Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

অডিট এনগেজমেন্ট গ্রহণের ধাপগুলো হলো: ক্লায়েন্ট কর্তৃক প্রস্তাব প্রাপ্তি, প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন, পূর্ববর্তী অডিটরের সাথে যোগাযোগ, স্বাধীনতা ও নৈতিকতা যাচাই, দক্ষতা ও সক্ষমতা যাচাই, এনগেজমেন্ট শর্তাবলী নির্ধারণ, এনগেজমেন্ট লেটার ইস্যু এবং এনগেজমেন্ট গ্রহণ।


অডিট এনগেজমেন্ট (Audit Engagement) গ্রহণের ক্ষেত্রে একজন অডিটরকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনুসরণ করতে হয় যাতে তিনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, অডিট কার্যটি স্বাধীন, নৈতিক ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করা সম্ভব। এই ধাপগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

        
  • ক্লায়েন্ট কর্তৃক প্রস্তাব প্রাপ্তি (Receipt of Proposal from Client): সাধারণত, ক্লায়েন্ট তার আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষার জন্য একজন অডিটরকে প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাব প্রাপ্তির মধ্য দিয়েই এনগেজমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়।
  •     
  • ক্লায়েন্টের ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপট ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন (Obtaining Preliminary Knowledge): অডিটরকে ক্লায়েন্টের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রকৃতি, শিল্প পরিস্থিতি, পরিচালন কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে হয়। এটি ভবিষ্যতের ঝুঁকি মূল্যায়নে সহায়ক।
  •     
  • পূর্ববর্তী অডিটরের সাথে যোগাযোগ (Communication with Previous Auditor): সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের যদি পূর্ববর্তী কোনো অডিটর থেকে থাকে, তবে নতুন অডিটরকে তার সাথে যোগাযোগ করতে হয়। পেশাগত নৈতিকতা অনুযায়ী, পূর্ববর্তী অডিটরকে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের বিষয়ে কোনো অনৈতিক তথ্য বা এমন কোনো কারণ জানাতে হয়, যার কারণে তিনি এনগেজমেন্ট গ্রহণ করেননি। তবে ক্লায়েন্টের অনুমতি সাপেক্ষে এই যোগাযোগ করতে হয়।
  •     
  • স্বাধীনতা ও নৈতিকতা যাচাই (Verification of Independence and Ethics): একজন অডিটরের স্বাধীন ও নৈতিক হওয়া অপরিহার্য। অডিটরকে নিশ্চিত হতে হয় যে, তিনি ক্লায়েন্টের সাথে কোনো আর্থিক বা অন্য কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়িত নন যা তার স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
  •     
  • দক্ষতা ও সক্ষমতা যাচাই (Verification of Competence and Capability): অডিটরকে মূল্যায়ন করতে হয় যে, তার ফার্মের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মানবসম্পদ রয়েছে কিনা যাতে তিনি প্রস্তাবিত অডিট কাজটি দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে পারেন। এতে পর্যাপ্ত সময় ও জনবল আছে কিনা, তাও বিবেচনা করা হয়।
  •     
  • এনগেজমেন্ট শর্তাবলী নির্ধারণ (Determining Engagement Terms): এই ধাপে অডিটর ও ক্লায়েন্টের মধ্যে অডিটের উদ্দেশ্য, কাজের পরিধি, উভয়ের দায়িত্ব, রিপোর্ট প্রদানের রূপরেখা এবং পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনা হয় ও শর্তাবলী চূড়ান্ত করা হয়।
  •     
  • এনগেজমেন্ট লেটার ইস্যু করা (Issuing Engagement Letter): চূড়ান্ত আলোচনার পর অডিটর একটি এনগেজমেন্ট লেটার তৈরি করেন। এই লেটারে অডিটের সমস্ত শর্তাবলী, উভয়ের দায়িত্ব ও পারিশ্রমিক লিখিতভাবে উল্লেখ থাকে। এটি অডিটর ও ক্লায়েন্টের মধ্যে একটি চুক্তির দলিল হিসেবে কাজ করে।
  •     
  • স্বাক্ষর ও গ্রহণ (Signature and Acceptance): এনগেজমেন্ট লেটারে উভয় পক্ষের (অডিটর ও ক্লায়েন্ট) স্বাক্ষর করার মাধ্যমে অডিট এনগেজমেন্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এরপর অডিটর তার কার্যভার শুরু করতে পারেন।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

