অর্থনীতিতে মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করাকে ভোগ বলে।
সাধারণত ভোগ বলতে কোনো দ্রব্য নিঃশেষ হওয়াকে বোঝালেও অর্থনীতিতে একটি দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ হওয়াকে বোঝায়।
মানুষ কোনো জিনিস সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে পারে না। সে শুধু জিনিসটির আকার বা রূপ পরিবর্তন করে উপযোগ গ্রহণ করতে পারে। যেমন- আমরা ভাত, মাছ, কলম, ঘড়ি, জামা-কাপড় ব্যবহার বা ভোগ করি। এখানে ভোগ বলতে দ্রব্যগুলো নিঃশেষ করাকে বোঝায় না; বরং দ্রব্যগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে এর উপযোগ নিঃশেষ করাকে বোঝায়। সুতরাং, অভাব মোচন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দ্রব্যের উপযোগ ধ্বংস করলে তাকে ভোগ বলা যাবে না।
জাউদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র হতে নিচে একটি প্রান্তিক উপযোগ সূচি তৈরি করা হলো।
দ্রব্যের বিভিন্ন একক হতে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগের সাথে দ্রব্যের বিভিন্ন এককের মধ্যকার সম্পর্ককে যে সূচিতে দেখানো হয়, তাকে প্রান্তিক উপযোগ সূচি বলে। প্রান্তিক উপযোগ সূচি:
দ্রব্যের একক | প্রান্তিক উপযোগ |
১ম | ৫ |
২য় | ৪ |
৩য় | ৩ |
৪র্থ | ২ |
৫ম | ১ |
৬ষ্ঠ | ০ |
৭ম | -১ |
প্রদত্ত তথ্যের আলোকে মোট উপযোগী সূচি তৈরি করে মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগের মধ্যে ৪টি পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত উপযোগের সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলে। আর অতিরিক্ত এক একক ভোগ হতে যে অতিরিক্ত উপযোগ পাওয়া যায় তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে। মোট উপযোগ সূচি:
দ্রব্যের একক | প্রান্তিক উপযোগ (MU) | মোট উপযোগ (TU) |
১ম | ৫ | ৫ |
২য় | ৪ | ৫+৪ = ৯ |
৩য় | ৩ | ৯৭৩ = ১২ |
৪র্থ | ২ | ১২+২ = ১৪ |
৫ম | ১ | ১৪+১ = ১৫ |
৬ষ্ঠ | ০ | ১৫+০= ১৫ |
৭ম | -১ | ১৫-১ = ১৪ |
উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে নির্ণীত উপরের সূচিতে লক্ষ করা যায়- মোট উপযোগ হলো ভোগকৃত কোনো দ্রব্যের সকল একক হতে প্রাপ্ত উপযোগের সমষ্টি; আর প্রান্তিক উপযোগ হলো দ্রব্যের সর্বশেষ অতিরিক্ত এক একক ভোগ থেকে প্রাপ্ত উপযোগ। একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দ্রব্যের ভোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে যেমন: ৫, ৯, ১২। কিন্তু প্রান্তিক উপযোগ কমতে থাকে যেমন: ৫.৪, ৩। বিভিন্ন একক হতে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ যোগ করে মোট উপযোগ পাওয়া যায়। তাই প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হলেও মোট উপযোগ কখনও শূন্য হয় না বরং সর্বোচ্চ (১৫ একক) হয়। মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হওয়ার পর ভোগ বৃদ্ধি করলে মোট উপযোগ কমতে থাকে (১৪ একক) এবং প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হয়ে থাকে (-১ একক)। কিন্তু মোট উপযোগ কখনও ঋণাত্মক হতে পারে না।
এভাবে উদ্দীপকের আলোকে মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগের মধ্যকার পার্থক্যগুলো ব্যাখ্যা করা যায়।
এ অধ্যায়ে ধনতান্ত্রিক বা বাজারব্যবস্থার অধীনে উপযোগ, ভোগ, মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগ, ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি, চাহিদা, যোগান, বাজার চাহিদা, বাজার যোগান রেখা ও ভারসাম্য দাম নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ।
এই অধ্যায় পাঠশেষে আমরা-
উপযোগের ধারণা বর্ণনা করতে পারব
উপযোগ, ভোগ ও ভোক্তার মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারব
মোট উপযোগ যে প্রান্তিক উপযোগের সমষ্টি তা প্রমাণ করতে পারব
ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি চিত্র সহকারে ব্যাখ্যা করতে পারব
দাম ও চাহিদার পরিমাণের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব
দাম ও যোগানের পরিমাণের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব
ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ নির্ণয় করতে পারব ।
Related Question
View Allঅর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের অভাব পূরণ করার ক্ষমতাকে উপযোগ বলে
