যে সকল উপাদান ছাড়া উদ্ভিদ বাঁচতে পারে না বা জীবনচক্র সম্পন্ন হয় না তাদেরকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলে।
নিচে জৈব ও রাসায়নিক সারের পার্থক্য দেওয়া হলো-
| জৈব সার | জৈব সার |
| i. যেসব সার জীবের দেহ থেকে অর্থাৎ উদ্ভিদ বা প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রস্তুত করা যায় সেগুলোকে জৈব সার বলে। যেমন: সবুজ সার, কম্পোস্ট সার ইত্যাদি। | i. যেসব সার কলকারখানায় প্রস্তুত করা হয় সেগুলোকে রাসায়নিক সার বলে। যেমন: ইউরিয়া, টিএসপি, জিপসাম ইত্যাদি। |
| ii. মাটির জৈবিক পরিবেশ উন্নত হয়। | ii. মাটির জৈবিক পরিবেশ নষ্ট হয়। |
বাসেতের জমিতে ধানের বয়স বাড়ার সাথে সাথে গাছের সবুজ রং বিবর্ণ হয়ে যেতে থাকে।
বাসেতের গাছে আয়রন বা লৌহের অভাব দেখা দিয়েছিল। আয়রনের অভাব দেখা দিলে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন: প্রথমে পাতার দুই শিরার মাঝখানে বিবর্ণ হয়ে সমগ্র পাতায় তা ছড়িয়ে পড়ে। গাছের আকৃতি খাটো হয়। সয়াবিন, কমলালেবু ও সবজি জাতীয় গাছের পাতায় পচন ধরে। ধানের বীজতলার চারার নতুন পাতা হলুদ হয়ে যায়।
অতএব, আয়রনের অভাব হলে উল্লিখিত লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।
বাসেত যখন দেখলেন তার ধান গাছের পাতার রং বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে তখন তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিলেন।
কৃষি কর্মকর্তা তাকে বললেন, জমিতে আয়রন বা লৌহের অভাব দেখা দিয়েছে। এজন্য জমিতে আয়রনযুক্ত সার প্রয়োগ করতে হবে। আয়রন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি উদ্ভিদের সবুজ কণা (ক্লোরোফিল) গঠন, বীজ উৎপাদনে সহায়তা, ফসলের গুণগতমান রক্ষা, শিকড় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। অপরদিকে এর অভাব দেখা দিলে কচি পাতার সবুজ রং বিবর্ণ হয়, গাছ খাটো আকৃতির হয়, ধানের বীজতলার চারার নতুন পাতা হলুদ হয় ইত্যাদি। অতএব দেখা যাচ্ছে, আয়রন বা লৌহ গাছের সার্বিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তাই বাসেতের সমস্যা সমাধানে আয়রন সমৃদ্ধ সার প্রয়োগ করতে হবে।
আমরা পূর্ববর্তী শ্রেণিতে জানতে পেরেছি মাটি হলো উদ্ভিদের অবলম্বন এবং সার হলো তার খাবার। আমরা কি জানি এ সারে কী কী উপাদান থাকে? সার হলো উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানগুলোর আধার। আর প্রাণীর ক্ষেত্রে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ হলো পুষ্টি উপাদানের আধার। অন্যদিকে মাছ ও পশু-পাখির জন্য খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে সম্পূরক খাদ্যের বিকল্প নেই। আবার জমিতে সার হিসেবে জৈব সারের কার্যকারিতা ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জৈব সার তৈরি ও তার ব্যবহার জানা অত্যাবশ্যক।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- প্রাণী ও উদ্ভিদের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- মাছ ও পশু-পাখির সম্পূরক খাদ্য প্রস্তুত পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
- সহজলভ্য উপকরণ (যেমন-বাসাবাড়ির বর্জ্য) ব্যবহার করে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি ও এর ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব;
- বালাইনাশক (জৈব ও অরাসায়নিক) ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allউদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলতে বোঝায় যে উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না এবং যথাযথভাবে শস্য উৎপাদন করতে পারে না (যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদি)।
পরিখা পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরির ক্ষেত্রে একটি পরিখা ফাঁকা রাখতে হয়, কারণ নিকটবর্তী পরিখার কম্পোস্ট পার্শ্ববর্তী পরিখাতে স্থানান্তর করে উলটপালট করা হয়। ফলে উপাদানগুলো দ্রুত পচে যায় ও অল্প সময়ে কম্পোস্ট তৈরি হয়ে যায়।
কৃষক হাফিজের জমিতে ধানের চারায় আশানুরূপ হারে কুশি গজায়নি এবং জমিতে পোকামাকড়ও দেখা গিয়েছিল।
ধানের চারায় কুশি কম গজানোর কারণ হলো নাইট্রোজেন নামক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি। কৃষক হাফিজ জৈব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে এ সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। সবুজ সার, কম্পোস্ট সার ইত্যাদি মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে, যেগুলো কৃষক হাফিজ তার জমিতে ব্যবহার করতে পারতেন। ধানের পোকা দূর করার জন্য তিনি তামাক পাতার নির্যাস প্রয়োগ করতে পারতেন। জমিতে প্রেইং ম্যানটিড এর সংখ্যা বাড়ালে তা ক্ষতিকারক পোকা দমনে সহায়ক হতো। এছাড়া জমিতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দিলেও সুফল পাওয়া যেত। অর্থাৎ, জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে হাফিজ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারতেন।
হাফিজ দ্বিতীয় দফায় ফসলের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ ও রোগবালাই দমনে জৈব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন।
হাফিজ সার হিসেবে গোবর সার, কম্পোস্ট সার, সবুজ সার, খৈল - ইত্যাদি ব্যবহার করেন। তিনি জানেন এতে গাছের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদানই আছে। এছাড়াও এসব সার মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে মাটিস্থ অণুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি পায়। জৈব পদার্থ মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা, মাটির উর্বরতা, ফসলের ফলন, উৎপাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে। জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি কীটপতঙ্গ দমনের জন্য আলোক ফাঁদ এবং জমির বিভিন্ন জায়গায় ডালপালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করেন। জমিকে সবসময় আগাছামুক্ত রাখেন, যা পোকার আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। ফলে কীটপতঙ্গ দমন ব্যবস্থা হয় পরিবেশের কোনো ক্ষতি ছাড়াই।
অর্থাৎ, হাফিজের দ্বিতীয় দফায় গৃহীত জৈব ব্যবস্থাপনা শুধু পুষ্টি ঘাটতি - পূরণই নয় বরং রোগবালাই দমনেও সহায়ক ভূমিকা রেখেছে উক্তিটি যথার্থ।
পরিবেশ বাঁচাতে জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়।
রাসায়নিক বালাইনাশক মাত্রই বিষ। এ জাতীয় বালাইনাশক প্রয়োগের ফলে তা উদ্ভিদের জীবনচক্রে ঢুকে ফলনকেও বিষাক্ত করে দিচ্ছে যা খেয়ে মানুষ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবেশেরও চরম ক্ষতি হচ্ছে। তাই এ জাতীয় বালাইনাশককে নীরব ঘাতক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!