"নতুন গ্রাহকের (New Client) ক্ষেত্রে অডিট পরিকল্পনা প্রয়োজন নেই" – এই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক ও ভুল। একজন নিরীক্ষকের জন্য যেকোনো নতুন গ্রাহকের নিরীক্ষা শুরু করার পূর্বে একটি বিস্তারিত ও সুপরিকল্পিত নিরীক্ষা পরিকল্পনা (Audit Plan) প্রণয়ন করা অপরিহার্য। এটি আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান (ISA 300) এবং পেশাগত নৈতিকতার পরিপন্থী হবে যদি কোনো নতুন গ্রাহকের জন্য নিরীক্ষা পরিকল্পনা করা না হয়।

নতুন গ্রাহকের ক্ষেত্রে নিরীক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিরীক্ষককে ওই গ্রাহকের ব্যবসা, শিল্প, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, হিসাবরক্ষণ নীতি ও পদ্ধতি, এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্ববর্তী কোনো জ্ঞান থাকে না। একটি সুচিন্তিত নিরীক্ষা পরিকল্পনা নিরীক্ষককে গ্রাহকের কার্যক্রম গভীরভাবে বুঝতে, নিরীক্ষার পরিধি ও সময় নির্ধারণ করতে, প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ করতে এবং নিরীক্ষার সামগ্রিক কৌশল (Overall Audit Strategy) তৈরি করতে সহায়তা করে। এটি নিরীক্ষার কার্যকারিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং উচ্চমানের নিরীক্ষা মতামত প্রদানের ভিত্তি স্থাপন করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ কী অডিট ম্যাটার্স (Key Audit Matters - CAM) হলো এমনসব বিষয় যা নিরীক্ষকের পেশাগত বিবেচনায় বর্তমান সময়ের আর্থিক বিবরণীর নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কী অডিট ম্যাটার্স (Key Audit Matters - CAM) হলো নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত একটি বিভাগ, যেখানে নিরীক্ষক তার পেশাগত বিচার অনুযায়ী নিরীক্ষার সময় উদ্ভূত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এই বিষয়গুলো সাধারণত আর্থিক বিবরণীর নিরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

এগুলো নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যোগ করার মূল উদ্দেশ্য হলো নিরীক্ষার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের জন্য নিরীক্ষকের পেশাগত সিদ্ধান্ত এবং নিরীক্ষার মূল ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। কী অডিট ম্যাটার্স সাধারণত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে:

        
  • আর্থিক বিবরণীতে ভুল তথ্য থাকার উচ্চ ঝুঁকিযুক্ত ক্ষেত্রসমূহ।
  •     
  • নিরীক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ বিচার বা অনুমানের সাথে জড়িত ক্ষেত্রসমূহ, বিশেষ করে যখন ব্যবস্থাপনার অনুমানে উচ্চ মাত্রার বিষয়ভিত্তিকতা (subjectivity) জড়িত থাকে।
  •     
  • চলতি হিসাবকালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা লেনদেনের নিরীক্ষার উপর প্রভাব।
  •     
  • বিশেষভাবে জটিল বা বৃহৎ লেনদেন, যেমন ব্যবসায়িক একত্রীকরণ বা সম্পদ নিষ্পত্তি।

আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান (International Standards on Auditing - ISA) 701 "Communicating Key Audit Matters in the Independent Auditor’s Report" অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত সত্তার (listed entities) নিরীক্ষার ক্ষেত্রে নিরীক্ষককে কী অডিট ম্যাটার্স প্রকাশ করতে হয়। এটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনের গুণগত মান উন্নত করে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য আরও প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

আর্থিক হিসাববিজ্ঞান (Financial Accounting) এবং ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান (Management Accounting) উভয়ই হিসাববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলেও এদের উদ্দেশ্য, ব্যবহারকারী, তথ্যের প্রকৃতি এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে মৌলিক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। নিচে এই বৈসাদৃশ্যগুলো আলোচনা করা হলো:

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                      
বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিআর্থিক হিসাববিজ্ঞান (Financial Accounting)ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান (Management Accounting)
১. উদ্দেশ্যবাহ্যিক ব্যবহারকারীদের (যেমন: শেয়ারহোল্ডার, পাওনাদার, বিনিয়োগকারী, সরকার) জন্য আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত ও তথ্য সরবরাহ করা।অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপকদের (যেমন: নির্বাহী কর্মকর্তা, ম্যানেজার) সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করা।
২. ব্যবহারকারীপ্রধানত বাহ্যিক পক্ষসমূহ।শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপকগণ।
৩. তথ্যের প্রকৃতিঐতিহাসিক, বস্তুনিষ্ঠ, যাচাইযোগ্য এবং আর্থিক তথ্য নিয়ে কাজ করে।ভবিষ্যৎমুখী, অনুমানভিত্তিক, প্রাসঙ্গিক এবং আর্থিক ও অনার্থিক উভয় ধরনের তথ্য নিয়ে কাজ করে।
৪. বাধ্যবাধকতাআইনগতভাবে বাধ্যতামূলক (যেমন: কোম্পানি আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট আর্থিক বিবরণী প্রকাশ)।বাধ্যতামূলক নয়; ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বা ঐচ্ছিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৫. প্রতিবেদনের সময়কালসাধারণত দীর্ঘমেয়াদী (যেমন: বার্ষিক বা অর্ধ-বার্ষিক) প্রতিবেদন তৈরি করে।স্বল্পমেয়াদী বা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরি করে (যেমন: দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক বা প্রকল্পভিত্তিক)।
৬. প্রতিবেদনের ধরনসাধারণভাবে গৃহীত আর্থিক বিবরণী (যেমন: আয় বিবরণী, আর্থিক অবস্থার বিবরণী, নগদ প্রবাহ বিবরণী)।বিভিন্ন ধরনের বিশেষ প্রতিবেদন (যেমন: বাজেট, মান ব্যয় প্রতিবেদন, কার্যকারিতা প্রতিবেদন, ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণ)।
৭. নীতি ও মানসাধারণভাবে গৃহীত হিসাববিজ্ঞান নীতি (GAAP) বা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS) অনুসরণ করে।কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা মান দ্বারা পরিচালিত হয় না, নমনীয় এবং ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
৮. নিরীক্ষা (Audit)সাধারণত বাহ্যিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক।বাহ্যিক নিরীক্ষা প্রযোজ্য নয়, তবে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা থাকতে পারে।
৯. ফোকাসসামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফলের উপর ফোকাস করে।প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট অংশ (যেমন: বিভাগ, পণ্য, প্রকল্প) বা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের উপর ফোকাস করে।
১০. প্রকাশ্যতাসাধারণত সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়।শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য, সাধারণত গোপন রাখা হয়।

এই বৈসাদৃশ্যগুলো নির্দেশ করে যে, আর্থিক হিসাববিজ্ঞান মূলত অতীতের আর্থিক কার্যকলাপের একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করে যা বাহ্যিক পক্ষগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

একটি প্রচলিত (Conventional) এবং অবদান ফরম্যাটের (Contribution) আয় বিবরণী উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যয়ের শ্রেণিবিন্যাসের উপর ভিত্তি করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা তাদের উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে পার্থক্য তৈরি করে।


প্রচলিত ফরম্যাটের আয় বিবরণী (Conventional Income Statement) এবং অবদান ফরম্যাটের আয় বিবরণী (Contribution Format Income Statement) হিসাববিজ্ঞানের দুটি ভিন্ন পদ্ধতি, যা ব্যয়ের শ্রেণিবিন্যাস এবং তথ্যের উপস্থাপনে মূল পার্থক্য ধারণ করে। সাধারণত, বাহ্যিক প্রতিবেদনের জন্য প্রচলিত ফরম্যাট ব্যবহৃত হয়, যেখানে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অবদান ফরম্যাট বেশি উপযোগী। নিচে তাদের প্রধান পার্থক্যগুলো একটি সারণীর মাধ্যমে আলোচনা করা হলো:

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                           
পার্থক্যের বিষয়প্রচলিত ফরম্যাটের আয় বিবরণী (Conventional Income Statement)অবদান ফরম্যাটের আয় বিবরণী (Contribution Format Income Statement)
১. উদ্দেশ্যবাহ্যিক আর্থিক প্রতিবেদন (যেমন: শেয়ারহোল্ডার, বিনিয়োগকারী, সরকার) প্রস্তুত করা। এটি শোষণ ব্যয় পদ্ধতি (Absorption Costing) ব্যবহার করে।অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যেমন: মূল্য নির্ধারণ, ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণ, লাভজনকতা বিশ্লেষণ এবং ব্যবস্থাপনার কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি পরিবর্তনশীল ব্যয় পদ্ধতি (Variable Costing) ব্যবহার করে।
২. ব্যয়ের শ্রেণিবিন্যাসব্যয়গুলোকে তাদের কার্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যেমন: উৎপাদন ব্যয় (Cost of Goods Sold), বিক্রয় ও প্রশাসনিক ব্যয় (Selling and Administrative Expenses)। স্থির এবং পরিবর্তনশীল ব্যয়ের মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট বিভাজন নেই।ব্যয়গুলোকে তাদের আচরণের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, অর্থাৎ পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Costs) এবং স্থির ব্যয় (Fixed Costs)।
৩. প্রাথমিক মুনাফা পরিমাপমোট মুনাফা (Gross Profit) পরিমাপ করে। মোট মুনাফা = বিক্রয় - বিক্রীত পণ্যের ব্যয়।অবদান মার্জিন (Contribution Margin) পরিমাপ করে। অবদান মার্জিন = বিক্রয় - মোট পরিবর্তনশীল ব্যয়।
৪. স্থির উৎপাদন উপরি ব্যয়স্থির উৎপাদন উপরি ব্যয় (Fixed Manufacturing Overhead) পণ্য ব্যয় (Product Cost) হিসাবে বিবেচিত হয় এবং বিক্রীত পণ্যের ব্যয়ের অংশ হিসাবে আয় বিবরণীতে দেখানো হয়।স্থির উৎপাদন উপরি ব্যয়কে সময় ব্যয় (Period Cost) হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং আয় বিবরণীর একটি পৃথক অংশ হিসাবে মোট পরিবর্তনশীল ব্যয়ের নিচে দেখানো হয়।
৫. ইনভেন্টরি মূল্যায়নইনভেন্টরিতে স্থির ও পরিবর্তনশীল উভয় উৎপাদন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে (শোষণ ব্যয় পদ্ধতি)।ইনভেন্টরিতে শুধুমাত্র পরিবর্তনশীল উৎপাদন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে (পরিবর্তনশীল ব্যয় পদ্ধতি)।
৬. সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগিতাএটি সাধারণত ব্যবস্থাপনার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরাসরি ততটা উপযোগী নয়, কারণ এটি ব্যয়ের স্থির ও পরিবর্তনশীল প্রকৃতিকে আলাদা করে না।ব্যয়-আয়-মুনাফা (Cost-Volume-Profit - CVP) বিশ্লেষণ এবং স্বল্পমেয়াদী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, কারণ এটি স্পষ্টতই পরিবর্তনশীল ব্যয় এবং স্থির ব্যয়কে পৃথক করে।
৭. ব্যবস্থাপনামূলক প্রভাবএই ফরম্যাট স্টক তৈরি করে মুনাফা বাড়ানোর প্রলুব্ধ করতে পারে, কারণ স্থির উৎপাদন ব্যয় ইউনিটে শোষিত হয় এবং বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত খরচ হিসাবে দেখানো হয় না।এই ফরম্যাটটি উৎপাদন স্তরের দ্বারা মুনাফাকে প্রভাবিত করে না, কারণ স্থির উৎপাদন ব্যয় সর্বদা একটি সময় ব্যয় হিসাবে বিবেচিত হয়, ইনভেন্টরি স্তরের সাথে সম্পর্কিত নয়।

সংক্ষেপে, প্রচলিত আয় বিবরণী আর্থিক প্রতিবেদন এবং বাহ্যিক যোগাযোগের জন্য উপযুক্ত, যখন অবদান ফরম্যাটের আয় বিবরণী অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
118

Related Question

View All
উত্তরঃ

IAS হলো ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (International Accounting Standards) এবং IFRS হলো ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (International Financial Reporting Standards)।


IAS (International Accounting Standards): IAS হলো আন্তর্জাতিক হিসাববিজ্ঞান মানদণ্ডের পুরনো সেট যা ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস কমিটি (IASC) দ্বারা জারি করা হয়েছিল। এই মানদণ্ডগুলো বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিবেদনের জন্য একটি সাধারণ কাঠামো প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল, যাতে বিভিন্ন দেশের কোম্পানির আর্থিক বিবৃতি তুলনা করা সহজ হয়।

IFRS (International Financial Reporting Standards): IFRS হলো নতুন এবং অধিক প্রচলিত আন্তর্জাতিক হিসাববিজ্ঞান মানদণ্ড যা ২০০১ সালে IASC-এর স্থলাভিষিক্ত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (IASB) দ্বারা জারি করা হয়। IFRS নীতি-ভিত্তিক (principles-based) মানদণ্ড যা কোম্পানির আর্থিক লেনদেন এবং ঘটনাগুলোকে কীভাবে তাদের আর্থিক বিবরণীতে রিপোর্ট করতে হবে তা নির্দেশ করে। IFRS-এর মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক বিবরণীতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বৈশ্বিক তুলনামূলকতা বৃদ্ধি করা।

IAS এবং IFRS এর বর্তমান অবস্থা:

        
  • IASB এবং IFRS ফাউন্ডেশন: IFRS ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সংস্থা যা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (IASB)-কে তত্ত্বাবধান করে। IASB IFRS-কে প্রণয়ন ও হালনাগাদ করার কাজ করে।
  •     
  • বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা: বর্তমানে, বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ IFRS গ্রহণ করেছে, ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বা ব্যবহার করে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং জাপান উল্লেখযোগ্য। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী ও আর্থিক ব্যবহারকারীদের জন্য আর্থিক তথ্য বোঝা সহজ হয়েছে।
  •     
  • IAS-এর অবস্থা: যদিও IFRS-এর আগমন ঘটেছে এবং অনেক IAS মানদণ্ড IFRS দ্বারা প্রতিস্থাপিত বা সংশোধন করা হয়েছে, কিছু পুরনো IAS মানদণ্ড এখনও সরাসরি ব্যবহৃত হয় যতক্ষণ না সেগুলোকে নতুন IFRS দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। যেমন: IAS 1 (Presentation of Financial Statements), IAS 2 (Inventories), IAS 7 (Statement of Cash Flows), IAS 16 (Property, Plant and Equipment) ইত্যাদি।
  •     
  • যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অভিন্নতা (Convergence): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব GAAP (Generally Accepted Accounting Principles) ব্যবহার করে। তবে, IFRS এবং US GAAP-এর মধ্যে অভিন্নতা (convergence) আনার চেষ্টা চলছে যাতে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন আরও সহজ হয়। কিছু ক্ষেত্রে US GAAP-এর সাথে IFRS-এর পার্থক্য এখনও বিদ্যমান।
  •     
  • নিরন্তর হালনাগাদ: IASB নিয়মিতভাবে নতুন IFRS জারি করে এবং বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ডগুলো হালনাগাদ করে। এটি নিশ্চিত করে যে IFRS বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন এবং আর্থিক প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ থাকে। এর মধ্যে নতুন লেনদেনের ধরন এবং ব্যবসায়ের মডেল বিবেচনা করা হয়।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

"ব্যয় যেন আয়ের পরিপ্রেক্ষিতে হয়" এই উক্তিটি হিসাববিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি এবং সুষম আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হলো, একজন ব্যক্তি, পরিবার অথবা একটি প্রতিষ্ঠানের খরচ তার উপার্জনের সীমা বা আয়ের সক্ষমতার মধ্যেই হওয়া উচিত। অন্য কথায়, আয় অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করা এবং আয়ের চেয়ে ব্যয় যেন কোনোভাবেই বেশি না হয়, তা নিশ্চিত করা।

এই নীতি মেনে চললে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো যায়। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করে, তাহলে তাকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং দেউলিয়াত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিপরীতে, আয় অনুযায়ী ব্যয় করলে সঞ্চয় সম্ভব হয়, যা ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক। এটি কেবল বর্তমান আর্থিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি স্থাপন করে।

উদাহরণ:

ধরা যাক, একজন ব্যক্তির মাসিক আয় ৫০,০০০ টাকা। "ব্যয় যেন আয়ের পরিপ্রেক্ষিতে হয়" নীতি অনুযায়ী, তার মাসিক মোট ব্যয় ৫০,০০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। তাকে তার বাড়ি ভাড়া, খাদ্য, পরিবহন, শিক্ষা, বিনোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ এমনভাবে বণ্টন করতে হবে যাতে মোট ব্যয় ৫০,০০০ টাকার মধ্যে থাকে।

        
  • যদি তিনি প্রতি মাসে ৬০,০০০ টাকা ব্যয় করেন, তাহলে তাকে অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা ঋণের মাধ্যমে জোগাড় করতে হবে, যা পরবর্তীতে সুদাসহ পরিশোধের বোঝা তৈরি করবে।
  •     
  • অন্যদিকে, যদি তিনি এমনভাবে বাজেট তৈরি করেন যাতে তার মাসিক ব্যয় ৪০,০০০ টাকা হয়, তবে তিনি প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন। এই সঞ্চিত অর্থ তিনি জরুরি তহবিল গঠন, বিনিয়োগ, অথবা ভবিষ্যতের বড় কোনো প্রয়োজনে (যেমন - বাড়ি কেনা, সন্তানের শিক্ষা) ব্যবহার করতে পারবেন।

একইভাবে, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, তার উৎপাদন ব্যয়, পরিচালন ব্যয়, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ তার বিক্রয়লব্ধ আয় ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হয়। এতে প্রতিষ্ঠান লাভজনক থাকে এবং তারল্য সংকট এড়িয়ে চলতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ বকেয়া ভিত্তিক ও নগদভিত্তিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির পার্থক্য উদাহরণসহ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

বকেয়া ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি (Accrual Basis Accounting)

