বাক্য হলো এক বা একাধিক শব্দের সমষ্টি যা সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে। বাক্যের মাধ্যমে একটি ভাব, চিন্তা, প্রশ্ন বা নির্দেশ প্রকাশ করা হয়। যেমন, "সে স্কুলে যায়।" এটি একটি সম্পূর্ণ বাক্য কারণ এটি একটি সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করছে।
বাক্যের গঠন অনুসারে শ্রেণিবিভাগ:
বাক্যের গঠন অনুসারে বাক্যকে সাধারণত তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
- সরল বাক্য
- মিশ্র বাক্য
- জটিল বাক্য
১. সরল বাক্য:
সরল বাক্য হলো এমন একটি বাক্য যা একটি প্রধান ভাব বা তথ্য প্রকাশ করে। এই ধরনের বাক্যে সাধারণত একটি মাত্র প্রধান ক্রিয়া থাকে এবং তা একটি স্বাধীন বাক্যাংশ দ্বারা গঠিত হয়।
উদাহরণ:
- আমি বই পড়ি।
- সে গান গায়।
২. মিশ্র বাক্য:
মিশ্র বাক্য হলো এমন একটি বাক্য যা দুটি বা ততোধিক সরল বাক্যকে সংযোজক (যেমন এবং, কিন্তু, অথবা, তাই) দ্বারা যুক্ত করে গঠিত হয়। এখানে প্রতিটি অংশ স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে পারে।
উদাহরণ:
- সে স্কুলে যায় এবং আমি বাড়িতে থাকি।
- রুবেল লেখাপড়া করছে, কিন্তু তার মন বসছে না।
৩. জটিল বাক্য:
জটিল বাক্য হলো এমন একটি বাক্য যা একটি প্রধান বাক্যাংশ এবং এক বা একাধিক গৌণ বাক্যাংশ দ্বারা গঠিত। গৌণ বাক্যাংশগুলি প্রধান বাক্যাংশের উপর নির্ভর করে এবং তা সম্পূর্ণভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।
উদাহরণ:
- যখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম, তখন সে এসেছিল।
- আমি জানি যে তুমি সত্য কথা বলছো।
সারাংশ:
বাক্য একটি পূর্ণাঙ্গ ভাব প্রকাশের মাধ্যম। বাক্যের গঠন অনুসারে তিনটি প্রধান শ্রেণি হলো সরল বাক্য, মিশ্র বাক্য, এবং জটিল বাক্য। সরল বাক্যে একটি প্রধান ভাব প্রকাশিত হয়, মিশ্র বাক্যে দুটি বা ততোধিক সরল বাক্য একত্রিত থাকে, এবং জটিল বাক্যে একটি প্রধান ও গৌণ বাক্যাংশ একত্রিত হয়ে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে।
এখানে আমি বহুদিন আগে এসেছি। (নেতিবাচক) = এখানে আমার আসা অল্পদিনের নয়।
জানিতাম না দেনাপাওনা কী স্থির হইল। (অস্তিবাচক) = দেনাপাওনার বিষয় আমার অজানা ছিল।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। (জটিল) = যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।
প্রকৃতির যে ধর্ম মানুষের সে ধর্ম। (সরল) = প্রকৃতির ধর্মই মানুষের ধর্ম।
মানুষটা সমস্ত রাত খেতে পাবে না। (প্রশ্নবোধক) = মানুষটা কি সমস্ত রাত খেতে পাবে?
বাংলাদেশের চিরস্থায়িত্ব কামনা করি। (ইচ্ছাসূচক) = বাংলাদেশ চিরস্থায়ী হোক।
সংবাদটি পড়ে মর্মাহত হলাম। (আবেগসূচক) = আহা! সংবাদটি পড়ে কী মর্মাহত হলাম!
তোমাকে এই খাতায় লিখতে হবে। (অনুজ্ঞাবাচক) = তুমি এই খাতায় লেখো।
Related Question
View Allযে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় তাকে বাক্য বলে। গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার। যথা:
১. সরল বাক্য ২. মিশ্র বা জটিল বাক্য ৩. যৌগিক বাক্য।
১. সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা ও একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া তাকে সরল বাক্য বলে।
২. মিশ্র বা জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্য এবং একাধিক খণ্ড বাক্য বা আশ্রিত বাক্য থাকে তাকে মিশ্র বাক্য। বলে।
৩. যৌগিক বাক্য: পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলে যৌগিক বাক্য গঠিত হয়।
গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
বিপদ কখনও একা আসে না । = বিশেষ্য
আজ নয় কাল তাকে আসতেই হবে। = বিকল্প যোজক
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? = অনুসর্গ
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। = ক্রিয়াবিশেষণ
মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা ৷ = সর্বনাম
বুঝিয়াছিলাম মেয়েটির রূপ বড় আশ্চর্য। = ক্রিয়া
শাবাশ! দারুণ কাজ করেছ। = আবেগ
সানজিদা দ্রুত দৌড়াতে পারে। = ক্রিয়াবিশেষণ
বিপদ কখনও একা আসে না । = বিশেষ্য
আজ নয় কাল তাকে আসতেই হবে। = বিকল্প যোজক
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? = অনুসর্গ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!