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দ্রব্যের ভোগ বাড়লে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ার সাথে সাথে প্রান্তিক উপযোগ কমতে থাকে। মোট উপযোগ হলো একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তির সমষ্টি। আর, অতিরিক্ত এক একক দ্রব্য ভোগ করে যে অতিরিক্ত তৃপ্তি পাওয়া যায় তাই প্রান্তিক উপযোগ। যেমন- টিপু ৩টি পেয়ারা ভোগ করে যথাক্রমে ৬, ৪ ও ৩ টাকা সমান উপযোগ পায়। এক্ষেত্রে তার মোট উপযোগ হবে (৬+ ৪+৩) = ১৩ টাকার সমান, এবং প্রান্তিক উপযোগ হবে যথাক্রমে ৬, ২ ও ১ টাকা।
X' দ্রব্যের চাহিদা সূচি থেকে 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো

প্রদত্ত রেখাচিত্রে ভূমি (OX) অক্ষে চাহিদার পরিমাণ এবং লম্ব (OY) অক্ষে দাম পরিমাপ করা হয়েছে। চাহিদা সূচি অনুযায়ী 'X' দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ২০ টাকা, ১৫ টাকা ও ১০ টাকা হলে তার চাহিদা হয় যথাক্রমে ৫ কুইন্টাল (বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত), ১০ কুইন্টাল (বিন্দু ৮ দ্বারা নির্দেশিত) এবং ১৫ কুইন্টাল (বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত)। এখন দাম ও চাহিদার পরিমাণ নির্দেশক ৮৩ কিন্দুগুলো যোগ করে DID, রেখাটি পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে প্রদত্ত সূচির ভিত্তিতে অঙ্কিত 'ক' ব্যপ্তির চাহিদা রেখা। দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখাটি বামদিক থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়েছে।
ক' ও 'খ' ব্যক্তির চাষিদার পরিমাণ যোগ করে 'X' দ্রব্যের বাজার চাহিদা পাওয়া যায়। নিম্নে বাজার চাহিদার সাথে 'ক' ব্যক্তির চাহিদা তুলনা করা হলো-
প্রতি একক দ্রব্যের দাম (টাকায় | ক' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ Q) (কুইন্টাল) | 'খ' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ Q: (কুইন্টাল | বাজার চাহিদার পরিমাণ ০-০ (কুইন্টাল) |
২০ | ৫ | ৭ | ১২ |
১৫ | ১০ | ১১ | ২১ |
১০ | ১৫ | ১৫ | ৩০ |
প্রদত্ত সূচির ভিত্তিতে X দ্রব্যের বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো-

চিত্রে OX অক্ষে দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ এবং OY অক্ষে দ্রব্যের দাম নির্দেশ করা হয়েছে। D,D, হলো 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা এবং D,D, হলো 'খ' ব্যক্তির চাহিদা রেখা। 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ যোগ করে বাজার চাহিদা পাওয়া যায়, যা D'D' রেখা দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদার সাহায্যে বাজার চাহিদা পাওয়া গেলেও উভয় চাহিদা রেখার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা কেবল একজন ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ নির্দেশ করে। অন্যদিকে বাজার চাহিদা বাজারে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদার সমষ্টিগত পরিমাণকে প্রকাশ করে, তাই বাজার চাহিদার পরিমাণ ব্যক্তিগত চাহিদার পরিমাণ থেকে সবসময় বেশি হয়। আবার, বাজার চাহিদা রেখা এবং ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা উভয়ই বামদিক থেকে ডানদিকে, নিম্নগামী হলেও বাজার চাহিদার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এ রেখাটি অপেক্ষাকৃত কম ঢাল বিশিষ্ট হয়।
ক্রেতার যে আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকে, অর্থনীতিতে তাকে চাহিদা বলে।
কোনো দ্রব্যের দামের সাথে তার চাহিদার পরিমাণের বিপরীত সম্পর্ক যে বিধির সাহায্যে প্রকাশ করা হয় তাকে চাহিদা বিধি বলে।
ভোক্তার আয়, রুচি ও অভ্যাস, ক্রেতার সংখ্যা, বিকল্প দ্রব্যের দাম অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে। যেমন- কোনো দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ১০ টাকা হলে, একজন ভোক্তা ৪ একক দ্রব্য ক্রয় করে। দাম কমে ৮ টাকা এবং ৬ টাকা হলে চাহিদা বেড়ে যথাক্রমে ৬, ৮ একক হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, দ্রব্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের সাথে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!