এই পদ্ধতিতে আয় অর্জিত হওয়ার সাথে সাথে এবং ব্যয় সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে লিপিবদ্ধ করা হয়, নগদ অর্থ প্রাপ্তি বা প্রদানের অপেক্ষা না করে। এটি সাধারণত গৃহীত হিসাববিজ্ঞান নীতি (GAAP - Generally Accepted Accounting Principles) এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS - International Financial Reporting Standards) দ্বারা স্বীকৃত। এই পদ্ধতি একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও কার্যকারিতার অধিকতর বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরে।

নগদভিত্তিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি (Cash Basis Accounting)

এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র নগদ অর্থ প্রাপ্তি ও প্রদানের ভিত্তিতে লেনদেন লিপিবদ্ধ করা হয়। অর্থাৎ, আয় তখনই লিপিবদ্ধ হয় যখন নগদ অর্থ পাওয়া যায় এবং ব্যয় তখনই লিপিবদ্ধ হয় যখন নগদ অর্থ পরিশোধ করা হয়। এই পদ্ধতিটি সাধারণত ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, একক মালিকানা বা যারা মূলত নগদ লেনদেন করে তাদের জন্য উপযোগী, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে সহজ।

পার্থক্যগুলো একটি সারণীর মাধ্যমে নিচে উপস্থাপন করা হলো:

                                                                                                                                                                                                                                                                  
পার্থক্যের বিষয়বকেয়া ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি (Accrual Basis Accounting)নগদভিত্তিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি (Cash Basis Accounting)
আয় স্বীকৃতি (Revenue Recognition)আয় অর্জিত হওয়ার সাথে সাথে (Earned) লিপিবদ্ধ করা হয়, নগদ অর্থ প্রাপ্তি নির্বিশেষে। যেমন, ধারে পণ্য বিক্রি বা সেবা প্রদান করলে তখনই আয় হিসেবে দেখানো হয়।নগদ অর্থ প্রাপ্তির পরই আয় লিপিবদ্ধ করা হয়। যেমন, ধারে বিক্রি করা পণ্যের অর্থ যখন পাওয়া যায়, তখনই তা আয় হিসেবে দেখানো হয়।
ব্যয় স্বীকৃতি (Expense Recognition)ব্যয় সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে (Incurred) লিপিবদ্ধ করা হয়, নগদ অর্থ প্রদান নির্বিশেষে। যেমন, শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া থাকলে পরিশোধ না করা হলেও তা ব্যয় হিসেবে দেখানো হয়।নগদ অর্থ পরিশোধের পরই ব্যয় লিপিবদ্ধ করা হয়। যেমন, বকেয়া মজুরি যখন নগদ পরিশোধ করা হয়, তখনই তা ব্যয় হিসেবে দেখানো হয়।
GAAP/IFRS সঙ্গতি (GAAP/IFRS Compliance)এটি GAAP এবং IFRS এর সাথে সম্পূর্ণরূপে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বেশিরভাগ দেশের কোম্পানি আইনের জন্য বাধ্যতামূলক।এটি GAAP বা IFRS এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আর্থিক বিবরণী (Financial Statements)একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত লাভজনকতা, আর্থিক অবস্থা (Assets, Liabilities, Equity) এবং নগদ প্রবাহের একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল চিত্র তুলে ধরে।আর্থিক অবস্থা ও কার্যকারিতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেয় না, কারণ এটি বকেয়া (Accruals) ও অগ্রিম (Prepayments) লেনদেন অন্তর্ভুক্ত করে না।
উপযুক্ততা (Suitability)বড় ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যারা ক্রেডিটে লেনদেন করে এবং যাদের জন্য নির্ভুল আর্থিক প্রতিবেদনের প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য অধিক উপযোগী।ছোট ব্যবসা, একক মালিকানা প্রতিষ্ঠান বা পেশাজীবী যেমন ডাক্তার, আইনজীবী যাদের নগদ লেনদেন বেশি এবং আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির জটিলতা এড়াতে চায়, তাদের জন্য উপযোগী।
জটিলতা (Complexity)তুলনামূলকভাবে অধিক জটিল, কারণ এর জন্য বকেয়া ও অগ্রিম সমন্বয় দাখিলা (Adjusting Entries) প্রয়োজন হয়।তুলনামূলকভাবে সহজ এবং এর জন্য কম হিসাবরক্ষণ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়।

সংক্ষেপে, বকেয়া ভিত্তিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য অধিক কার্যকর, যেখানে নগদভিত্তিক পদ্ধতি কেবল তাৎক্ষণিক নগদ প্রবাহের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

