বাগুঙ্গি শব্দের অর্থ হলো কথা বলার ভঙ্গি, বাকবৈশিষ্ট্য বা প্রকাশভঙ্গি। ব্যাকরণে বাগুঙ্গি বা বক্তব্যের অর্থগত প্রকাশভঙ্গি অনুসারে বাক্যকে মূলত ৭টি ভাগে ভাগ করা হয়।
নিচে উদাহরণসহ বাগুঙ্গি অনুসারে বাক্যের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করা হলো:
১. নির্দেশক বা বিবৃতিমূলক বাক্য (Declarative Sentence)
যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো সাধারণ তথ্য, ঘটনা বা বক্তব্য সাধারণভাবে প্রকাশ করা হয়, তাকে নির্দেশক বাক্য বলে। এটি দুই প্রকার:
অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-বোধক (Affirmative): বাক্যটি ইতিবাচক অর্থ প্রকাশ করে।
উদাহরণ: আমরা প্রতিদিন বই পড়ি।
নেতিবাচক বা না-বোধক (Negative): বাক্যটি নেতিবাচক অর্থ প্রকাশ করে।
উদাহরণ: সে আজ স্কুলে যায়নি।
২. প্রশ্নবোধক বাক্য (Interrogative Sentence)
যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা বা প্রশ্ন করা বোঝায়, তাকে প্রশ্নবোধক বাক্য বলে। এই বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) বসে।
উদাহরণ: তোমার নাম কী?
৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য (Imperative Sentence)
যে বাক্যের দ্বারা আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, নিষেধ বা আমন্ত্রণ প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে।
উদাহরণ (আদেশ): এখনই পড়তে বসো।
উদাহরণ (অনুরোধ): দয়া করে আমাকে একটি কলম দিন।
৪. বিস্ময়সূচক বা আবেগসূচক বাক্য (Exclamatory Sentence)
যে বাক্যের মাধ্যমে বক্তার মনের আকস্মিক অনুভূতি, আনন্দ, দুঃখ, ভয়, ঘৃণা বা বিস্ময় প্রকাশ পায়, তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
উদাহরণ: বাহ্! পাখিটি কী চমৎকার!
৫. ইচ্ছাসূচক বা প্রার্থনাবোধক বাক্য (Optative Sentence)
যে বাক্যের দ্বারা বক্তার কোনো ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, আশীর্বাদ বা প্রার্থনা প্রকাশ পায়, তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে।
উদাহরণ: বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।
৬. সন্দেহসূচক বাক্য (Dubitative Sentence)
যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো কাজের বা ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ, সংশয় বা সম্ভাবনা প্রকাশ পায়, তাকে সন্দেহসূচক বাক্য বলে।
উদাহরণ: হয়তো আজ বৃষ্টি হতে পারে।
৭. কার্যকারণাত্মক বা শর্তসাপেক্ষ বাক্য (Conditional Sentence)
যে বাক্যের একটি অংশের কাজ অন্য একটি অংশের কাজের ওপর বা শর্তের ওপর নির্ভর করে, তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
তবু না বলা কথাটা সবাই মেনে নেয়। = কথাটা বলা হয় না, তবু সবাই মেনে নেয়।
যা তার প্রাপ্তি তাই তার দান। = প্রাপ্তিই তার দান।
আমার কথা মনে রাখিও। = আমার কথা ভুলে যেও।
পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। = এমন কিছু নেই যা পৃথিবীতে অসম্ভব।
অন্যায় করো না। = অন্যায় করা অনুচিত।
এই গল্পটি ভোলা যায় না। = এই গল্পটি এতই ভালো যে তা ভোলা যায় না ।
ত্যাগের এই মহিমা অপূর্ব। = কী অপূর্ব ত্যাগের মহিমা!
রীতিমতো চমকে উঠেছিলাম। = আমি বোধহয় রীতিমতো চমকে উঠেছিলাম।
Related Question
View Allচর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
তন্বী = তোন্নি
'তন্বী' (তন্বী) শব্দের উচ্চারণ হলো: তন্বী (তন্-বী)।
- বিশ্লেষণ: তন্ + বী (ন-ফলা)।
এটি একটি বিশেষণ পদ, যার অর্থ সাধারণত তনুগাত্রী, কৃশাঙ্গী বা সুক্ষ্মদেহী নারী।
চিত্রকল্প = চিত্ত্রোকল্পো
চিত্রকল্প শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: চিত্রোকল্প [cit̪rokol̪p]।
উচ্চারণের নিয়ম:
- চিন্-: চ-এ হ্রস্ব-ইকার।
- -ত্রোক-: 'ত্ৰ' (ত+র) যুক্তবর্ণটি 'ত্রো' উচ্চারিত হয়।
- -ল্প: প-এর শেষে 'অ' ধ্বনি প্রায় বিলুপ্ত হয় (হসন্ত)।
বিশ্লেষণ:
চিত্রকল্প -> চৎ + রোক + ল্প।
অন্য = ওন্নো
উদ্বেগ = উদ্বেগ্
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!