শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে বিদ্যালয় সমাজকর্মী পরিবার, স্কুল ও সমষ্টির মাঝে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অধিক জনসংখ্যা, বেকারত্ব, কুসংস্কারে বিশ্বাস, অসচেতনতা প্রভৃতির মতো সামাজিক সমস্যা শিক্ষা অর্জনের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী তার দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে এসব সমস্যা দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারেন।
উদ্দীপকের কানাইপুর গ্রামে শিক্ষার অভাবে কুসংস্কারে বিশ্বাস, ভুল চিকিৎসার প্রচলনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। এর পেছনে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞানতাসহ সামগ্রিক অবস্থা দায়ী। এক্ষেত্রে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। পারিবারিক ও আর্থিক সংকট, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এখনো অসংখ্য শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এ সংখ্যা কমিয়ে এনে শতভাগ শিক্ষার্থীর হার নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় সমাজকর্মের জ্ঞানের উপযোগিতা আছে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের স্কুলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ভূমিকা রাখেন। সেই সাথে তিনি পড়াশোনায় অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে মানসিক সমর্থন দিয়ে থাকেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কানাইপুর এলাকার মানুষের শিক্ষার চাহিদা পূরণে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
১৯০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাইকিয়াট্রিক কোর্স প্রথম চালু হয়।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিদ্যালয় সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বিদ্যালয় সমাজকর্মী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্ষেত্রে বাধা দূর করার জন্য বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, পরিবার এবং সমষ্টির বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করতে পারেন। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি ও দল সমাজকর্ম পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে পারেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!