অবচয় বা Depreciation হলো স্থায়ী সম্পদের ব্যবহার জনিত ক্ষয়ক্ষতি, অপ্রচলন বা সময় অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে এর মূল্য হ্রাসের একটি পদ্ধতিগত বন্টন। অবচয়ের উদ্দেশ্য হলো সম্পদের অর্জিত ব্যয়কে এর আয়ুষ্কালের মধ্যে প্রতি হিসাবকালে যুক্তিসঙ্গত ও সুবিন্যস্তভাবে বন্টন করে সঠিক লাভ-ক্ষতি নির্ণয় এবং আর্থিক অবস্থার বিবরণী উপস্থাপন করা। বিভিন্ন অবচয় পদ্ধতির যৌক্তিকতা নিচে আলোচনা করা হলো:


বিভিন্ন অবচয় পদ্ধতির যৌক্তিকতা মূলত সম্পদের প্রকৃতি, ব্যবহারের ধরন, উপযোগিতা এবং হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক নীতিসমূহের (যেমন – মিলকরণ নীতি) উপর নির্ভর করে। প্রধান অবচয় পদ্ধতিগুলোর যৌক্তিকতা নিচে দেওয়া হলো:

        
  • সরলরৈখিক পদ্ধতি (Straight-Line Method):         

    যৌক্তিকতা: এই পদ্ধতিটি অনুমান করে যে, একটি স্থায়ী সম্পদ তার কার্যকর আয়ুষ্কাল জুড়ে প্রতি বছর সমান পরিমাণ উপযোগিতা বা সেবা প্রদান করে। যেসব সম্পদের উপযোগিতা সময়ের সাথে সাথে প্রায় স্থির থাকে (যেমন – ভবন, আসবাবপত্র), সেগুলোর ক্ষেত্রে এটি যৌক্তিক। এর সরলতা এবং সহজে গণনাযোগ্যতাও এর একটি প্রধান যৌক্তিক কারণ। এটি মিলকরণ নীতি (Matching Principle) অনুসরণ করে যখন সম্পদের ব্যবহার বা কার্যকারিতা সময়ের সাথে সমানুপাতিক হয়।

        
  •     
  • ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি (Diminishing Balance Method):         

    যৌক্তিকতা: এই পদ্ধতিটি অনুমান করে যে, একটি সম্পদ তার প্রাথমিক বছরগুলোতে বেশি কার্যকর থাকে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে এর কার্যকারিতা হ্রাস পায়। তাই, প্রথম দিকে বেশি অবচয় ধার্য করা হয় এবং পরে তা ক্রমশ কমে আসে। এটি মিলকরণ নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ সাধারণত, একটি নতুন সম্পদের প্রাথমিক বছরগুলোতে উৎপাদনশীলতা বেশি থাকে এবং মেরামত খরচ কম হয়, আর পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদনশীলতা কমে এবং মেরামত খরচ বাড়ে। ফলে, অবচয় এবং মেরামত খরচ মিলে প্রতি বছর মোট ব্যয় মোটামুটি সমান থাকে। যেসব যন্ত্রপাতি দ্রুত অপ্রচলিত হয়ে পড়ে বা তাদের প্রাথমিক বছরগুলোতে বেশি ব্যবহার হয়, সেগুলোর জন্য এটি উপযুক্ত।

        
  •     
  • উৎপাদন একক পদ্ধতি (Production Unit Method):         

    যৌক্তিকতা: এই পদ্ধতিটি সম্পদের ব্যবহারের পরিমাণ বা উৎপাদনের এককের উপর ভিত্তি করে অবচয় নির্ধারণ করে। এর মূল যৌক্তিকতা হলো, যেসব সম্পদের মূল্য হ্রাস সময়ের চেয়ে তার উৎপাদন ক্ষমতা বা ব্যবহারের পরিমাণের উপর বেশি নির্ভরশীল (যেমন – যন্ত্রপাতি, তেল ও গ্যাস কূপ), সেগুলোর জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত। এখানে অবচয় সরাসরি সম্পদের ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত, যা মিলকরণ নীতিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। যখন সম্পদ ব্যবহৃত হয়, তখন অবচয় ধার্য হয়; যখন ব্যবহৃত হয় না, তখন অবচয় হয় না।

        
  •     
  • কার্যঘণ্টা পদ্ধতি (Working Hours Method):         

    যৌক্তিকতা: উৎপাদন একক পদ্ধতির মতোই, এই পদ্ধতিটি সম্পদের কার্যঘণ্টার উপর ভিত্তি করে অবচয় নির্ধারণ করে। যেসব সম্পদের জীবনকাল কার্যঘণ্টা দ্বারা পরিমাপ করা হয় (যেমন – নির্মাণ যন্ত্রপাতি, কারখানা মেশিন), সেগুলোর জন্য এটি যৌক্তিক। এটিও সম্পদের প্রকৃত ব্যবহারের সাথে অবচয়কে সংযুক্ত করে মিলকরণ নীতি অনুসরণ করে।

