কৃষিকাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য যে ঋণ বিতরণ করা হয় এবং কৃষক কর্তৃক গৃহীত হয় তা-ই কৃষিঋণ।
বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষক দরিদ্র। তারা কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ- যেমন: বীজ, সার, আধুনিক উপকরণ নিড়ানি, পাওয়ার ট্রিলার, সেচযন্ত্র ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারে না। এসব উপকরণ তারা ধার-দেনা করে তারপর ব্যবহার করে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ দিয়ে থাকে। তাই কৃষকরা তাদের কৃষি উপকরণ কেনার জন্যই কৃষিঋণ গ্রহণ করে।
কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়, ভূমিতে স্থায়ী উন্নতি সাধন, গুদামঘর নির্মাণ এবং উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি কাজের জন্য কৃষকদের যে ঋণের প্রয়োজন হয় তা-ই হলো কৃষিঋণ। এ দেশে কৃষি ভরণপোষণ পর্যায়ে পরিচালিত হওয়ায় কৃষকদের আয় অনেক কম এবং তারা দরিদ্র। কৃষকরা দরিদ্র বলে উৎপাদনের প্রয়োজনে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ যোগান দিতে পারে না। এ জন্য তারা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নেয়। কৃষি উৎপাদনে বিনিয়োগের স্বল্পতা দূর করার জন্য সরকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। এগুলোর মাধ্যমে মাঝারি সুদের হারে কৃষকদের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করা হয়। এছাড়া নগদ তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে সরকার ৪টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিআরডিবি, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লি. এবং বেসরকারি ও বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কৃষিঋণদান কার্যক্রমের সাথে জড়িত করেছে। সরকার কৃষিঋণ বিতরণ সহজতর করার লক্ষ্যে বর্ধিত কলেবরে কৃষি/পল্লিঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। সব ব্যাংকের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষিঋণের পরিমাণ ও আওতা বাড়ানো এবং পল্লি এলাকায় ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড
সম্প্রসারণ করাই সরকারের লক্ষ্য।
কৃষি ঋণদানের ক্ষেত্রে সরকারি ঋণদানের কার্যক্রমগুলোর সুবিধা অনেক। ২০১১-১২ অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ১০ টাকার বিনিময়ে ৯৫.৬৪ লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এ হিসাবের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ বিতরণ, সঞ্চয় এবং রেমিট্যান্স সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। প্রয়োজনভেদে এ ঋণ স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। কৃষকরা সঞ্চয়মুখী হলে সামগ্রিকভাবে কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়বে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তেমনি অন্যদিকে কৃষকদের অবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। সরকার নগদ তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে ৪টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিআরডিবি, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কৃষিঋণদান কার্যক্রমের সাথে জড়িত করেছে। তারা সহজ শর্তে কৃষকদের মূলত ক্ষুদ্রঋণ সরবরাহ করছে। এতে কৃষকরা খুব সহজে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারে। প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কথা চিন্তা করে সরকার ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। এতে কৃষকরা বিভিন্ন সুবিধা লাভ করছে।
Related Question
View Allসেচ হলো কৃত্রিমভাবে কৃষিজমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫.১% কৃষি খাতে নিয়োজিত। কিন্তু এ দেশের অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন ও দরিদ্র। ফলে কৃষিকাজের সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হয়। তাই কৃষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে কৃষিঋণ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের ঘটনা অনুসারে আব্দুল করিম কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-উৎপাদিত ফসল ভোক্তার নিকট তথা ক্রেতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রম বা প্রক্রিয়াকে কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণ বলে। এ ধরনের পেশার লোকদের দালাল বা ফড়িয়া বলে। বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতা বা ভোক্তার চাহিদামতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করা বাজারজাতকরণের প্রথম ধাপ। বিপুল কৃষিপণ্য একসাথে বিক্রি করা যায় না। ফলে কৃষিপণ্য গুদামজাত ও সংরক্ষণ করতে হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌছানোর জন্য পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ক্ষেত থেকে ফসল ক্রয় করা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন ইত্যাদির জন্য বিপণনের কাজে ব্যবসায়ী/কৃষকের অর্থের যোগান থাকতে হয়। অতঃপর উক্ত কৃষিপণ্যসমূহ বাজারে বিক্রয় করতে হয়। আব্দুল করিমও ফসলের মৌসুমে কৃষকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখেন তাদের ফসল কেনার জন্য। কৃষকদের থেকে সংগৃহীত ফসল তিনি শহরের বাজারে সরবরাহ করেন। এই মধ্যপন্থী কার্যক্রম, অর্থাৎ বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করে তার সংসার চালান।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাজারজাতকরণ বা বিপণন পেশা আমাদের দেশে প্রয়োজনীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত। তারা অনেক পরিশ্রম করে শস্য ফলায়। তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করলে ভালো দাম পায় না। তাই তারা দালাল বা ফড়িয়াদের কাছে সাধারণ দামের চেয়ে একটু বেশি দামে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রির চেষ্টা করে। দালাল বা ফড়িয়ারা ওই ফসল শহরে আরও বেশি দামে বিক্রি করে। এতে তারা নিজেরাও লাভবান হয়, আবার কৃষকরাও সাধারণের থেকে একটু বেশি লাভবান হয়। এই দালাল বা ফড়িয়াদের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাম থেকে গঞ্জে এবং গঞ্জ থেকে শহরে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য ভোক্তার কাছে আসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার কাজেও এ ধরনের দালাল বা ফড়িয়াদের অবদান রয়েছে। আমাদের দেশে এই ধরনের দালাল ও ফড়িয়ারা আছে বলেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিক সময়ে বিক্রি করতে পারছে। তবে বর্তমানে কিছু ভুয়া দালাল ও ফড়িয়া কৃষকদের ঠকিয়ে তাদের কষ্টে উৎপাদিত পণ্য আত্মসাৎ করছে। যার ফলে সরকার ওই দালাল ও ফড়িয়াদের দূর করতে নিজেরাই কৃষকদের কাছ থেকে ধান/চাল কিনছে। কিন্তু এ দেশে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দালাল ও ফড়িয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের দেশে এ ধরনের পেশা প্রয়োজন।
একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তা-ই কৃষি খামার।
কৃষি খামারে একটি মাত্র ফসলের পরিবর্তে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে বলা হয় শস্য বহুমুখীকরণ। এ ক্ষেত্রে একই জমিতে বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!