শিশুর খাবার হচ্ছে দুধ।
অনেক ছেলেমেয়েরা বড় ধরনের সমস্যা ছাড়া কৈশোরকাল পার করে। কিন্তু কেউ কেউ আছে যারা শুধু তাদের জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং তাদের সমস্যা পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশি, সহপাঠী সকলেরই জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যাগুলোই হলো মনো- সামাজিক সমস্যা।
শাওনের কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ হলো নতুন পরিবেশ।
মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো কৈশোরকাল। এসময় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন খুব দ্রুত হয়। ফলে পরিবর্তনশীল পরিবেশে খাপ খাওয়াতে গিয়ে অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন হয়। এর অন্যতম কারণ হিসেবে মানসিক সমস্যা বা বিপর্যয়কে দায়ী করা হয়। এ ধরনের অপরাধে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের সংখ্যা বেশি। নতুন পরিবেশে হঠাৎ করে কীভাবে খাপ খাওয়াতে হবে তা তারা বুঝে উঠতে পারে না। ফলে অজান্তেই অনেকে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে।
বদলিজনিত কারণে শাওনের বাবার প্রায়ই কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে হয়। ফলে শাওনকেও নতুন পরিবেশে যেতে হয়। নতুন পরিবেশ, নতুন স্কুল, নতুন বন্ধুবান্ধব ইত্যাদির কারণেই শাওন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ বয়সী ছেলেমেয়েরা হঠাৎ করে ভালো-মন্দ বিবেচনা করতে পারে না। ফলে সহজেই অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। শাওনও নতুন পরিবেশে এসে কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
শাওন নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ায় নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধুবান্ধব পেয়ে মারামারি, স্কুল পালানো এসব অপরাধে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ সকল অপরাধ কিশোরদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। শাওনকে এ ধরনের অপরাধ থেকে দূরে রাখার জন্য যেসকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা হলো-
শাওনের বিদ্যালয়ে কোনো সমস্যা হলে তা পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাধান করতে হবে। শাওনকেও তার বন্ধুদলের অপরাধমূলক কাজকে উৎসাহ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মেলামেশার জন্য ভালো বন্ধুদল নির্বাচন করতে হবে। আইন ও নিয়ম ভঙ্গকারীকে খারাপ বন্ধু হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
বাবা-মাকেও শাওনের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে যেন সে অপরাধের সাথে জড়িয়ে না পরে। এ জগতের খারাপ দিকগুলো শাওনের সামনে তুলে ধরতে হবে। সে নতুন পরিবেশে কাদের সাথে মিশছে, স্কুলে ঠিকমতো যাচ্ছে কি না, বাইরে কীভাবে সময় কাটাচ্ছে এ বিষয়ে শাওনের বাবা-মা যত্নশীল হলে সহজেই তাকে এ ধরনের অপরাধ হতে দূরে রাখতে পারবেন।
Related Question
View Allকোনো সমস্যা যেন উদ্ভব না হয় তার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
কৈশোরে বিষণ্ণতাজনিত কারণে খাবারে অনীহা আসে।
কৈশোরে অতিরিক্ত কঠোর শাসন, সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের অবনতি, বাবা-মায়ের কলহ, পড়াশোনায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণ থেকে যে বিষণ্ণতা আসে তা খাবারে অনাসক্তির অন্যতম কারণ।
ইমন কৈশোরকালে অবস্থান করছে।
ইমন মাঝে মাঝে স্কুল পালায় ও ক্লাসে অমনোযোগী থাকে। তার বয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েরাও এ বয়সে নানা কারণে অপরাধী হয়ে ওঠে। এর কারণগুলো হলো-
১. পরিবারে বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ শিশুদের মনে বিষণ্ণতা তৈরি করে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলে।
২. পিতামাতার কঠোর শাসন, অতিরিক্ত ভালোবাসা, অযত্ন, অবহেলা, ইত্যাদি।
৩. পড়াশোনায় ব্যর্থতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, সমবয়সীদের প্রভাব।
৪. পরিবারে নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলার অভাব হলে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, পিতামাতার সঠিক পদ্ধতিতে সন্তান পরিচালনা, ভগ্ন পরিবার, পারিবারিক বন্ধনের অভাবই এ বয়সী ছেলেমেয়েদের অপরাধী হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ।
ইমন ১৩ বছর বয়সী কিশোর। তার বাবা-মায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় তারা দুজন আলাদা বসবাস করেন। ফলে ইমন বাবা-মায়ের অবহেলায় বেড়ে উঠছে। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নিয়ম শৃঙ্খলার অভাবে সে স্কুলে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। নিম্নলিখিত উপায়ে তার অপরাধ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। যেমন-
১. ইমনের সাথে তার মা-বাবার বন্ধন দৃঢ় করে।
২. পরিবারের সবার মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করে।
৩. পরিবারের ভাঙ্গন রোধ করে।
৪. ইমনের বাবা-মার মধ্যে সমঝোতার সম্পর্ক গড়ে তুলে।
৫. ইমনের বাবা-মার ইমনের প্রতি আরো যত্নশীল হওয়ার মাধ্যমে।
৬. তার স্কুলে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না তা খোঁজ নেওয়া ও প্রয়োজনে শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করে।
এ সকল বিষয় ছাড়াও ইমনেরও কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। যেমন- ভালো বন্ধু দল নির্বাচন, নিয়ম ভঙ্গকারীকে খারাপ বন্ধু হিসেবে চিনে নেওয়া ইত্যাদি।
কোনো সমস্যা যেন উদ্ভব না হয় তার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
কৈশোরে বিষণ্ণতাজনিত কারণে খাবারে অনীহা আসে।
কৈশোরে অতিরিক্ত কঠোর শাসন, সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের অবনতি, বাবা-মায়ের কলহ, পড়াশোনায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণ থেকে যে বিষণ্ণতা আসে তা খাবারে অনাসক্তির অন্যতম কারণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!