        
  •     
  • বার্ষিক বৃত্তি পদ্ধতি (Annuity Method):         

    যৌক্তিকতা: এই পদ্ধতিটি অবচয়ের পাশাপাশি সম্পদে বিনিয়োগকৃত মূলধনের উপর একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ বিবেচনা করে। এর যৌক্তিকতা হলো, এটি সম্পদের মূলধনের সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost of Capital) অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ধরে নেয় যে, যদি এই অর্থ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ না করে অন্য কোথাও বিনিয়োগ করা হতো, তবে এটি একটি নির্দিষ্ট হারে আয় অর্জন করতে পারতো। ফলে, প্রতি বছর অবচয় এবং সুদের সমষ্টি সমান হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী লিজ বা নির্দিষ্ট মেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়।

        

উপসংহারে বলা যায়, প্রতিটি অবচয় পদ্ধতির নিজস্ব যৌক্তিকতা ও প্রয়োগ ক্ষেত্র রয়েছে। প্রতিষ্ঠানকে তার সম্পদের প্রকৃতি, ব্যবহারের ধরণ এবং হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতি নির্বাচন করতে হয়, যাতে আর্থিক বিবরণী সম্পদের প্রকৃত অবস্থা ও লাভজনকতার সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

চিরস্থায়ী মজুদ পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনের সাথে সাথে মজুদের হিসাব রাখা হয়, পক্ষান্তরে প্রান্তিক মজুদ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর মজুদের হিসাব করা হয়।


চিরস্থায়ী মজুদ পদ্ধতি (Perpetual Inventory System) এবং প্রান্তিক মজুদ পদ্ধতির (Periodic Inventory System) মধ্যকার প্রধান বৈসাদৃশ্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                    
বৈশিষ্ট্যচিরস্থায়ী মজুদ পদ্ধতি (Perpetual Inventory System)প্রান্তিক মজুদ পদ্ধতি (Periodic Inventory System)
হিসাব সংরক্ষণের সময়প্রতিটি ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেনের সাথে সাথে মজুদের হিসাব হালনাগাদ করা হয়।একটি নির্দিষ্ট হিসাবকাল (যেমন: মাস, ত্রৈমাসিক, বছর) শেষে মজুদের হিসাব হালনাগাদ করা হয়।
মজুদের ধারাবাহিকতাযেকোনো সময় প্রকৃত মজুদ জানা যায় এবং মজুদের পরিমাণ ও মূল্য সবসময় হালনাগাদ থাকে।প্রকৃত মজুদ জানার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় এবং শারীরিক গণনা প্রয়োজন হয়।
বিক্রিত পণ্যের ব্যয় (Cost of Goods Sold - COGS)প্রতিটি বিক্রয়ের সাথে সাথে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় হিসাবভুক্ত হয়।হিসাবকালের শেষে প্রারম্ভিক মজুদ, ক্রয় এবং সমাপনী মজুদের সাহায্যে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।
মজুদ ঘাটতি বা অতিরিক্তসিস্টেম্যাটিক্যালি মজুদ ঘাটতি বা অতিরিক্ত শনাক্ত করা সহজ।মজুদ ঘাটতি বা অতিরিক্ত সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময় পর শারীরিক গণনার মাধ্যমে ধরা পড়ে।
শারীরিক গণনাসিস্টেমের সাথে শারীরিক মজুদের মিল যাচাইয়ের জন্য একটি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শারীরিক গণনা করা হয়।সমাপনী মজুদ এবং বিক্রিত পণ্যের ব্যয় নির্ধারণের জন্য শারীরিক গণনা অপরিহার্য।
উপযুক্ততামূল্যবান, উচ্চ-মূল্যের বা কম ভলিউমের পণ্য (যেমন: গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স) এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার জন্য উপযোগী।কম-মূল্যের, দ্রুত পরিবর্তনশীল বা উচ্চ ভলিউমের পণ্য (যেমন: মুদি সামগ্রী) এবং ছোট ব্যবসার জন্য উপযোগী।
হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়াতুলনামূলকভাবে জটিল এবং আধুনিক অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার বা কম্পিউটারাইজড সিস্টেমের প্রয়োজন হয়।তুলনামূলকভাবে সহজ এবং ম্যানুয়ালিও পরিচালনা করা যায়।
ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তরিয়েল-টাইম (real-time) তথ্যের ভিত্তিতে মজুদের সর্বোত্তম স্তর, পুনরায় অর্ডার পয়েন্ট (reorder point) এবং সাপ্লাই চেইন (supply chain) ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক।নির্দিষ্ট সময় পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনার জন্য কম কার্যকর।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
53
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews