দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়াকে কর্মভার বলে।
জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ' এরূপ পরিস্থিতি একইসাথে দুইটি ঋণাত্মক লক্ষ্যবস্তুকে নির্দেশ করে। যার একটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক থাকে, তাই একে বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব বলে।
এক বা একাধিক বিষয়ের প্রতি পরস্পরবিরোধী প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতাকে দ্বন্দ্ব বলে। যখন দুইটি অপ্রীতিকর লক্ষ্যবস্তু থাকে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও একটি গ্রহণ না করে উপায় থাকে না তখন যে দ্বন্দ্বের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব বলে। এ ধরনের দ্বন্দ্ব সবচেয়ে বেশি হতাশার সৃষ্টি করে। যেমন- জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ। অর্থাৎ জলে নামলে কুমিরের এবং ডাঙ্গায় থাকলে বাঘের ভয় রয়েছে। কিন্তু একটিকে তবুও গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বের উদ্ভব ঘটায়।
দৃশ্যকল্প-১ এর 'A' চিহ্নিত অংশটি কর্মভারের দৈহিক লক্ষণকে নির্দেশ করে।
শরীর বা দেহের সাথে সম্বন্ধীয় লক্ষণসমূহকে দৈহিক লক্ষণ বলা হয়। যেমন- 'মাথা ভারভার লাগা ও ব্যথা করা, হাই তোলা, চোখে ব্যথা অনুভব করা, শরীর অবশ লাগা, তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়া, হাত-পা-কোমর, এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ব্যথা অনুভব করা, দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হওয়া, শুয়ে পড়তে ইচ্ছা করা, পিপাসা অনুভব করা, কাজের গতি কমে যাওয়া, শরীর থেকে ঘাম নির্গত হওয়া, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া প্রভৃতি। উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ কর্মভারের লক্ষণের শ্রেণিবিভাগ নির্দেশিত হয়েছে।
কর্মভারের লক্ষণসমূহকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- দৈহিক লক্ষণসমূহ ও মানসিক লক্ষণসমূহ। সুতরাং A চিহ্নিত অংশটি কর্মভারের দৈহিক লক্ষণসমূহকে নির্দেশ করছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর C ও E দ্বারা যথাক্রমে কর্মক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন এবং কর্ম পুনর্বিন্যাসকে নির্দেশ করা হয়েছে।
কর্মভার নিরসনের কতকগুলো কার্যকরী পদক্ষেপ রয়েছে। তন্মধ্যে কর্মক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন ও কর্মপুনর্বিন্যাস অন্যতম। কর্মক্ষেত্রে আলো, বায়ু চলাচল, তাপমাত্রা প্রভৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। অপর্যাপ্ত আলো দৃষ্টিগত অস্বস্তি ও ক্লান্তি ঘটায়। বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে অক্সিজেন হ্রাস পায়। ফলে কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি হয় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। তাই কর্মক্ষেত্রের প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন হলে কর্মভার নিরসন হবে।
অপরদিকে শিল্পক্ষেত্রে কর্ম পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন রয়েছে। কর্মকে এমনভাবে পুনঃপরিকল্পনা করতে হবে যার ফলে কর্মীর দক্ষতা, উৎপাদন ও কর্মসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কর্মে একঘেয়েমি, বীতস্পৃহা ও অসন্তুষ্টি হ্রাস পায় এবং প্রেষণা ও আগ্রহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন ও কর্মপুনর্বিন্যাস দুটি ভিন্ন পদক্ষেপ হলেও উভয়ই কর্মভার নিরসনে কার্যকর।
Related Question
View Allমানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তির অসহায়ত্বের ফলে হতাশার মতো নেতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তাই অসহায়ত্ব ক্ষতিকর।
মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা কোনো কিছু দ্বারা বাধা পেলে যে উত্তেজনার সৃষ্ট হয় তাকে হতাশা বা অসহায়ত্ব বলে। অসহায়ত্বের অবস্থায় পরিস্থিতি ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। ফলে ব্যক্তি পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরূপ পরিস্থিতিতে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধংসাত্মক প্রতিক্রিয়া করে থাকে। তাই অসহায়ত্বকে ক্ষতিকর মানসিক অনভূতি বলা হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ পরিলক্ষিত দ্বন্দ্বটি হলো আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে একটি লক্ষ্যবস্তু থাকে, লক্ষ্যবস্তুটি একদিকে যেমন আকর্ষণ করে, অন্যদিকে তেমনি বিকর্ষণও করে। অর্থাৎ আকর্ষণীয় ও বর্জনীয় উভয় গুণই লক্ষ্যবস্তুতে বর্তমান থাকে। লক্ষ্যবস্তুটির আকর্ষণীয় গুণের কারণে ব্যক্তি এর দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ঋণাত্মক গুণটি বেশি শক্তিশালী হওয়ায় আবার তাকে অগ্রসর হওয়া `থেকে বিরত রাখে। ফলে ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়ে।
উদাহরণস্বরূপ- ভালো বেতনের একটি চাকরি পাওয়া গেছে। তবে চাকরিস্থল খাগড়াছড়ি জেলার শেষপ্রান্তে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। ভালো বেতন একদিকে আকর্ষণ করছে অপরদিকে, দুর্গম অঞ্চল দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এরূপ একটি অবস্থাই আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব।
দৃশ্যকল্প-২-এ মানসিক চাপ মোকাবেলার 'অবদমন' ও 'অপব্যাখ্যান বা যুক্তিসিদ্ধকরণ' কৌশলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা ভিন্ন হলেও মূলত একই শ্রেণিভুক্ত।
তীব্র মানসিক চাপের ফলে আমাদের মনের ইচ্ছাগুলো নিজেদের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয় না বা তৃপ্তি সাধন করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য কামনা-বাসনাকে ব্যক্তি স্বভাবতই জোরপূর্বক ভুলে থাকে বা অবচেতন মনে দাবিয়ে রাখে। এভাবে জোরপূর্বক ভুলে থাকা বা দাবিয়ে রাখার কাজটিকে অবদমন বলে। দৃশ্যকল্প-২ এর প্রথমাংশে এরূপ সংগতি বিধানের চরমতম ও নিকৃষ্টতম কৌশলের কথা বলা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর শেষাংশে নিজের ব্যর্থতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উদ্ভট যুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। মূলত এটা হলো ব্যর্থতার পীড়াদায়ক গ্লানি থেকে মুক্তি লাভের জন্য অপব্যাখ্যার কৌশল ব্যবহার করা। উদাহরণস্বরূপ- বেশ কিছুদিন ধরে খেলছে এমন একজন খেলোয়াড়কে যদি দলের খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত করা না হয় তাহলে তাকে বলতে শোনা যায় 'আরে ভাই, অনেক বয়স হয়েছে, এখন কি আর ছেলেপেলেদের সাথে খেলা আমার সাজে।' মূলত এসব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অক্ষমতাকে ঢাকবার জন্য দুর্বল যুক্তির আশ্রয় নিয়ে অন্যের চোখে আমাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উভয়ই আত্মরক্ষার কৌশল হলেও ভিন্ন। 'অবদমন' ও 'অপব্যাখ্যান
মানসিক চাপ হলো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ব্যক্তির এমন এক ধরনের অবস্থা, যার দ্বারা সে মানসিক যন্ত্রণা বা পীড়নের সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তির মানসিক চাপ হ্রাসে সামাজিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ প্রয়োজন।
বিভিন্ন সামাজিক কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন-সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া, সামাজিক বৈষম্য, জাতিগত বিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি কারণে সৃষ্ট ব্যর্থতা ও উত্তেজনা। অন্যদিকে সামাজিক সহায়তা চাপ হ্রাস করে। সামাজিক নিরাপত্তা, আশ্বস্ততা ও অনুপ্রেরণা ব্যক্তির বিপর্যস্ত জীবনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে থাকে।
তাই চাপ হ্রাসে সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!